Sunday, 4 February 2024

নস্টালজিক দেবী বন্দনা

 আমাদের বয়ঃসন্ধি , যখন আমরা ক্লাস নাইন।  কেমন ফাইন ছিল মনে করে দেখো .... আহা । তখনই তো প্রথম মন কেমনের জন্মদিন , চুপ করে থাকা কঠিন !!! তোমার কাছে খরস্রোতা গতিহীন 🎶🎶🎶🎶 

আমাদের সময়ে সব কিছুই ছিল নিক্তিতে মাপা । আর তা একটু বেশিও না , বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কমের দিকেই। সে সময়ের একমাত্র ছুটি আর মুক্তির দেখা মিলত ভগবতী ভারতী দেবীর আরাধনা উপলক্ষে । 

যখন হাই স্কুলের শুরু হল ... সব চাতকের চোখ ক্লাস নাইন,  টেন নয় কেন ? আরে বাবা , টেন এর সামনে তো বাঁধা শমন । জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার নাকি যুদ্ধের দামামা ধ্বনি ? বাকি সব ফিকে , টিকে থাকার প্রথম পদক্ষেপ বলে কথা !!! কাজেই নাইন খুবই ফাইন ব্যাপার।  

বড় বড় ভাব । স্কুলের পূজোর দায়িত্ব,  সাথে ইলেভেন এর সিনিয়র দিদিরা থাকলেও,  তাদের অনেকেই আবার স্কুলের শিকড় গজানো ছাত্রী নয় , নতুন আগমন । 

আমাদের সময় ভ্যালেন্টাইনস ডে সহ একগাদা আদেখলা ( আমার একান্ত নিজস্ব মত ) দিনের নাম , গন্ধ ছিল না দিকে দিকে , ভাগ্যিস !!! তাই জয় জয় দেবী আরাধনা ছিল পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা । উফ !! কি অপেক্ষা , কি প্রতীক্ষা সেই বিশেষ দিনেটার জন্য।  তারপর ... চারিদিকে সকাল থেকে স্তোত্রপাঠ , পূজো , পুষ্পাঞ্জলী , প্রসাদ বিতরণ , ভোগের লাইন , আর ?? বলতে হবে ??? হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবীর ভিড়ে সত্যিই বসন্ত জাগ্রত দ্বারে .... । 

কোথাও পড়েছিলাম ওই দিনের সকালের সুন্দর আর সুন্দরীদের পরে সারা বছর আর দেখা মেলে না ।কি আজব ব্যাপার।  কিন্তু সত্যিই তাই ... সরস্বতী পূজোর পরে খোঁজ করে দেখো ? পাবে না , ওরা শুধুই ক্ষণিকের অতিথি ।

আমাদের সময় বেশির ভাগ জনতারই .... দূর হতে তোমারে দেখেছি , আর মুগ্ধ এ চোখে চেয়ে থেকেছি 😍🤔🤫 গল্পের নায়ক-নায়িকা । অল্প কজন সাহসিনী ওই বাজারে চোখের সামনে দিয়ে সলাজ হাসি হেসে , এ গলি ও গলি গলে নিরুদ্দেশ হতো কিছুক্ষণের জন্য।  আমরা মুগ্ধতার রেশ কাটিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম 😃😃😃😃। তাতেও দিনের শেষে মন ভার হতো দিনটা ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে , না হলে মন বোঝাই তো সেদিন যাপনের খুঁটিনাটি তথ্যে । 

আবার অপেক্ষার পালা শুরু হতো পরেরদিন থেকে ।

No comments:

Post a Comment