Saturday, 24 February 2024

অদ্যই শেষ দিবস 2023

 আতঙ্ক পরীক্ষার পর আমাদের ছানাদের দেখে কে ?? বাকি দুখান  পরীক্ষা লাটে তুলতে লেগে পড়ল।  সে সব ঠ্যাকাতে আমাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হল । অতঃপর  অদ্যই পরীক্ষার সমাপ্তি দিবস। গতকাল বেশ কজনা কুম্ভকর্ণ সদৃশ ঘুমের দেশে ... বাবা-মা রাবণসদৃশ হতেই ঘুম প্যাইলে গেল । আর কজনা একদম খেল খেল মে ... মায়েরা ছবি তুলে মনের দুঃখ share করে ফেলল গ্রুপের দরবারে। আমার কন্যাকে কলেজ থেকে ভিডিও ফোন লাগালাম ... সকালে বেরনোর সময় সে গতকাল ম্রিয়মাণ ছিল । ফোনে দেখি .... বই বাগিয়ে উলুঝুলু কন্যা হাজির । মনটা নেচে উঠল। যাক্ মেয়ে আমার সত্যিই পড়ছে । কিন্তুক ওখান নাটকের ট্রেলার ... বাড়ি ফিরে পড়া ধরতেই বুকের ওপর দিয়ে ট্রলার গেল .... ছোটবেলার কবিতা মনে পড়ে গেল ... " ইতিহাসে পাতিহাস

                               ভূগোলেতে গোল 

                               বিজ্ঞানে অজ্ঞান 

                               হয়েছি পাগল " 

ভূগোল , ইতিহাস , সমাজবিজ্ঞান আর জেনারেল নলেজ এর পরীক্ষার হাল গড়াগড়ি রকম হাস্যমুখর। সন্ধ্যার সময় ফোনের মণিটরে একের পর এক উদ্ভাসিত খবরে এক সময় আমরা ছানাপোনাদের দ্বারা ভয়ানক রকম আনন্দ পেলাম আর সাথে সাথে ততোধিক চিন্তিতও হলাম । 

ভারতের প্রেসিডেন্ট এর নাম জানানোর পর আমার কন্যা কলকাতার প্রেসিডেন্ট কিনি ? সেই knowledge বাড়ানোর  চেষ্টা করলেন । কজন মাতৃদেবী ছানাপোনাদের পৌরাণিক জ্ঞান বাড়াতে শুরু করতেই এক একজন এক এক রকম উওর হাজির করে ফেলল... সেখানে জানা গেল ... দ্রৌপদী কৌরব ও পাণ্ডব সকলের মাতাশ্রী।  ঘরের মাতাদের অবস্থান খুব খারাপ তখন । লকডাউনে আমি কন্যাসহ বি.আর.চোপরার মহাভারত দেখা শুরু করেছিলাম ...অনেক আশার সমাধি ঘটল যখন পুপে কইল ... কে দ্রোপদী?  এদিকে আরেক জননীর কন্যা পাঞ্চালীর পাঁচ স্বামী শুনে ভয়ানক গম্ভীর হয়ে মা কে বলেই ফেলল ... " এ কী কাণ্ড?" মা চুপ 🤫

রামায়ণের সুর্পনাখা যখন শোনা গেল কৌরবের বোন , এক পণ্ডিত মায়ের সাথে হেসে গড়িয়ে বললে ... "মা 

ও কিছুই জানে না , সুর্পনাখা তো কর্ণের বোন ।" এই মাম্মিও বাকরহিত । আমি শুধুই সাবধান করলাম ... কৌরবের বোনের নামের English spelling এদিক ওদিক হলে কেলেঙ্কারি হবে ... ও বাদ দাও । মায়েরা পুরান থেকে অন্যদিকে ঘুরলেন । বই এর GK ঘেটে একজনের মনের কোণে উঁকি দিল এক ভাবনা ... জেলে ভাল করে দাঁত মাজা হয় , তাই তো ম্যাণ্ডেলার বিকশিত  দন্ত চমকিত !!! 

আমার কন্যার ঝিমন্ত ভাব কাটল দুপুরে তার বান্ধবীর অভয়বাণীতে... "চিন্তার কিছু নেই উপাসনা, তুই ভাল করে পড় ,আমি জানি তুই সব পারবি(?) । পরশু আমাদের বাড়ি আসবি , খুব মজা করব " ।

ইতিহাসে কন্যার মাধ্যমে জানা গেল মারাঠা সৈন্যরা ঘোড়ায় চড়ে গাছে , পাহাড়ে উঠে পড়ছে ... আমি হাসতে হাসতে বসেই পড়লাম।  কি করব সত্যিই বুঝতে পারছি না । ম্যাপের মারকাটারি পয়েন্টিং এ  মহাসাগর ভেসে ভেসে এদিক ওদিক করতে দেখলাম। ম্যাপ করানোর সময় তিনি অসুস্থতার কারণে যাননি স্কুলে , তাই গতকালই তার কামাল শুরু হয়েছে। ভুগোলের চ্যাপ্টার খানির সাথে কি করে জানি কালই পরিচয় হলো বাড়ির সবার🤭। সে খানও ভয়ানক জায়গায় দাঁড়িয়ে নাকি শুয়ে ? কারণ বিন্ধ পর্বত আর সাতপুরার সন্ধি করে সিন্ধ পর্বতের নাম আজ সকালেই শুনেছি ।সকালে কানে এল মরুভূমির একখানি গাছের উদাহরণে উট হাজিরা দিয়েছে ... কন্যার মাতা চোখের সামনে শুধুই লালমোহনবাবুকে দেখছে !!!

আর ভাবতে পারছি না চাইছিও না .... যা গেছে তা যাক .... সবাই সব রকম আপদ বিপদ কাটিয়ে , সামলে পরীক্ষা গুলো তো দিয়ে দেখিয়ে দিলো ... যে যতই আমাদের under estimate করো আমরা পারি আমাদের মতন করে । জানি সকলে সমান মেধার নয় , সেটা সম্ভবও নয় ... ওরা ওদের মতন খুব ভাল চেষ্টা করছে । করেই চলেছে ... ভবিষ্যতেও করবে ।

#exam4

Wednesday, 14 February 2024

ভালবাসা দিবস

 আজকে নাকি ভালবাসা দিবস !!! মান্না দে এর একটা গান আছে .. "শুধু একদিন ভালোবাসা , মৃত্যু যে তারপর ,তাই যদি হয় .. আমি তাই চাই ... চাই না বাঁচতে আমি প্রেমহীন হাজার বছর" .... একদমই তাই । ভালোবাসা ছাড়া বাঁচা কি যায় ? যায় না। আমরা আজকের দিনটা কে নিছক প্রেমিক প্রেমিকা দিবস এ পরিণত করেছি । কিন্তু আসলে কি ব্যাপার টা এতো সীমিত ?  

জীবনে প্রথম ভালবাসার বোধ নিজের অজান্তেই মায়ের হাত ধরে প্রকাশ পায়। ভাষা তখনো অর্থ হীন শব্দ। তার পর ধীরে ধীরে ভালোবাসার পরিধি বাড়তে থাকে। আত্মীয় স্বজন , প্রতিবেশী , শিক্ষক, শিক্ষিকা,বন্ধু , বিশেষ বন্ধু , সন্তান ... ।

প্রাত্যহিকতায় ভালোবাসা অন্তসলিলা থাকে ... তার প্রকাশের নির্ধারিত দিন না হয় থাকলো একটা । যেদিন একটু ভালোবাসা র কথা ভাববো। আর অন্যদিন গুলো ভরা থাক মুখের নয়, কাজের ভালোবাসার প্রকাশিত রূপে । যেখানে কারোর নিজস্ব পছন্দ অপছন্দ ভালোবাসা য় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না।

ভালোবাসা মনের অনুভূতি ... কখনো প্রকাশিত রূপ ও আলো ছড়ায় । কখনো তোমাকে পাওয়া ই ভালোবাসা ,কখনো তোমার সবটুকু নিয়েই ... দোষ- গুণ কে গ্রহণ করাই ভালোবাসা, কখনো হারিয়ে নতুন করে বুঝতে পারা ... মা তোমাকে কতো ভালোবাসি ... নিত্য দিনের রোজনামচা য় তো অতো বুঝি নি । বিয়ের পর স্হান বদলে নতুন করে জেনেছি তোমায় কতো ভালোবাসি... বুঝে ও বুঝিনি তার আগে। এখন জানি , বুঝি । আবার ভালোবাসা একে অপরের নির্ভরতায় খুঁজে পেয়েছি । বন্ধু দের মধ্যে নিজের হারিয়ে যাওয়া সময়ে পৌঁছানো ও আরেক ভালোবাসা । সবের মধ্যে ই ভালোবাসা ... সুকুমার রায়ের ভাষায় ... এ দুনিয়ায় সকল ভালো , আসল ভালো , নকল ভালো .... এতো ভালোর উপলব্ধির জন্যই মন্দের ও দরকার।

@ শুচিস্মিতা ভদ্র

Sunday, 4 February 2024

হারানো গন্ধ

 নস্টালজিক 


আমাদের অনেকেরই কলেজ জীবন শুরু হয়েছিল একটু আগে । কারণ তখন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা হোতো স্কুলে ও কলেজে । এমনকি আমার কর্মজীবনের শুরুতে আমি আমাদের কলেজে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়িয়েই পথ চলা শুরু করেছিলাম । তো সে সময়ের এক বিখ্যাত ব্যাণ্ডের বিখ্যাত গানের লাইন ছিল " ভালবাসা মানে আর্চিস গ্যালারি " । তো সেই ভালবাসার গ্যালারি টি ছিল আমাদের কলেজ বাসন্তী দেবীর ঠিক উল্টো ফুটপাতে। আমি ওখান থেকেই বসেছিলাম উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ।  দু বছরের আমার কলেজ ছিল বাসন্তী দেবী । তবে আর্চিস গ্যালারি তে অল্প স্বল্প ঘুরপাক খেলেও কেনা কাটার পাট মুক্ত ছিলাম কারণ বাস ভাড়া ছাড়া পকেট গড়ের মাঠ । পকেট মানি কারে কয় জানি তখন , কিন্তু সে সব নদীর ওপারের গল্প ছিল । 

তো সেই গ্যালারিও আজ কালের গর্ভে । ওই গ্যালারির পাশেই ছিল চিনে ও মোগলাই খাবারের দোকান "দা নিউ মাই ক্লাব"। সত্যি বলতে কি তখনও ওবধি চিনে কিনে খাওয়ার সুযোগ মেলেনি । চিনে মানেই স্কুল ও কলেজের টিফিন , মায়ের তৈরি চাউমিন  । কাজেই মাই ক্লাব আপন ছন্দে থাকলেও আমার পরিচয়ের আওতায় ছিল না । 

তবে পরিচয় হল একদিন। করালেন কিনি ? আর কে ? তিনিই ...  বিয়ের পর । তিনি তখন হোস্টেল নিবাসী । নব পরিণীতা র সাথে দেখা করার জন্য বরাদ্দ ছিল দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট আর তখনই পরিচয় হল এই চৈনিক কাম মোঘলাই রেস্টুরেন্টের সাথে । 

গড়িয়াহাটের হট্টমেলার মাঝে এক টুকরো নিভৃত কোণ । ভিতরের আলো আঁধারির মধ্যেই যেন এক অন্য জগতের হাতছানি। সাধ ও সাধ্যের দুরন্ত মেলবন্ধন।  খাবার সুস্বাদু সাথে সাধ্যাতীত নয় । 

এরপর অনেক অনেকবার ই এই ক্লাবে ছিল আমাদের অবাধ যাতায়াত।  পরে যোগ দিল পুপেও । 

কখনও মামাতো দাদার সাথে , কখনও আমার বান্ধবী অর্চিতার সাথে , কখনও হঠাৎই অভিমান ভাঙাতে ( খেতে যারা ভালবাসে , তাদের মান-অভিমান আর কিসে ভাঙে এত সহজে ??) , কখনও পাড়াতুত মিঠুদির সাথে , কখনও পূজোর কেনাকাটার মাঝে  .... শেষ নেই ... । 

মালিক সহ কর্মীগণ ও পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন ... বেশ কিছু সময়ের ব্যবধানে গেলে তারা বলতেন ... " অনেকদিন বাদে এলেন । ভাল আছেন তো ? " আন্তরিকতায় ঘাটতি ছিল না । একবার ওখানেই দেখা হয়েছিল, আমাদের স্কুলের জয়শ্রী দি র সাথে । চিনতে পারেন নি , ক্লাস সিক্স আর এক যুগ পেরনো ছাত্রীকে চেনা মুশকিল । বিশেষ করে  বিশেষত্বহীন ছাত্রীকে। 🤫

এক প্রাক্তন কলিগের বিয়েতে গিয়ে এই রেস্টুরেন্টের মালিককে দেখে , পরে জেনেছিলাম যে ওর বিয়ের ক্যাটারিং করেছিল ওরাই।

   আমার অত্যন্ত প্রিয় সেই চিনে ও মোঘলাই খাবারের রেস্তোরা আজ বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু মাস । 

এ বছরের পূজোর কেনার পাট মিটিয়ে My club এর সামনে গিয়ে দেখলাম ও জানলাম যে তা বন্ধ হয়ে গেছে । এখন ওই বাড়িটিও ভাঙা হচ্ছে ... জানি না ভবিষ্যতে নতুন রূপে সে ফিরবে নাকি ফিরবে না !!! তবে যা হারায় তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না ... সময়ের কাটা সামনে চলে , পিছনে না 😟😟

নস্টালজিক দেবী বন্দনা

 আমাদের বয়ঃসন্ধি , যখন আমরা ক্লাস নাইন।  কেমন ফাইন ছিল মনে করে দেখো .... আহা । তখনই তো প্রথম মন কেমনের জন্মদিন , চুপ করে থাকা কঠিন !!! তোমার কাছে খরস্রোতা গতিহীন 🎶🎶🎶🎶 

আমাদের সময়ে সব কিছুই ছিল নিক্তিতে মাপা । আর তা একটু বেশিও না , বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কমের দিকেই। সে সময়ের একমাত্র ছুটি আর মুক্তির দেখা মিলত ভগবতী ভারতী দেবীর আরাধনা উপলক্ষে । 

যখন হাই স্কুলের শুরু হল ... সব চাতকের চোখ ক্লাস নাইন,  টেন নয় কেন ? আরে বাবা , টেন এর সামনে তো বাঁধা শমন । জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার নাকি যুদ্ধের দামামা ধ্বনি ? বাকি সব ফিকে , টিকে থাকার প্রথম পদক্ষেপ বলে কথা !!! কাজেই নাইন খুবই ফাইন ব্যাপার।  

বড় বড় ভাব । স্কুলের পূজোর দায়িত্ব,  সাথে ইলেভেন এর সিনিয়র দিদিরা থাকলেও,  তাদের অনেকেই আবার স্কুলের শিকড় গজানো ছাত্রী নয় , নতুন আগমন । 

আমাদের সময় ভ্যালেন্টাইনস ডে সহ একগাদা আদেখলা ( আমার একান্ত নিজস্ব মত ) দিনের নাম , গন্ধ ছিল না দিকে দিকে , ভাগ্যিস !!! তাই জয় জয় দেবী আরাধনা ছিল পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা । উফ !! কি অপেক্ষা , কি প্রতীক্ষা সেই বিশেষ দিনেটার জন্য।  তারপর ... চারিদিকে সকাল থেকে স্তোত্রপাঠ , পূজো , পুষ্পাঞ্জলী , প্রসাদ বিতরণ , ভোগের লাইন , আর ?? বলতে হবে ??? হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবীর ভিড়ে সত্যিই বসন্ত জাগ্রত দ্বারে .... । 

কোথাও পড়েছিলাম ওই দিনের সকালের সুন্দর আর সুন্দরীদের পরে সারা বছর আর দেখা মেলে না ।কি আজব ব্যাপার।  কিন্তু সত্যিই তাই ... সরস্বতী পূজোর পরে খোঁজ করে দেখো ? পাবে না , ওরা শুধুই ক্ষণিকের অতিথি ।

আমাদের সময় বেশির ভাগ জনতারই .... দূর হতে তোমারে দেখেছি , আর মুগ্ধ এ চোখে চেয়ে থেকেছি 😍🤔🤫 গল্পের নায়ক-নায়িকা । অল্প কজন সাহসিনী ওই বাজারে চোখের সামনে দিয়ে সলাজ হাসি হেসে , এ গলি ও গলি গলে নিরুদ্দেশ হতো কিছুক্ষণের জন্য।  আমরা মুগ্ধতার রেশ কাটিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম 😃😃😃😃। তাতেও দিনের শেষে মন ভার হতো দিনটা ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে , না হলে মন বোঝাই তো সেদিন যাপনের খুঁটিনাটি তথ্যে । 

আবার অপেক্ষার পালা শুরু হতো পরেরদিন থেকে ।