Sunday, 2 March 2025

 ফেল ফেল মে 

আমাদের চির পরিচিত, প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র প্রদোষ মিটার বা প্রদোষ মিত্রর ডাক নাম যে কেন ফেলু হল, সে ভাবনা মাঝে মাঝেই পেয়ে বসে আমাকে । কারণটা হয়তো কোথাও লিপিবদ্ধ আছে , যা হয় পড়ে মনে রাখতে ফেল করেছি , নয়তো পড়িনি অথবা নেই হয়তো । যার ওমন ঝাঁ চকচকে মগজাস্ত্র তার নাম কিনা ফেলু ?? তবে নামের মানে আর কবেই বা আমরা ঠিক মতন মেলাতে পেরেছি !!! 

তো কথা হচ্ছিল ফেল নামক ভীষম এক বিষয় সম্বন্ধে । আমার মাকে , মাঝে মাঝেই বলতে শুনতাম," জীবনে ডাহা ফেল করে গেলাম।" ছোট ছিলাম, বুঝতাম না । একটু বড় হলে স্কুল কলেজের ফেল নামক ভয়ের বিষয় জানলাম । বুঝলাম যে বিষয়টা শুধুই ভয়ের নয় , বেশ লজ্জারও বটে । মা বাংলা সাহিত্য নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির অধিকারিনী ছিলেন , কাজেই প্রথম প্রথম মায়ের ফেল নামক বিষয় বোধগম্য হোতো না । জীবনের পরীক্ষা আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা যে ভিন্ন, তা যখন বুঝতে শিখলাম তখন সব বুঝে , বোঝাই হলাম । 

এখন কন্যা রত্নটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফেল নামক বিষয়টি কি , তা বোঝাতে ফেল করে যাচ্ছি । পড়াশোনার প্রতি তার ঝোঁক বলো , উৎসাহ বলো সবই কেমন যেন নেতিবাচক । যা সে পড়ে , তা বাবার হুঙ্কার , পিট্টি আর মায়ের যোগ্য সঙ্গতে সম্পন্ন হয় 😔

তাকে যখন‌ই বলা হয় ..." ওরে এমন করিস না , একটু পড়ায় মন দে , ফেল করে যাবি তো !!! অবাক চোখে তাকায় , দৃষ্টির ভাষায় জিজ্ঞাসা ... "সেটা আবার কি ?? খায় না মাথায় দেয় ? নাকি অঙ্কের মতন বিপদ-আপদ জনক !!! " বোঝানোতে তার মায়ের ধৈর্য আর জুড়ি নিয়ে কোন কথা হবে না .... বৃথা বোঝানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে , উচ্চ রক্তচাপ আরো উর্ধে তুলে বোঝানো চেষ্টা করি ... "ওরে , ছোট পুপের (আরেক পুপে , যে ওর বাবার বন্ধুর কন্যা )ক্লাসে নামিয়ে দেবে তোকে , এক ক্লাস নিচে । ওর সাথে পড়তে হবে তোকে ।" আমার বীরাঙ্গনা ভয়ানক রেগে উত্তর দেয় ... " কে নামাবে ? আমি কি ছোট ? যে কোলে করে নামিয়ে দেবে ? আমি নামবই না । ব্যাস্ ।" ... নাও এবার বোঝো ঠেলা !!! 

একদা এই লজ্জার বিষয় বোঝার পরও লাল ঢ্যারা আর গার্জেন কলের বার্তা নিয়ে ভয়ে আধমরা হয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছিলাম। মায়ের মুখ আঁধার। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বলে কথা !!! নতুন ক্লাসে উঠেছি , কিন্তু ... মাকে নিয়ে ক্লাস টিচার মধুমিতাদির দরবারে হাজির , মুখে চোখে লজ্জা আর ভয় । কাছে ডেকে মধুমিতা দি বললেন ... এত বিষয় ছেড়ে এই বিষয়ে ডিগবাজি খেলি ?? ভাবছো তো, কি বিষয় ?? স্কুলের ইতিহাসে ওই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফেল প্রথম আর সম্ভবত শেষ । অবাক হবার কিছু নেই... ডিগবাজি খেয়েছিলাম ফিজিক্যাল এডুকেশন বা পি.টি তে ।

যোগ ব্যায়াম করতে আমার ভয়ানক ভয় ছিল , সেই ভয়েই স্কুলে মৈত্রেয়ী দি আর মমতা দিকে দেখলেই হাত পা কাঁপত । মা পরের পরীক্ষার আগে , আমার এক জুনিয়র বন্ধুর মায়ের সহায়তায় খুঁজে বের করেছিলেন এক যোগ ব্যায়ামের স্যারকে । পরে ব্যায়ামের সাথে আরো কিছু সাধারণ ফ্রি হ্যাণ্ড কসরত ও অন্যান্য আরো কিছু ড্রিল থাকায় এরপরে আর ওই লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়নি । 

দৌড়ঝাঁপ থেকে চিরদিনই মাপ চেয়ে , ঔদিকের ঝাঁপ বন্ধ রেখেছি । এখন ওজনদার হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে উৎসাহ নিয়ে হাত পা ছুড়ি ... কিন্তু কদিন পরেই উৎসাহ শূন্যের ঘরে আর আমার আবার সেই পঞ্চম শ্রেণির মতন ডিগবাজি বা ফেল । তাই ফলাফলও শূন্যের ঘরে ।

No comments:

Post a Comment