Thursday, 14 May 2026

টেনড্যানোপ্যথি

 

আমার কর্তা মশাই এর অতি পছন্দের গানের তালিকা র অন্যতম আকর্ষণ " চরণ ধরিতে দিও গো আমারে...." আমার গানের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে ... খোলতাই গলায় গানের মাধ্যমে চরণ ধরার আবেদন জানাচ্ছি। আসল গল্পে একটু বৈপরীত্য আছে .... পতিদেব আমার পথ প্রদর্শক, উৎসাহ দানকারী, প্রিয় বন্ধু বিশেষ, কেন‌ই বা তার চরণ ধরব ? পতি বলে ???
আমি এখনকার যুগের আধুনিকা নাই বা হলাম, আধুনিক মনস্ক রবীন্দ্রনাথ তাঁর চিত্রাঙ্গদা র মুখে সেই কতো কাল আগেই বসিয়েছিলেন সংলাপ গানে গানে ... যার মূল বক্তব্য ছিল আমি নারী , আমাকে মাথায় করেও রেখো না , পায়ের তলেও রেখো না , পাশে রেখো আনন্দে , সুখে , দুঃখে ... একদমই এই ভাবধারা র অধিকারী আমি।
আমার কর্তা মশাই কিন্তু প্রাচীন পন্থায় বিশ্বাসী নন, তবে চরণ ধরা গানের হাত ধরেই রেখেছেন। কি জানি কেন ???
কিন্তু এবার দুই পায়ের এক অপরিচিত যাতনা হাতে হ্যারিকেনের বদলে চরণ ধরিয়ে দিয়েছে। তাও নিজের । "চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে " গান খান যে জীবনে এমন বাস্তবতায় ভরে উঠবে !!! গাইবার কালে কখনো কি অতীতে ভেবেছি !!!! নাহ্ মোটেও না।
কখনো বাম পন্থী, কখনো দক্ষিণ পন্থী পদ যাতনা য় হাঁটি হাঁটি বন্ধ হ‌ওয়ার জোগাড় !!! সকালে হন্টন আপাতত বিশ বাঁও জলে ... চিকিৎসক দূরভাসে পদ দুর্যোগ এর ধরণ শুনে যা সন্দেহ করলেন , সামনাসামনি তাতে কাল শিলমোহর পড়ল। "ব্যাথা নিয়ে হাঁটবেন না বৌদি " বলার ঠিক খানিক পর আবার বললেন ... হাঁটা হাঁটি আপাতত বন্ধ থাক, ব্যাথা যাক ... গরম জলে ও ঠাণ্ডা জলে নিজের চরণ সেবা র নির্দেশ দানের পরেই , খানিক গম্ভীর হয়ে ক‌ইলেন ... মোটা মুটি হ‌ওয়া চলবে না ( ফেটা ফেটি/ fat ) । আচ্ছা বল দেখি চিকিৎসকরা এমন বৈপরীত্য মূলক কথা বলেন কেন ? হাঁটাতে বাধা পড়লে মোটা হ‌ওয়া তো সাধা হয়ে যাবে .... তবে !!!! এমন শাঁখের করাত বাপু ভালো নয়কো জীবন জুড়ে, শরীর জুড়ে !!! তবে ব্যাপার খানের একখান জমজমাট নাম আছে , সে খান বেশ পছন্দ হয়েছে বটে । বাত হয়েছে শুনলে কেমন একটা দূর ছাই টাইপ লাগে। আঁতেও বিস্তারিত ঘা লাগে।
টেনডেনোপ্যাথী নামে আমার apathy নেই বলেই মালুম হচ্ছে। খান কতক এক্সারসাইজ আর বিশেষ ধরনের জুতো পরে জুতিয়ে ভাগাতে হবে তাকে ... আমার কলিগ মধুপর্ণা বিজ্ঞের মতন বললে ... " তোমার বাপু যত ফ্যাশনেবল অসুখ বিসুখ"😕🙄যদিও বয়স কালীন শারীরিক কল কব্জা বিকল হলে তাকে পূর্বাবস্থায় নিয়ে যাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই যায় না। সেটা মেনে নিলে কিছু কিছু আরামে, উন্নতি হচ্ছে মনে হবে কিনা বলো !!! আপাতত চরণ ধরে সারাই এ মনোনিবেশ করেছি ... বাকি টা কপালের নাম গোপালের ওপর ।।।।

Saturday, 2 May 2026

গনম লাগার গপ্পো

 ছোটবেলার ছোট্ট ছোট্ট ঘটনার ঘনঘটা হঠাৎই একদিন হয়ে যায় আগেকার মজার ঘটনা । আমার পুপেও তার ব্যতিক্রম নয় । তার নানা রকম কাজ কথার ফিরিস্তি নিয়ে মাঝে মাঝেই আমি হাজির হই তোমাদের কাছে । এখন নাকি সে শান্ত হয়েছে .... স্কুলের ম্যাম গণ বলেন। তবে এটা ঠিক ঘরের বক্তিয়ার এখন বাইরে বক্তৃতা দেয় না ... বড় হচ্ছে বুঝতে পারি ।

তবে মতামতের ঠ্যালায় আগেকার মতন এখনও অন্ধকার তো কখনও সর্ষেক্ষেত দেখি ... এই আর কি 😃
সেদিন পুরাতন ছবি দেখতে গিয়ে একটা ছবি পেলাম ... সাথে স্মৃতির ঝাঁপ গেল খুলে । মা তখন ছিলেন । আমরা দুই পরিবার দার্জিলিঙ গিয়েছিলাম, বেশ কিছু বাঁধার পাহাড় কাটিয়ে । অসুস্থতা , ছুটির সমস্যা ইত্যাদি ছিল অন্তরায়। তখন বেশ গরম । গরমে কটা দিন ওখানে ছিলাম আরামেই। তবে কাঞ্চন দা মেঘের চাদর মুড়ি দিয়ে  , আমাদের দেখা দেন নাই । সে সব যাই হোক ফেরার পথে এক চা বাগানে একটা গোটা দিন ও রাত কাটিয়ে কলকাতা ফেরার কথা ।
পুপে সম্বন্ধে ঘুরতে গিয়ে যথারীতি জিনিয়া আর পার্থ দার মত খানিক হলেও বদলেছিল সেবার 😊।
পুপে দেবী সবার সামনে ভোলাভালা মুখ নিয়ে থাকলেও আসলে যে দুষ্টুমি তে ভরা আর পাকা কথার ঝুড়ি তা আস্তে ধীরে এক সাথে ঘুরতে গিয়ে খাপ খুলে বেরিয়ে পড়েছে তখন । জিনিয়া বলেই ফেলল একদিন ... " তোকে খানিক চিনতে পারলাম এবার " । জিনিয়া কাকিমার সাথে তো তার তখন থেকেই ভারি ভাব ... ছোটকালে এক দুবার আমার বকুনি খেয়ে জিনিয়ার বাড়ি চলে যাবে চলে চটি পায়ে গলিয়েছিল 🤣 এখন তো আবার কাকিমা হলো আর্মি কাকিমা🙄 BTS (Musical band )এর ফ্যান।  গলাগলি ভাব । আর্মি কাকিমার সাথে ফোনাফুনির সময় আবার অন্য ঘরে যেতে হয় ।
সেবার ফেরার দিনের একদিন আগে স্টেশনে গিয়ে আগাম ট্রেনে উঠে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছিলাম, সে গল্প আগেই লিখেছিলাম, তো কথা হল ট্রেনের টিকিট পেতে সেবার কালঘাম ছুটেছিল। আর কোনোমতেই রাতের ট্রেন আর এ সি এর টিকিট পাওয়া যায়নি। এদিকে ফিরতে হবেই সবাই কে ... কাজের হাতছানিতে বেড়ানোর তরতাজা ভাব তখন হালে পানি পাচ্ছে না ... পরেরদিন যথা সময়ে নির্ধারিত ট্রেনে উঠলাম সকলে সকাল সকাল। বেলা ১০টা থেকে তাপের মাপ বেড়ে বেড়ে এক সময় সকলেই পাগলপারা। জানালা বন্ধ করলে গরমে সেদ্ধ আর খুললেই বেগুন পোড়া এফেক্ট। সকলেই মধ্যে মধ্যে সাথের রুমাল জলে ভিজিয়ে মুখ মুছছি আর ছোট্ট এক রত্তি পুপে কিছুক্ষণ ছাড়া ছাড়া বলেই চলেছে ... মা গনম লাগছে !!! আহা রে !!! খুব কষ্ট পেয়েছিল সেবার। জামা খুলে গা মুছিয়েও বেচারি শান্তি পাচ্ছিল না ... তার গণম লাগছিল ভারি । মধ্যে ৩টের সময় মালদহ তে স্টেশন থেকে এক ভয়ানক পাতলা ( ওমন দেখি নি )রুটি তরকারি আনা হল পেট শান্ত করতে ... পার্থ দার মতে এমন রুটি হাত রুটি হতেই পারে না । নির্ঘাত জেরক্স রুটি...একখান কষ্ট করে বানিয়ে বাকি গুলো পাতি জেরক্স করা 😊 যাই হোক খিদে পেলে সব ই চলে । আমরাও চালিয়ে নিয়েছিলাম । সাথে পুপে কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর বলেই চলেছিল ... মা , গণম লাগছে 😔 বাবা গণম লাগছে 😔 !!!! সেই যে গণম লাগল ... তার থেকেই কিনা কে জানে মেজাজ খান permanent গণম হয়ে গেল !!!!! বাপ রে ... তোমরাও সাবধানে বেড়াতে যেও ....

Friday, 1 May 2026

শ্রাবনের ধারা

আমরা বড়ই অদ্ভুত জীব । গরমে বৃষ্টি চাই , বৃষ্টিতে রোদ চাই , রোদে শীত চাই , শীতে আবার বসন্ত চাই 😃😄🙃 চাই এর লিস্টি টা অনন্ত । দর্শনে আমরা অভাব নামক বৈশেষিক সম্মত এক পদার্থ সম্পর্কে পড়েছি । অভাবের শ্রেনীবিভাগে এক রকম  অভাবের কথা পড়েছিলাম .... যার আদি আছে অন্ত নেই । ঠিক যেন আমাদের চাহিদা যার আদি থাকলেও অন্ত নেই।

কাল রাত থেকেই গুরুদেবের একখান গান মনে মনে গুণ গুণ করাই যেতো ... নানান কারণে তা হয়ে ওঠেনি , সে ভিন্ন গল্প!!! গান খান হল .... আজি বরিষণ মুখরিত শ্রাবণ রাতি .... whatsapp এর আঙিনায় রাতেই চিন্তা ব্যাকুল আকুল মাতৃকূল ... কাল স্কুলে যাবে কেমনে ?? আমি আপাতত cool এ সবে । সোজা হিসেব ... বেশি হলে যাবে না , কম হলে যাবে । জল সাঁতরে গিয়ে আমার জন বিদ্যা বোঝাই না করে খান কতক ডাকসাইটে ভাইরাস বোঝাই হয়ে ফিরবে , তা ডিস্ট্রিবিউট করবে ... রক্ষা করো মা !!!
তবে সকালে দেখলাম আবহাওয়ার গতিক খুব খারাপ নয় ... সে আজ আমার মতের উল্টো দিকে হাঁটার উল্লাসে আগে ভাগে ই উঠে প্রস্তুত। 😁
আজ ভোরে অল্প অল্প বৃষ্টির মধ্যেই ঘুম ভাঙার পর যখন আমাদের আবাসনের নিচে জল জমেছে দেখলাম ... মনটা নেচে উঠল । শীত আমার প্রিয় বন্ধু হলেও , বর্ষার সাথেও আমার ভাললাগা জড়িয়ে , যা জেনেছিলাম আমার এক দেওরের বর্ষা ব্যাখ্যার আলোকে । সে বলেছিল ... জল কাদা , জল জমার দায় কি বৌদি বর্ষার ??? সে দায় তো আমাদের । ঠিক কথা !!!
বর্ষার মতন রোমান্টিক আবহাওয়া আর কি আছে ??? আমার সহকর্মী এক দাদাও বলেছিলেন ... রবীন্দ্রনাথ সব চেয়ে বেশি গান লিখেছেন বর্ষা নিয়ে , কেন জানিস ? বর্ষা ওনার প্রিয় ঋতু ছিল । আর বর্ষার শান্তিনিকেতন অন্য রূপে রূপসী। একবার ওমন ঘনঘোর বর্ষা মাথায় করে শান্তি নিকেতনের সোনাঝুরি গাছের জঙ্গল আর কোপাই ( আমাদের ছোট নদী কিনা কে জানে ?)দেখে দাদার ( ভাসুর ঠাকুর ) ঠিক করে দেওয়া এক হলিডে হোমে‌ ফিরে এসেছিলাম।
আমাদের কলেজের আরেক দাদা একবার বলেছিলেন ... বর্ষার সময় যদি পাহাড়ে বেড়াতে যান , এত  সবুজ সতেজ প্রকৃতি দেখবেন , ধুলো মালিন্য ধুয়ে মুছে বর্ষা প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে এই সময় ।
বর্ষার সময় সাধারণত পাহাড়ে যাওয়ার চল নেই । তবে যদি নীরব বিশ্রাম কাম্য হয় , যাওয়া যেতেই পারে । বাইরে বৃষ্টি , পাহাড়ি আশ্রয়ে ধুমায়িত চা , গল্পের বই/ গান এর জুড়ি মেলা ভার । দলে গেলেও মজা । তবে যদি সমমনস্ক দল হয় তারও আড্ডার মজা পৃথক ।
আজ সকালে যখন মেয়েকে নিয়ে স্কুলের পথে তখন মন জুড়ে ছোটবেলার rainy day এর নস্টালজিয়া । ওই দিনে জল ভেঙে ছপ ছপ করে স্কুলে পৌঁছনোর পর যখন ছুটির ঘন্টা বাজত , তখন আবার জল পেরিয়ে বাড়ি ফিরতে খুব মজা লাগত। আরো ছোটকালে যখন স্কুল বাসে যেতাম ... জল কেটে সাদা ফেনার মাঝে বাসের দুলকি চালের গতি আলাদা আনন্দে মন খুশি করে দিত । নিজে যখন পাবলিক বাসে যাওয়ার সুযোগ ঘটল ... স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে এক কদম এগিয়ে গেলাম ... তখন মজা লাগলেও ওমন জমা জলের ময়লা নিয়ে মন খানিক বিকল হলেও ... একটু পরেই সে আপদের চিন্তা ... জলে সকলে একসাথে পা মেলানোর আনন্দে ভুস করে ওই জলের তলায় ডুব দিত । তখন অল্প অল্প করে নানা রকম আলো বাতাস টের পাচ্ছি সকলেই ... যাকে কবির ভাষায় বলা যায় অকারণ পুলক । আমাদের অবশ্যি তখন অকারণ পুলক মনে হোতো না ... ন্যায্য রকম কারণ পুলকে কল কল করতে করতে আর জল ছপাছপ করে জুতো মোজা ভিজিয়ে ঘরে ফিরে পুলকিত মনকে আবার চাবি বন্ধ করে ফেলতাম ....

মূল্যবান মূল্য শিক্ষা

 

আঁকা শেখার ইচ্ছাপূরণ আমার হয়নি। সুযোগ ছিল না । মায়ের গান শেখার ইচ্ছা মা পূর্ণ করেছিলেন আমাকে গান শিখিয়ে। এক সময় মেনে নিয়েছিলাম। তবে স্টেজ ফ্রি কোনকালেই ছিলাম না তাই খুব পরিচিত জন ছাড়া সঠিকভাবে গান পরিবেশন করতে পারিনি কোনদিন।
পুপেকে গান আর আঁকা দুদিকেই ভর্তি করে চেষ্টা চালাচ্ছি ... দুটি বিষয় শিখছে অনেকদিন । সাধনা ব্যাপারটা ওর ঠিকঠাক নেই , ও ওর মতন । খানিকটা ঠেলে দিতে হয় তবেই হাল ধরে।
পিছনে পড়ে বকুনি দিলে দেখেছি আরো খোলসে ঢুকে যায়। সব সময় না বললেও , পুরো ছেড়ে দিতে পারি না , একবার রাগ করে ছাড়ান দিই , আবার টেনে ধরি। এই ধরা ছাড়ার মাঝে হঠাৎই দেখছি একটু যেন ভিন্নতা । পরিবর্তন হয়ত খুব অল্প, কিন্তু মায়ের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে বৈকি !!! যদিও আমার পরিচিত অনেকের মতে "তুমি খালি ওর ত্রুটি গুলো দেখো !!! "ভুল ত্রুটি তো দেখাতেই হবে ।
ওর দুই বান্ধবীর মায়েদের দ্বারা উৎসাহিত হয়ে , একটু ভিন্ন ভাবে বছর দুয়েক আগে ওকে  সুন্দর করে কার্ড বানিয়ে নিজে উপার্জনের পথ খুলে দিয়েছিলাম।  আমাদের পরিচিত কারোর জন্য কার্ড বানিয়ে দিলে বিনিময়ে আমি অল্প কিছু ওকে দেব। যা গচ্ছিত থাকবে আমার কাছে। টাকা ছোটদের হাতে দেওয়ার পক্ষপাতি আমি নই। 
কিন্তুক কিছুদিন পরে দেখি আইডিয়া ফেল ... ঠেলে ঠেলে ক্লান্ত আমি ক্ষ্যামা দিলাম। জমল ওর খাতে অল্প কিছু , রইল আমার কাছেই গচ্ছিত। পাড়াতুত মন্দিরা বৌদি বললে ... তোমার মেয়ে টাকার মূল্য বোঝার মতন পরিণত নয়।  আর তুমি যাই বলো ও অনেকটাই ছোট।
এ বছর খানিক পরিণত হল বোধহয়।  হঠাৎই আমার এক সহকর্মীর জন্মদিনে নিজেই কার্ড এঁকে দিল। আমার ঠেলা না খেয়েই।  আনন্দ চেপে পুরো বিষয় আবার জানালাম । এবারে উৎসাহের আতিসহ্যে আমি পাগল !!! " মা আর কার কার জন্মদিন বলো বলো !!! "
একখান হিসেব লেখার খাতা বানাতে বলার সাথে সাথেই তা প্রস্তুত আর ঝপাঝপ হিসেব লেখা হচ্ছে। টাকা জমছে আমার কাছে 😊 যদিও মোটে ২০/- কার্ড পিছু,  আগের আর এবারের মিলিয়ে ২৫০/- এর কাছাকাছি !!!
Mother's Day কার্ড বানিয়েও টাকা চেয়েছিল সোনামণি !!!! 🤪

চিঠিপত্র

 

কন্যার হিজিবিজি শিল্প কর্মের জন্য পুরাতন ডাইরীর খোঁজ করছিলাম ... এক সময় ডাইরির খোঁজ করতেন আমার মা , আমার জন্য।  মন খুলে কথা বলার বদলে কথার পিঠে কথা সাজিয়ে কথার মালা গাঁথার অভ্যাস আমার বেশ প্রাচীন । পুপে দেবী অবশ্যি লেখেন না , উনি আঁকার চেষ্টা করে থাকেন , সেখানে তার কথার মতন পাকামো এখনো আসেনি , নেহাতই চলনসই অঙ্কন । তবে মন্দও বলা যায় না সব গুলোকে । হাল ধরে না থাকলে কোন দিকে তার শিল্প ভাসমান হবে , বলা ভারি মুশকিল।  তবে কথা হল গিয়ে .... ডাইরি খোঁজ করতে গিয়ে পুরাতন ডাইরির ভাঁজে , আমার আরেক পছন্দসই বিষয়ের দেখা মিলল .... এখনকার প্রজন্মের কাছে হয়তো অ্যান্টিক বস্তু হবেও বা .... post card ।
স্মৃতির পদচারণা শুরু হল .... বছরের অন্যতম বিশেষ সময় বিজয়া .... মা দুর্গার কৈলাশে ফেরার পর শুরু হয় এই পর্ব । আগে থেকেই মা , আনিয়ে রাখতেন post card আর inland .... দূর দূরান্তে থাকা আত্মীয় , বন্ধুর বাড়িতে বিজয়ার প্রণাম ও শুভ কামনার বিনিময় হতো , এর হাত ধরে । ছোটবেলায় , মায়ের পাশে বসে দেখতাম । আর একটু বয়স বাড়ার পরে , ঠিকানা লেখার দায়িত্ব বর্তালো আমার ওপর , গর্বিত আমি , তাতে ভারি আনন্দ পেতাম ... আমার লেখা ঠিকানা মাইলের পর মাইল পেরিয়ে নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছবে !!! এ কি কম কথা !!! সময়ের হাত ধরে এক সময় , বিজয়ার চিঠি লেখার দায়িত্ব পুরোটাই আমার ওপর বর্তালো । সমান ভাল লাগা নিয়েই তা সম্পন্ন করতাম । এখন ওই প্রথা বিলুপ্ত সময়ের দাবী মেনে , অবশ্যই খারাপ লাগে 😞
স্কুলের সময়ে চিঠি বিনিময়ের নানা রকম রোমান্টিক সুযোগ থাকে , যা থেকে পুরোপুরিই বঞ্চিত ছিলাম বলা যায় না , কারণ , কি ভাবে যেন বান্ধবী রুমা জেনে গিয়েছিল , আমাকে দিয়ে চিঠি লেখানো যেতে পারে ... তাই আমার বয়ানে রুমার মন কেমনের চিঠির লেখিকা ছিলাম আমি , বলা ভালো লেখার প্রধান উপদেষ্টা আমি , সাথে দুই সহকারী শুভদ্রা আর চন্দ্রাণী 🙃😊।
স্কুলে আমার আর এষার মধ্যে অনেক চিঠির আদান-প্রদান হতো , যে সব কথা ক্লাসের মধ্যে বলার সুযোগ হতো না ... সে সবের কিছু কিছু আজও খোঁজ করলে পাওয়া যেতে পারে । এষা দারুণ চিঠি লিখতো । ডাক মারফত চিঠি নয় , নেহাতই হাতে হাতে আদান-প্রদানের দ্রুত গতি সম্পন্ন চিঠি ।
এরপর যাদবপুরে ছিল শর্মি । ওর লেখা চিঠিও দারুণ লাগত পড়তে , তখন অল্প স্বল্প গল্প লিখে ডাইরি ভরাতে শুরু করেছি । শর্মি , শম্পা , মৌমিতা আর কৌশিকী ছিল আমার একনিষ্ঠ পাঠিকা । তবে ওরা চিঠিতে ছিল না , চিঠিতে একমাত্র ছিল শর্মি । পরে নতুন সংসার পাতল সুদূর কেন্টাকিতে , ওখান থেকে একবারই চিঠি পাঠিয়েছিল । তখন আস্তে ধীরে চিঠি তার পাট গোটাচ্ছে 😞 !!!
এরপরের পর্বে আমি এলাম নতুন সংসারে , নাহ্ , তেনার চিঠি লেখার কোন বাই নেই😭 । বিয়ের আগের চিঠি যদি প্রেম পত্তর হয় , তবে বিয়ে ঠিক হ‌ওয়ার পর , আলাপ চারিতা যখন মধ্যগগনে এবং আমি ক্লীন বোল্ড,  হেনকালে চিঠি লিখলাম ... " কি লিখি তোমায় " ...এই লাইন লিখে শুরু করলাম...পাতা জোড়া কাব্য।  উত্তর এলো পুরো গদ্য তে 🙄। প্রথম লেখা চিঠির পাতা হল ওষুধ কোম্পানির দেওয়া চিরকূট। যে চিরকূটে এখন সাংসারিক গদ্য লেখা হয় , যেমন বাজারের ফর্দ , মুদির দোকানের অল্প কিছু উপকরণ ইত্যাদি ।
শর্মি আর আমি কলেজে এই দুঃখ গলা জড়িয়ে অনেক সময়েই করতাম .. আমরা চিঠি ভাল লিখলে কি হবে রে !! পড়ার লোক নেই কো !!!😔
বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু হল ... তিনি হোস্টেলে , আমি নতুন পরিজনদের চেনাজানার মহরতে , অর্থাৎ শ্বশুরবাড়িতে । সপ্তাহান্তে শনিবারের দিকে চেয়ে থাকি , মাঝে মাঝে special visit এর চমক , শুধুই রাতের অতিথি , সকালেই হোস্টেল গামী . . সারা সপ্তাহের রাগ-অনুরাগের দিনলিপি নাকি চিঠি সোমবার সকালে সকলের অলক্ষ্যে রেখে দিতাম তেনার ওয়ালেটে ... হোস্টেল রুমে পাঠ হতো , কিন্তু মিলতো না উত্তর । বেড়ানোর সময় ট্রেনের আপার বার্তে বসে চলত ও তরফের উত্তর লেখার ধূম ... অবশ্যই চিরকূটে 😊😊😊😊। এ ভাবেই কবে যেন চিঠি রা হারিয়ে গেল .... রয়ে গেল শুধুই কি আমার মনের গহনে ??? কে জানে ???

এরে কয় ক্রিয়েটিভিটি

 

পুপের কথা লিখতে বলেছিল , পুপের স্কুলের  বন্ধু আয়ুস্মিতার মা , বীথি , ওর টুকটাক গল্প লিখেই ফেলি মাঝে মাঝে ... সে কিছু না কিছু  ঘটনার ঘনঘটা ঘটিয়ে থাকে প্রায়শই। সেভাবে ভেবে চিন্তে লেখা হয়নি কখনো । একই কথা বলেছিল আমার সহকর্মী শান্তনু দা ... " শুচিস্মিতা , তুমি , মেয়ের যা যা গল্প শোনালে , ফেলে না রেখে লিখে ফেলো , পরে পড়বে আর মজা পাবে "   সত্যিই তাই ... ছোট তো চিরকাল থাকবে না , মজার গল্পও কমবে , সবার কাছে বলার গল্প তখন বদলে যাবে , বড়বেলার গল্প তো এক ঘেয়েমী বোঝাই। সেই থোড়- বড়ি-খাড়া আর খাড়া-বড়ি-থোড় ।
স্কুলের পি.টি.এম ... এই অনুষ্ঠানে আমার শুরু থেকেই আসন পাকাপোক্ত।  সাধারণ ও অসাধারণ দুই বারেই পাত পেড়ে কন্যার সুখ্যাত ( ব্যাঙ্গার্থ ) ভোজন করে ফিরি ।
প্রথম দিকে দেবাদেবী দুজনেই বিপদ ফেস করতে যেতাম,  ক্লাস ওয়ান থেকে পিতাজী আমাকে ফেস করার ট্রেনিং দিতে বদ্ধপরিকর হলেন 😑🤨 সোজা কথা হল ... আপনার কন্যাটি একটি রত্ন বিশেষ , এমনটি দেখা যায় না ... এমন যদি সত্য হতো , তিনি যেতেন এবং গর্বিত পিতা হিসেবে হাসি মুখে সুখ্যাত শুনতেন , ভালই লাগে , আমার মেয়ে কি ভাল !!! শুনতে কি শিহরণ জাগে না ??? কিন্তুক ..... গল্প তো ভিন্ন...কাজেই এখানে ভদ্রলোকের এক কথা ... তোমার( আমাদের নয় কিন্তু) মেয়ের গুণাগুণ শুনতে কাজ ফেলে যেতে পারুম না 🙄
তো এখন আমি একাই হাজিরা দিই ...
গত দুবছরে হল virtual PTM , প্রতিবারই যেমন যেমন শুনি , গুনে গেঁথে দেখলাম , একই মোটামুটি , তবে একটা বিষয় নতুন ভাবে এল .... " আপনার মেয়ের creativity নেই , writing skill টা বাড়াতে হবে ।" class teacher সহ , English teacher আর In charge Aunty এক বাক্যে সহমত ... creativity বাড়াতে হবে ।
আমি হাতড়াচ্ছি , মেয়ে আমার সবে ক্লাস থ্রি !!! এখন যদি ওসব দেখায় পরে কি দেখাবে ??
পরের মিসাইল ধেয়ে এল ... " ওর creativity বাড়ানোর জন্য কি করছেন আপনি ?"
ভাবছি , এঁরা কি বলছেন ?? সবে টু পেরিয়ে থ্রি , আমার মেয়ের দুষ্টু বুদ্ধি আছে জানি , কিন্তু পড়াশোনা দিকে মন খুবই কম ( যেটা স্বাভাবিক এই বয়সে ) , অসাধারণ মেধার অধিকারী সে নয় । আর এখন কি কি করাবো , যাতে ওসব ফলন্ত গাছের মতন তরতরিয়ে বাড়বে !!!
শুনলাম টপিক বেছে তাকে লিখতে দিতে হবে নিজের মতন .... আমি নিজেও একজন শিক্ষিকা , আমার ধারণা ছিল , সময়ের হাত ধরে কিছু বিষয় আয়ত্বে আসে আর প্রতিভার ক্ষেত্রেও তাকে বিকশিত হওয়ার সময় দিতে হয় । আর সবার সব প্রতিভা থাকেও না ।কি জানি ...
বাড়িতে টপিক দিয়ে ডাইরী ধরিয়ে দিলাম,  পরে ছোট টপিক শুনে এক স্কুল শিক্ষিকা বলেছেন ওমন টপিক ক্লাস ওয়ানে চলে , আমি সত্যিই হাল ছেড়ে দিয়েছি তারপর । মাঝে মাঝে যেমন মনে হয় , লিখতে বলি , রোজের মধ্যে আমার কন্যাকে বাঁধা যাবে না , যদি না সে নিজে মনে করে । কিছু ক্ষেত্রে জোর করতেই হয় , নিরুপায় !!
   যাক , যে গল্প শুরু করেছি , তাতেই এগিয়ে যাই .... টপিক নিয়ে লেখার আগেই তা নিয়ে অঙ্কন শুরু হল .... " একি ? লিখতে দিলাম,  তুই আঁকছিস ?" ... হাত তুলে আস্বস্ত করল ... আঁকার নিচে লেখনী .... আরিব্বাস !!! আমি ক্লীন বোল্ড । কে বলে আমার মেয়ের creativity নেই !!!!
গল্প সবে শুরু .... দিন যায় , রাত যায় , ছবির আকার বাড়ে , লেখা অল্প অল্প করে আকারে ছোট হতে থাকে .... নজরে আসলেও এড়িয়ে যাই । একদিন পাতা জোড়া প্রিয় কার্টুন চরিত্র,  নীচে লেখা চার লাইন 😱😱😱😱😱😱
সেদিন একদম catch caught caught .... " বলি হ্যাঁ রে !! লেখা কমছে আর ছবি বড় হচ্ছে ?? চার লাইন লেখা ??? আমি কি বোকা ??? দিচ্ছিস ধোকা ???" মুখে দুষ্টুমি ভরা হাসি !!! কি করব !!
এবার তোমরাই বলো ....

Sunday, 26 April 2026

ভাঙনের পথে

 

আমার অন্যতম প্রিয় লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য। তাঁর লেখা একটি উপন্যাস নাকি গল্প হল " ভাঙনকাল " । গল্প টা বোধহয় পড়া হয়নি তবে নানারকম ভাঙনে আমি বিগত কিছুদিন যারপরনাই বিরক্ত .... তিতিবিরক্ত !!!!
বিগত বছরের শেষতম মাসের প্রথম দিনে পা ভেঙে কুপোকাত হলাম । literally পায়ের ওপর পা তুলে দিন যাপন করার পর কলেজে যোগ দিলাম। আমি বুঝেছিলাম পায়ের ছোট আঙুল ভেঙেছে অর্থাৎ  ছোটখাট ব্যাপার , ভয় ধরল , যখন কর্তামশাই এর জুনিয়র অর্থোপেডিক চিকিৎসক বললেন .... " বিশ্রাম না নিলে বিপদে পড়বেন বৌদি " ... জয়েনিং এর চিঠির বয়ান আর হাড়ের ডাক্তারের লেখাজোখা চোখে দেখে আমার এক সহকর্মী বললে ... তোমার কিন্তুক মেটাটারসল বোন ভেঙেছে 😳। মেটাফিজিক্স টা কিছু জানি যেহেতু আমি দর্শনের ছাত্রী। কিন্তুক  তা বলে "মেটা" যুক্ত মেটাটরসলবোন জানতে বয়ৈ গেছে !! সব মেটা র ডেটা কি জানা সম্ভব  ??? জানলাম খানিক বাধ্য হয়ে .... সেখান নাকি ছোট্ট আঙ্গুল ভাঙার মতন ছোটখাট ঘটনা নয় 🤔।
আমি  চিকিৎসক ঘরণী হতে পারি , চিকিৎসক তো নই , বোন যেমন ই হোক সে তো বোন ই (bone ) ভাই নয়কো !!!! অতো কি বুঝি ???
যাক সে সব খানিক হামলে পরে সামলেছি কি না সামলেছি কাশতে কাশতে কাশিবাসি হলাম ... বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে এখন ভাঙন ধরেছে গলায় । খোলতাই গলায় কথা কইছি। গলার ভাঙন চলতে চলতে দন্তশূলও ভাঙনের দিকে turn নিচ্ছে কিনা বোঝার চেষ্টা করছি .... বছর খান নেহাতই গোলোযোগের মধ্যেই শুরু করলাম .... গোলোযোগের বিয়োগ করে ফেলতে হবে ....
তুমি কোন ভাঙনের পথে এলে 🎵🎵🎵🎵