নস্টালজিক
আমাদের অনেকেরই কলেজ জীবন শুরু হয়েছিল একটু আগে । কারণ তখন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা হোতো স্কুলে ও কলেজে । এমনকি আমার কর্মজীবনের শুরুতে আমি আমাদের কলেজে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়িয়েই পথ চলা শুরু করেছিলাম । তো সে সময়ের এক বিখ্যাত ব্যাণ্ডের বিখ্যাত গানের লাইন ছিল " ভালবাসা মানে আর্চিস গ্যালারি " । তো সেই ভালবাসার গ্যালারি টি ছিল আমাদের কলেজ বাসন্তী দেবীর ঠিক উল্টো ফুটপাতে। আমি ওখান থেকেই বসেছিলাম উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় । দু বছরের আমার কলেজ ছিল বাসন্তী দেবী । তবে আর্চিস গ্যালারি তে অল্প স্বল্প ঘুরপাক খেলেও কেনা কাটার পাট মুক্ত ছিলাম কারণ বাস ভাড়া ছাড়া পকেট গড়ের মাঠ । পকেট মানি কারে কয় জানি তখন , কিন্তু সে সব নদীর ওপারের গল্প ছিল ।
তো সেই গ্যালারিও আজ কালের গর্ভে । ওই গ্যালারির পাশেই ছিল চিনে ও মোগলাই খাবারের দোকান "দা নিউ মাই ক্লাব"। সত্যি বলতে কি তখনও ওবধি চিনে কিনে খাওয়ার সুযোগ মেলেনি । চিনে মানেই স্কুল ও কলেজের টিফিন , মায়ের তৈরি চাউমিন । কাজেই মাই ক্লাব আপন ছন্দে থাকলেও আমার পরিচয়ের আওতায় ছিল না ।
তবে পরিচয় হল একদিন। করালেন কিনি ? আর কে ? তিনিই ... বিয়ের পর । তিনি তখন হোস্টেল নিবাসী । নব পরিণীতা র সাথে দেখা করার জন্য বরাদ্দ ছিল দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট আর তখনই পরিচয় হল এই চৈনিক কাম মোঘলাই রেস্টুরেন্টের সাথে ।
গড়িয়াহাটের হট্টমেলার মাঝে এক টুকরো নিভৃত কোণ । ভিতরের আলো আঁধারির মধ্যেই যেন এক অন্য জগতের হাতছানি। সাধ ও সাধ্যের দুরন্ত মেলবন্ধন। খাবার সুস্বাদু সাথে সাধ্যাতীত নয় ।
এরপর অনেক অনেকবার ই এই ক্লাবে ছিল আমাদের অবাধ যাতায়াত। পরে যোগ দিল পুপেও ।
কখনও মামাতো দাদার সাথে , কখনও আমার বান্ধবী অর্চিতার সাথে , কখনও হঠাৎই অভিমান ভাঙাতে ( খেতে যারা ভালবাসে , তাদের মান-অভিমান আর কিসে ভাঙে এত সহজে ??) , কখনও পাড়াতুত মিঠুদির সাথে , কখনও পূজোর কেনাকাটার মাঝে .... শেষ নেই ... ।
মালিক সহ কর্মীগণ ও পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন ... বেশ কিছু সময়ের ব্যবধানে গেলে তারা বলতেন ... " অনেকদিন বাদে এলেন । ভাল আছেন তো ? " আন্তরিকতায় ঘাটতি ছিল না । একবার ওখানেই দেখা হয়েছিল, আমাদের স্কুলের জয়শ্রী দি র সাথে । চিনতে পারেন নি , ক্লাস সিক্স আর এক যুগ পেরনো ছাত্রীকে চেনা মুশকিল । বিশেষ করে বিশেষত্বহীন ছাত্রীকে। 🤫
এক প্রাক্তন কলিগের বিয়েতে গিয়ে এই রেস্টুরেন্টের মালিককে দেখে , পরে জেনেছিলাম যে ওর বিয়ের ক্যাটারিং করেছিল ওরাই।
আমার অত্যন্ত প্রিয় সেই চিনে ও মোঘলাই খাবারের রেস্তোরা আজ বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু মাস ।
এ বছরের পূজোর কেনার পাট মিটিয়ে My club এর সামনে গিয়ে দেখলাম ও জানলাম যে তা বন্ধ হয়ে গেছে । এখন ওই বাড়িটিও ভাঙা হচ্ছে ... জানি না ভবিষ্যতে নতুন রূপে সে ফিরবে নাকি ফিরবে না !!! তবে যা হারায় তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না ... সময়ের কাটা সামনে চলে , পিছনে না 😟😟
No comments:
Post a Comment