আপদ বিপদ
শীত যখন যায় যায় ... হঠাৎই নজরে ধরা দিল পুপে দেবী ভয়ানক ভাবে মাথা চুলকাচ্ছে !!!! কি কাণ্ড?? তবে কি এই বিপদের মধ্যে আপদ হাজির মাথায় ???
আপদই বটে , সত্যিই স্কুল জীবনে এ ধরনের আপদের বিপদে নিজেও পড়েছি , মাকে ও ফেলেছি। মা বলতেন যে আমার দিদিমার মাথা নাকি বেশ গরম (স্বভাব ঠাণ্ডা ই ছিল)ছিল , সে কারণে তেনারা মাথায় ঘাঁটি গেড়ে ঘোট পাকাতে পারতেন না । এবার সে সত্য মাথা দিয়ে বুঝলাম। আমার গরম মেজাজের কন্যার মাথা পুরো উকুনের পোল্ট্রি ফার্মে পরিণত তখন। আমার মাথার দখল নিলেও , দখলদারী জোরালো হলো না , স্কুল জীবনের মতন ঠাণ্ডা , চিন্তামুক্ত মাথা আর নেইকো । বুঝলুম সে কথা।
পরিচিত এক বৌদি বললেন অবাক বিস্ময়ে , তুমি ওর চুল বেঁধে দাও, দেখতে পাওনি ?? না , সত্যিই ওসব জানার পরও খুঁজে পেতাম না । অনেকটা পরীক্ষার হলে টোকাটুকি বুঝতে না পারার মতন বা বুঝলেও ধরতে না পারি র মতন । কি গেরো !! টোটকা , নিদান , ওষুধ ... যে যে , যা যা নিদানের বিধান দিলেন একটা বাদে সব চালু করে দিলাম।
বাদ দেওয়া নিদান শুনে , আমি যারপরনাই রেগে আগুন হয়েছিলাম ... পুপেকে নেড়ু করায় আমার মত নেই , তাও একদিন তেমন সম্ভাবনা নিয়ে ছেলের সাথে আলোচনার সময় পুপের মামমাম মানে আমার এ বাড়ির মা( ওনারও মত নেই) নাতনির সাথে সাথে আমাকেও নেড়ু করার প্রস্তাব দেন .. শুনে আমার প্রথমেই মনে হলো খান কয়েক আপদ ওনার মাথায় দান করে আসি , তারপর .... তিন জনে লাইন দিয়ে নেড়ু হয়ে ছবি upload করলে কেমন হয় ???? 😡😡😡
থাক !! ওসব ভাবনা বাদ দিলুম ... আদি বাবুর মাম্মি নিয়ম করে মাঝে মাঝেই তেল মাখিয়ে , বেছে ( 🙄), শ্যাম্পু মাখিয়ে চান করিয়ে দিয়েছে পুপেকে। আমি( কম) আর পুপের রীমা দিদি ও নিষ্ঠা ভরে আপদ বিদায়ে রত ছিলাম । পুপে ক্লাস শেষ করে ব্যাগ নিয়ে ওদের বাড়ি চলে যেত নির্ধারিত দিনে ।
প্রশ্ন হলো আপদেরা এলো কোথা থেকে ?? বলা মুশকিল!! ওই সময়ে এরা বেশ দল বেঁধে আবাসনের নিচে কখনও সকালে ( ১১টা) , কখনো বিকেলে খেলায় মেতে উঠতো !!
এক বান্ধবীর মা নিদান হিসেবে কেরোসিন মাখাতে বলেছিল ... অব্যর্থ নাকি !! এরা গোল বাধালো ... মনে হচ্ছিল কেরোসিন দেশলাই সব যেন ব্যবহার করবো !!! কি যে ভাবে আমাকে ????
চুল ঘচাং ফু করা হল , স্ট্রেটনার দিয়েও নিধন পর্ব চলল । বিছানায় শোয়ার দিক পরিবর্তন হল , মাথা আর পা বিপরীত দিকে ন্যাস্ত করা হল , একদিন পুপের পায়ের শটে নাকে চোট , একদিন আরেকজনের মুখে চোট ... কিন্তু বিপদ এক রাতে মারাত্মক জায়গায় পৌঁছল ... পরের দিন চোটপাট করে , রণে মানে আমার সাথে শোয়ায় ভঙ্গ দেওয়ার ভয় দেখানোও হজম করলাম ... কি করব !!! ঘুমন্ত হলেও দোষ তো আমারই... যদিও আমার পরিচিত দুজন বলেছে ... এ এক মোক্ষম সুযোগের সদ্ব্যবহার... কিন্তু সত্যিই সুযোগ নিয়ে ওসব করিনি ... হয়েছিল কি জানো , স্বপ্নে অবাধ্যতার জন্য পুপেকে পিট্টি ( পেটাচ্ছিলাম ) দিচ্ছিলাম , ঠিক জুতের হচ্ছিল না , সরে সরে যাচ্ছিল স্বপ্নে , যখন মনের মতো মার complete হোলো !!! ঘুম গেলো ভেঙে আর পুপের বাবার গর্জন শুনলাম..." একি রাত দুপুরে খামোখা মারছো কেন ??? " জীবনে প্রথম ওই গর্জনে বিছানায় উঠে বসে ভয়ানক হাসলাম ... একটু বাদে পুপের ঘুম সেই অট্টহাসিতে ভাঙল ... সোনা মুখ করে জানতে চাইল .. " মা তুমি এতো হাসছ কেন ??? "
কি উত্তর দিই বলো দেখি !!! ঘড়িতে তখন চারটের কাছাকাছি ... হাসি চেপে বললাম... ঘুমা ... পরে বলব । এত কাণ্ড কারখানার পর আপাতত আপদ বিদায় নিয়েছে । ভাগ্যিস !!!
No comments:
Post a Comment