Sunday, 2 March 2025

 আপদ বিপদ 

শীত যখন যায় যায় ... হঠাৎই নজরে ধরা দিল পুপে দেবী ভয়ানক ভাবে মাথা চুলকাচ্ছে !!!! কি কাণ্ড?? তবে কি এই বিপদের মধ্যে আপদ হাজির মাথায় ??? 

  আপদই বটে , সত্যিই স্কুল জীবনে এ ধরনের আপদের বিপদে নিজেও পড়েছি , মাকে ও ফেলেছি। মা বলতেন যে আমার দিদিমার মাথা নাকি বেশ গরম (স্বভাব ঠাণ্ডা ই ছিল)ছিল , সে কারণে তেনারা মাথায় ঘাঁটি গেড়ে ঘোট পাকাতে পারতেন না । এবার সে সত্য মাথা দিয়ে বুঝলাম। আমার গরম মেজাজের কন্যার মাথা পুরো উকুনের পোল্ট্রি ফার্মে পরিণত তখন। আমার মাথার দখল নিলেও , দখলদারী জোরালো হলো না , স্কুল জীবনের মতন ঠাণ্ডা , চিন্তামুক্ত মাথা আর নেইকো । বুঝলুম সে কথা।

পরিচিত এক বৌদি বললেন অবাক বিস্ময়ে , তুমি ওর চুল বেঁধে দাও, দেখতে পাওনি ?? না , সত্যিই ওসব জানার পরও খুঁজে পেতাম না । অনেকটা পরীক্ষার হলে টোকাটুকি বুঝতে না পারার মতন বা বুঝলেও ধরতে না পারি র মতন । কি গেরো !! টোটকা , নিদান , ওষুধ ... যে যে , যা যা নিদানের বিধান দিলেন একটা বাদে সব চালু করে দিলাম। 

 বাদ দেওয়া নিদান শুনে , আমি যারপরনাই রেগে আগুন হয়েছিলাম ... পুপেকে নেড়ু করায় আমার মত নেই , তাও একদিন তেমন সম্ভাবনা নিয়ে ছেলের সাথে আলোচনার সময় পুপের মামমাম মানে আমার এ বাড়ির মা( ওনারও মত নেই) নাতনির সাথে সাথে আমাকেও নেড়ু করার প্রস্তাব দেন .. শুনে আমার প্রথমেই মনে হলো খান কয়েক আপদ ওনার মাথায় দান করে আসি , তারপর .... তিন জনে লাইন দিয়ে নেড়ু হয়ে ছবি upload করলে কেমন হয় ???? 😡😡😡

   থাক !! ওসব ভাবনা বাদ দিলুম ... আদি বাবুর মাম্মি নিয়ম করে মাঝে মাঝেই তেল মাখিয়ে , বেছে ( 🙄), শ্যাম্পু মাখিয়ে চান করিয়ে দিয়েছে পুপেকে। আমি( কম) আর পুপের রীমা দিদি ও নিষ্ঠা ভরে আপদ বিদায়ে রত ছিলাম । পুপে ক্লাস শেষ করে ব্যাগ নিয়ে ওদের বাড়ি চলে যেত নির্ধারিত দিনে । 

 প্রশ্ন হলো আপদেরা এলো কোথা থেকে ?? বলা মুশকিল!! ওই সময়ে এরা বেশ দল বেঁধে আবাসনের নিচে কখনও সকালে ( ১১টা) , কখনো বিকেলে খেলায় মেতে উঠতো !! 

   এক বান্ধবীর মা নিদান হিসেবে কেরোসিন মাখাতে বলেছিল ... অব্যর্থ নাকি !! এরা গোল বাধালো ... মনে হচ্ছিল কেরোসিন দেশলাই সব যেন ব্যবহার করবো !!! কি যে ভাবে আমাকে ???? 

    চুল ঘচাং ফু করা হল , স্ট্রেটনার দিয়েও নিধন পর্ব চলল । বিছানায় শোয়ার দিক পরিবর্তন হল , মাথা আর পা বিপরীত দিকে ন্যাস্ত করা হল , একদিন পুপের পায়ের শটে নাকে চোট , একদিন আরেকজনের মুখে চোট ... কিন্তু বিপদ এক রাতে মারাত্মক জায়গায় পৌঁছল ... পরের দিন চোটপাট করে , রণে মানে আমার সাথে শোয়ায় ভঙ্গ দেওয়ার ভয় দেখানোও হজম করলাম ... কি করব !!! ঘুমন্ত হলেও দোষ তো আমারই... যদিও আমার পরিচিত দুজন বলেছে ... এ এক মোক্ষম সুযোগের সদ্ব্যবহার... কিন্তু সত্যিই সুযোগ নিয়ে ওসব করিনি ... হয়েছিল কি জানো , স্বপ্নে অবাধ্যতার জন্য পুপেকে পিট্টি ( পেটাচ্ছিলাম ) দিচ্ছিলাম , ঠিক জুতের হচ্ছিল না , সরে সরে যাচ্ছিল স্বপ্নে , যখন মনের মতো মার complete হোলো !!! ঘুম গেলো ভেঙে আর পুপের বাবার গর্জন শুনলাম..." একি রাত দুপুরে খামোখা মারছো কেন ??? " জীবনে প্রথম ওই গর্জনে বিছানায় উঠে বসে ভয়ানক হাসলাম ... একটু বাদে পুপের ঘুম সেই অট্টহাসিতে ভাঙল ... সোনা মুখ করে জানতে চাইল .. " মা তুমি এতো হাসছ কেন ??? " 

কি উত্তর দিই বলো দেখি !!! ঘড়িতে তখন চারটের কাছাকাছি ... হাসি চেপে বললাম... ঘুমা ... পরে বলব । এত কাণ্ড কারখানার পর আপাতত আপদ বিদায় নিয়েছে । ভাগ্যিস !!!

 যাতনা যত

বয়স বাড়ার নানা রকমের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ আছে । তার মধ্যে শারীরিক কিছুর ব্যাপার এবার শীতে হাড়ে হাড়ে টের পেলাম...এখনো পাচ্ছি । নানাবিধ ব্যাথায় যারপরনাই কেলান্ত হয়ে পড়েছি বটে । সে.....ই পূজোর পর পর কানের কনকনানি পর্ব শেষ হতে না হতেই ঠাণ্ডা কাল  সাথে নিয়ে এলো হাড়ে হাড়ে ব্যথার আলিঙ্গন। কি আপদ !! কি বিপদ !! বেতো রুগীর মতন সর্বাঙ্গে ব্যাথা ...  মনে পড়ল ঠাকুমার ঝুলির সেই সব রাজকন্যেদের কথা , দুষ্টু রাণীদের কথা , যাদের কিনা হাড় মুড়মুড়ি ব্যারাম ছিল । তবে সেখানে তা সারাই করতে প্রাণপাত করত রাজকুমার অথবা স্বয়ং রাজা মশাই । এখন সে রামও নেই,  সে রাজ্যও নেই । ইনি একদমই প্রবচনের রাম,নিদেন পক্ষে রামায়ন খ্যাত  শ্রী রাম চন্দ্র,  কিন্তু কদাপি রাজনৈতিক নয়কো🤫।

তো যা বলছিলাম,  মনের ব্যথা, মাথার ব্যথা, পেটের ব্যথার ও কানের ব্যথার পর নতুন সংযোজন হাড়ের ব্যথা । মাথার ব্যথার এক ধরনের কারণে সেই ছোটকালে চশমা ধারণ করতে হয়েছিল । আরো অনেক কারণ সমুদ্রে সে তার অংশের কাজ করে চলেছে , সেই  থেকে । আমার কর্তার মতে মাথা থেকে ব্যথার গতি যখন নিম্নগামী তখন তা শিগগিরই দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে ...নামতে নামতে । এ সব কথায় বড়ই ব্যথা পাই মনে .... । 

শুরুর দিকে মাথার ব্যথার কার্যকারণ পরম্পরা শোনার পর আমার কর্তা মশাই,  হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিজের অপারগতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন,  বলেছেন এতো রকম বেরকম কারণের দামী মাথা ব্যথার উপশম করার ক্ষমতা তার কেন ? কারও নেই কো 😟 !!! 

চোখের জ্যোতিও স্বাভাবিক নিয়ম মেনে কিঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত,  তাই নাকের ওপরে চশমা না আঁটলেই অক্ষর কেন পিপিলিকার সাথে তুলনীয় .... একদম পোস্কার বুঝতে পারি ইদানিং।

কিন্তু এবার পুরো হাতে হ্যারিকেন কেস, করতেই হবে ফেস।

সামনেই জন্মদিনের হাতছানি , এরই মধ্যে বেশ ওজনদার আর বিখ্যাত মানুষ জনের হাড়ের ব্যমো হাতে এসেছে উপহার স্বরূপ। any guess ?? পারলে না তো ?? টেনিস এলবো ... আহা কি জম্পেস একখান্ নাম বলো দেখি !!! কর্তা মশাই আন্দাজ করছিলেন , তাও জুনিয়র বন্ধুর কাছে দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে কেমন যেন চিন্তিত হলেন , বলতে নেই,  দেখে মনের ও হাতের দুই ব্যথাই কেমন যেন কম কম লাগল সেই মাহেন্দ্রক্ষণে !!!

 বিখ্যাত খেলোয়াড়দের এমন হয় বল( ball) পেটাপেটি করে , অনেক কসরত করে অর্জিত , আমার কেন হলো ক্যায়া মালুম ?? ফোন টেপাটেপি করে ??? অতএব  ফোনে মন দানকারী মহিলা মহল(?) সাবধান!! সাবধান!! সাবধান!!

দুষ্টু লোকের ধারনা অনুযায়ী ওই কাজটি খুব মন দিয়ে করে থাকি আর বাকি কাজের জন্য তিনি স্বয়ং আছেন with আম গায়ের লোক ( আম আদমি 🤫রাজনৈতিক নয়কো🙏) ।

হাতের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আরো এক অঙ্গ  সঙ্গ দিয়েছে , কিন্তু তার কথা পরে একদিন বলব । হাতের একখান গয়নাও শিগগির হাতে আসবে , তাতেই নাকি ফল পাবো হাতে নাতে .... দেখা যাক.... দিল্লী আভি দূর হ্যায় ।।

 ফেল ফেল মে 

আমাদের চির পরিচিত, প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র প্রদোষ মিটার বা প্রদোষ মিত্রর ডাক নাম যে কেন ফেলু হল, সে ভাবনা মাঝে মাঝেই পেয়ে বসে আমাকে । কারণটা হয়তো কোথাও লিপিবদ্ধ আছে , যা হয় পড়ে মনে রাখতে ফেল করেছি , নয়তো পড়িনি অথবা নেই হয়তো । যার ওমন ঝাঁ চকচকে মগজাস্ত্র তার নাম কিনা ফেলু ?? তবে নামের মানে আর কবেই বা আমরা ঠিক মতন মেলাতে পেরেছি !!! 

তো কথা হচ্ছিল ফেল নামক ভীষম এক বিষয় সম্বন্ধে । আমার মাকে , মাঝে মাঝেই বলতে শুনতাম," জীবনে ডাহা ফেল করে গেলাম।" ছোট ছিলাম, বুঝতাম না । একটু বড় হলে স্কুল কলেজের ফেল নামক ভয়ের বিষয় জানলাম । বুঝলাম যে বিষয়টা শুধুই ভয়ের নয় , বেশ লজ্জারও বটে । মা বাংলা সাহিত্য নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির অধিকারিনী ছিলেন , কাজেই প্রথম প্রথম মায়ের ফেল নামক বিষয় বোধগম্য হোতো না । জীবনের পরীক্ষা আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা যে ভিন্ন, তা যখন বুঝতে শিখলাম তখন সব বুঝে , বোঝাই হলাম । 

এখন কন্যা রত্নটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফেল নামক বিষয়টি কি , তা বোঝাতে ফেল করে যাচ্ছি । পড়াশোনার প্রতি তার ঝোঁক বলো , উৎসাহ বলো সবই কেমন যেন নেতিবাচক । যা সে পড়ে , তা বাবার হুঙ্কার , পিট্টি আর মায়ের যোগ্য সঙ্গতে সম্পন্ন হয় 😔

তাকে যখন‌ই বলা হয় ..." ওরে এমন করিস না , একটু পড়ায় মন দে , ফেল করে যাবি তো !!! অবাক চোখে তাকায় , দৃষ্টির ভাষায় জিজ্ঞাসা ... "সেটা আবার কি ?? খায় না মাথায় দেয় ? নাকি অঙ্কের মতন বিপদ-আপদ জনক !!! " বোঝানোতে তার মায়ের ধৈর্য আর জুড়ি নিয়ে কোন কথা হবে না .... বৃথা বোঝানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে , উচ্চ রক্তচাপ আরো উর্ধে তুলে বোঝানো চেষ্টা করি ... "ওরে , ছোট পুপের (আরেক পুপে , যে ওর বাবার বন্ধুর কন্যা )ক্লাসে নামিয়ে দেবে তোকে , এক ক্লাস নিচে । ওর সাথে পড়তে হবে তোকে ।" আমার বীরাঙ্গনা ভয়ানক রেগে উত্তর দেয় ... " কে নামাবে ? আমি কি ছোট ? যে কোলে করে নামিয়ে দেবে ? আমি নামবই না । ব্যাস্ ।" ... নাও এবার বোঝো ঠেলা !!! 

একদা এই লজ্জার বিষয় বোঝার পরও লাল ঢ্যারা আর গার্জেন কলের বার্তা নিয়ে ভয়ে আধমরা হয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছিলাম। মায়ের মুখ আঁধার। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বলে কথা !!! নতুন ক্লাসে উঠেছি , কিন্তু ... মাকে নিয়ে ক্লাস টিচার মধুমিতাদির দরবারে হাজির , মুখে চোখে লজ্জা আর ভয় । কাছে ডেকে মধুমিতা দি বললেন ... এত বিষয় ছেড়ে এই বিষয়ে ডিগবাজি খেলি ?? ভাবছো তো, কি বিষয় ?? স্কুলের ইতিহাসে ওই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফেল প্রথম আর সম্ভবত শেষ । অবাক হবার কিছু নেই... ডিগবাজি খেয়েছিলাম ফিজিক্যাল এডুকেশন বা পি.টি তে ।

যোগ ব্যায়াম করতে আমার ভয়ানক ভয় ছিল , সেই ভয়েই স্কুলে মৈত্রেয়ী দি আর মমতা দিকে দেখলেই হাত পা কাঁপত । মা পরের পরীক্ষার আগে , আমার এক জুনিয়র বন্ধুর মায়ের সহায়তায় খুঁজে বের করেছিলেন এক যোগ ব্যায়ামের স্যারকে । পরে ব্যায়ামের সাথে আরো কিছু সাধারণ ফ্রি হ্যাণ্ড কসরত ও অন্যান্য আরো কিছু ড্রিল থাকায় এরপরে আর ওই লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়নি । 

দৌড়ঝাঁপ থেকে চিরদিনই মাপ চেয়ে , ঔদিকের ঝাঁপ বন্ধ রেখেছি । এখন ওজনদার হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে উৎসাহ নিয়ে হাত পা ছুড়ি ... কিন্তু কদিন পরেই উৎসাহ শূন্যের ঘরে আর আমার আবার সেই পঞ্চম শ্রেণির মতন ডিগবাজি বা ফেল । তাই ফলাফলও শূন্যের ঘরে ।