আমরা হঠাৎ করে একদিনের জন্য হলদিয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলাম, এই মাসের প্রথম সপ্তাহে। একদিনের জন্য মন্দ না। আমরা কলকাতা থেকে দুই পরিবার একটা গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়লাম। বাড়ি থেকে অল্প জলখাবার খেয়ে প্রায় সকাল ১০.৩০ নাগাৎ রওনা দিলাম। বেলা ১২ নাগাৎ কোলাঘাট এর শের -এ -পাঞ্জাব ধাবায় চা এবং টা পান বিরতির পর আরও ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে আমরা সরকারি guest house হলদিয়া আবাসনে পৌঁছলাম।
Guest house এর সামনের রাস্তা পেরিয়ে রাস্তা গেছে নদীর দিকে বেঁকে। Guest house এর ভিতর শীতের মরসুমী ফুলের বাগান দেখার মতো। উল্টো দিকে নদীতে একটা বিদেশী জাহাজ নোঙর করা ছিল। কাছেই জেটিতে চলছিল মাল নামানোর কাজ। জাহাজ সম্ভবত ছিল Middle East এর। উর্দু হরফে নাম লেখা ছিল জাহাজের গায়ে।
আমরা একটু fresh হয়ে, দুপুরের খাবারখেয়ে সোজা নদীর ধারে বেড়াতে গেলাম। প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে অন্য সব ই বড় মেকি। নদীর ঠান্ডা হাওয়ায় একটু একটু শীত করলেও, লাগছিল বেশ। ওখানে বসার জন্য সিমেন্ট বাঁধানো বেঞ্চে বসে, ছবি তুলে বেশ খানিকটা সময় কেটে গেল।এরপর গাড়ি নিয়ে আশপাশে একটু ঘুরে , আমরা guest house এ ফিরে এলাম। বারান্দা থেকে নদী, নোঙর করা জাহাজ,আরো চলমান বেশ কিছু জাহাজ ও দেখলাম। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে, সন্ধ্যা বেলায় আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে হলদিয়া র river side বলে পরিচিত সুন্দর ভাবে সাজানো গোছানো একটা জায়গায় গেলাম , শহরের মধ্যে দিয়ে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সরকারি আবাসন আমাদের কলকাতার salt lake এর কথা মনে পড়াচ্ছিল। নদীর ধারে হাল্কা আলোয় মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। অল্পক্ষণ ঘুরে, ধূমায়িত চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে, আমরা guesthouse এ ফিরে এলাম। রাতে কুয়াশা র চাদরে guest house. এর বাগান দেখে horror movie তে দেখা দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। দূর্ভেদ্য কুয়াশা মেখে নোঙর করা জাহাজ ও চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। জাহাজের ভোঁ জানান দিচ্ছিল তার উপস্থিতি।
পরেরদিন জলখাবার খেয়ে , সকলে স্নান করে নিয়ে guesthouse এর বাগানে আর নদীর ধারে অনেকক্ষণ কাটিয়ে, দুপুরের খাবার খেয়ে হলদিয়া থেকে বেরিয়ে পড়লাম , পথে দেখলাম মহিলাদল রাজবাড়ী। রাজবাড়ী আছে বর্তমানে দুই টি। ইতিহাস বলে তিনটি.....যার মধ্যে প্রথমটির কোনো অস্তিত্ব ই নেই। প্রাচীন রাজবাড়িটি প্রায় পরিত্যক্ত। তুলনামূলকভাবে নতুন রাজবাড়িটি সুন্দর ভাবে রক্ষিত। সেখানে রাজাদের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি,বই, শিকার করা পশু, পাখি নিয়ে রয়েছে একটি সংগ্রহশালা। রাজবাড়ির বিশাল এলাকার মধ্যে রয়েছে মন্দির, পুকুর, পরিত্যক্ত প্রাসাদ।
রাজবাড়ির বর্তমান সদস্যরা কলকাতার বাসিন্দা। তাদের এখানে আসা যাওয়া বজায় আছে নিয়মিত ভাবে ই। এই রাজ পরিবার মুঘল আমলের। অনেক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে,আজ ও তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই রাজপরিবারের ইতিহাস লিপিবদ্ধ রয়েছে নতুন রাজবাড়ির দরবার কক্ষের প্রবেশদ্বারের পাশে।
একদিনের জন্য খুব ই ভাল একটা weekend destination.....
No comments:
Post a Comment