Thursday, 19 December 2024

Online বিপত্তির নিষ্পত্তি

 Online বিপত্তির নিষ্পত্তি 


আগেই আমার আন্তর্জালিক খরিদারির কথা বলেছিলাম । বলেছিলাম তার বিপত্তির কথা । বিপত্তির বিস্তার ও শেষমেশ তার নিষ্পত্তির কথাই আজ বলব । গতকাল তোমরা কজনা ... জলদি শেষ করার বার্তা দিয়েছ । তা কি ফেলতে পারি ?? কাল নেহাতই সময় পেলুম না , কেন না অফ লাইনের লাইনে পুরো এঁটকে গিয়েছিলাম ... একদম ঠিক বুঝেছ , একটু দোকান-বাজার থেকে টুকিটাকি কেনাকাটির দৌলতে জনজোয়ার দেখে আতঙ্কিত হলাম ... কিছু বাদ থাকল । বাড়ি ফিরে ওপক্ষ , যে কিনা আগাগোড়াই অনলাইন কেনাকাটির জোরালো বিপক্ষে !!! সোনামুখ করে বাকি থাকা এক উপহার ( সামনে নিমন্ত্রণ,  যেতে পারব কিনা বলা মুশকিল,  তবে যখন দেখা হবে দিতে তো হবেই ) কেনার জন্য অনলাইনের জানালায় উঁকি দিলেন , পছন্দ করলেন ... " বলি , তোমার শরীর ঠিক আছে তো ?? 🤔 " 

 পুরাতন কথায় ফিরি .... কাস্টমার কেয়ারের ম্যাডামের সাথে বাত হল হিন্দী-বাংলা-ইংরেজীর জগা খিঁচুড়ি ভাষায় । যার সংক্ষিপ্ত রূপ হল এই যে , আমার পারসেল ভুল করে গোকূল ধামে গিয়েছে , তারা সে পারসেল খুলেওছে ( স্বাভাবিক) , এনারা তেনাদের সাথে কথাও বলেছেন , এবার সেই খোলা পারসেল কি আমি গ্রহণ করব ?? আলবাৎ করব বলতেই,  কর্তা মশাই কটমটিয়ে তাকালেন , ভয়ে ফোন তাকে ধরিয়ে দিলাম ... সে , সামগ্রীর অক্ষত থাকা নিয়ে মনের সব দ্বিধা দ্বন্দ্বের আপাত অবসান ঘটিয়ে , ok ok বলে ফোন রেখে দিল । কি ok তা শোনার জন্য উদগ্রীব আমি ,  কিন্তু একটু লেজে না খেলালে কি মজা আছে বলো তোমরা 🙄

বেশ কিছু পরে ok খোলসা হল ... ৪/৫ দিন পরে পাব তাকে , সে আসবে । পরের দিন বেশ রাতের দিকে পর পর তিনটে এস এম এস notifications এলো ... কুরিয়ার সার্ভিসের তরফ থেকে । বেশ অবাক হলাম,  সাথে খুশিও ওনাদের তরফের তৎপরতায় । আসছে সে আসছে !!! 

কিন্তুক বন্ধুগণ ... ঘটনার ক্লাইমেক্সে  বিশাল টুইস্ট  !!!! 

শনিবারের বারবেলা এসে হাজির,  বাড়িতে পুপের দুই বান্ধবীর আসার কথা , আমি রান্না নিয়ে বিস্তর ব্যস্ত ... হঠাৎই প্রাণে খুশির তুফান ... ডেলিভারি বয় , পারসেল ... রান্না স্থগিত রেখে , ফস ফসিয়ে পারসেল স্যানিটাইজ করে খুলে ফেলেই তুফান মেইল থমকে গেল !!! একি ??? এ তো আমার অর্ডার করা কলমকারি পিস নয় 😔 , এ তো বাঁধনী পিস !!!! সাথে ছোট্ট উপহার। মুখে মেঘ নিয়ে রান্না চালু করলাম,  কর্তা মশাই আশ্বস্ত করলেন ... compensate করেছে , আর মেইলামেইলি কোরো না 😡। আমি আবার নিজের counseling করলাম। মাঝে একবার ম্যাডাম কে ফোন করে busy পেলাম,  খান্ত হলাম । দুপুর গড়িয়ে , বিকেল আসব আসব যখন ... আবার কলিং বেল বাজল ... আধো ঘুম ঘুম ভাব কাটিয়ে শুনি ... Suchismita Bhadra এর পারসেল আছে , পেমেন্ট করা আছে 🙄🤔

একেই ঘুম ভাঙানিয়া হলে মেজাজ উর্ধ্বমুখী হয়ে থাকে , তায় আবার দু খান পারসেল 🙄... ঘরে ফিরে চিরাচরিত চেনা গলার প্রশ্ন ধেয়ে এল ... " কি শুরু করেছ ? " আরে গেল যা !! আমি আবার কি করলাম ? করল তো কুরিয়ার সার্ভিস on behalf of ওই অনলাইন সাইট । তাও ফাইট করে বলার চেষ্টা করলাম ... " আমি আর অর্ডার করিনি সত্যিই বলছি।" 

চাপা এবং মাপা গর্জন নিয়ে কর্তামশাই আবার ঘুমের দেশে রওনা দিলেন , কিন্তু আমার ঘুম তখন ছুটে গেছে । উঠে পড়লাম,  পারসেল স্যানিটাইজ করে দুধরনের সামগ্রী হস্তগত হল ... ফেবরিক করা ছোটদের T-shirt , যার প্রকৃত ক্রেতা মুম্বাই নিবাসী মমতা কটক আর অন্যটি অসাধারণ বেনারসী সিল্কের টু পিস(মূল্যবান), যার প্রকৃত ক্রেতা তেলেঙ্গানা নিবাসী রোজমীন পুরি .... কি করে জানলাম? পারসেলের ভিতরে ক্যাসমেমো রয়েছে টোকেন গিফট ও হাতে লেখা চিঠিসহ । আগে আসা বাঁধনী পিসের পারসেলের ভিতরে এই তথ্যসূত্র ছিল না , আবার সেটিও আঁতিপাতি করে খুঁজে প্যাকেটের একপাশে জনৈক এ.দাশের নাম পেলাম , এঁনাদের প্যাকেটের পাশেও নাম ছিল , তাছাড়া ক্যাসমেমো ছিল । একটা বিষয় পোস্কার হল ... ইধার কা মাল উধার আর উধার কা মাল ইধার কেস ... কিন্তু তা বলে এতো ভুল .... পুরো ভুলভুলাইয়া !!! 

পালক্ ম্যাডামের সাথে কথা বললাম,  জানলাম আমার অর্ডারী পারসেল মাঝপথে আর এ গুলো কুরিয়ার সার্ভিসের তরফের ভুলের পাহাড় । আমার ঠিকানা বদলের বার্তা সহ , আরো কিছু নতুন পারসেল কুরিয়ার সার্ভিসের দপ্তরে পাঠানোর পর , তেনারা আমার সঠিক ঠিকানা যথাস্থানে পৌঁছে,  সাথের পারসেল গুলির সঠিক ঠিকানা কর্তন করে বেঠিক বসিয়েছেন । যদিও প্রত্যেক অর্ডারের একটা code নম্বর আছে । এভাবেই সম্ভবত আমার পারসেল গোকুলধাম মুখী হয়ে কর্ণাটক ঘুরতে গিয়েছিল । এক্কেরে কান ধরে কর্ণাটক নিয়ে গিয়েছে বেচারাকে । কি কাণ্ড একবার ভাবো !! আমি পেলাম এই সব পারসেল ... আর আমারই মতন আসল ক্রেতার মোবাইল জানান দিচ্ছে ... ডেলিভারি ডান 😬

 পরের দিন মুম্বাই থেকে হাজির সেরামিক কটোরি সেট , প্রকৃত মালিক মুম্বাই নিবাসী মাধবী আরোরা । এক ই অবস্হা । যাকেই বলি , বলে চিন্তা নেই , ভুল করেছে তো , তাই তোমায় খুশি করে দিচ্ছে ,তোমার মতন কাস্টমার তো পাবে না !!! ( অন্য সময় হলে খুশি হতাম , কিন্তু !!! ) যা পাচ্ছো নিয়ে নাও ... জানি মজা করছে , কিন্তু আমি কি করি ?? কন্যার এক  বান্ধবীর মাতাজী সব শুনেই বলল ... " তোমার কি সাহস গো !! অর্ডার না করা পারসেল নির্দ্বিধায় নিয়ে নিচ্ছ !!! আমার কর্তা হলে সারা পাড়ায় বোমতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত !!! বোম্ব স্কোয়াড হাজির হোতো নিশ্চিত  !!! এর মধ্যেই ছোটবেলার বান্ধবীর আগমন , সব শুনেই সে দিল মেইল করে সব জানানোর প্রস্তাব।  তাই করলাম সেদিন রাতেই । পরের দিন প্রথমে এস এম এস ও পরে শেষ ওবধি আমার বহু আকাঙ্খিত অর্ডার আমার হাতে এল । অক্ষত অবস্থায় । শুধু গিফট টা মিসিং , ওটা বোধহয় গোকূলধাম নিবাসী কদিনের ভোগান্তি বাবদ নিয়ে রেখেছে 🤫। আমি বাপু ফেরত কালে কিচ্ছুটি আপন করিনি  (সব ফেরত দিয়েছি  যথা সময়ে ) , সেটাই উচিত , তোমরাই বলো !!! 

কিন্তু যারা আমার কাছে গচ্ছিত হয়ে আছে , তাদের কি হবে ?? নিজ পারসেল পাওয়ার মেইল, কল আবার করে ফেললাম ... আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনও হল । জানলাম ওনারা শিগগির pickup এর arrangement করছেন । কিন্তু চারটে পারসেল একসাথে প্যাক করে একটা গোটা একত্রিত বিষয় পাঠাতে হবে । রিসিভ কপি পাবো না ☹

সে আবার কি রকম ?? পরে যদি কিছু সমস্যা হয় ??? ম্যাডামের আশ্বাস বাণী শুনে পারসেলদের একাকি চিত্র, একত্রিত চিত্র,  pickup man এর নাম , ধাম , সময় সবের ছবি ও তথ্য ম্যাডামের whatsapp no.এ ( official no.) এ পাঠিয়ে দিলাম গত মঙ্গলবার।  এবার ভগবান ভরসা .... আমার কথাটি ফুরালো ... কিন্তুক নটে গাছ মুড়োলো কিনা জানা নেই,  পুরো unseen and unknown ।।।।

ডানকান পর্ব ১

 সুকুমার রায়ের " আবোল তাবোল " এর কথা কে না জানে ? সেখানকার একটা ছড়া " নোটবই " ... সেই ছড়ার একটা লাইন কদিন  আমার শয়নে , স্বপনে , জাগরণে সর্বত্র.... । নিশ্চিত ভাবছো কি সেই লাইন ? বলো বলো !!! না বললে কেউ  আইনগত ফাইন বরাদ্দ করবে না , তবে ওসব বাদ দিয়ে কথা হলো গিয়ে....

 " কান করে কটকট , ফোড়া করে টনটন , ওরে রামা ছুটে আয় , নিয়ে আয় লণ্ঠন...."

বোঝা গেল ??? প্রশ্ন হলো গিয়ে কোন সমস্যায় আমি আলোকিত ??? আর বলো কেন ? কানে কানে বলি .... কান করে কটকট😥

বেশ গবেষণার সুযোগ জুটেছে ঘরের অন্য দুইজনের ... জলে না নেমে , স্নানঘরে / কলঘরে স্নানে কি উপায়ে কানে জল সিঁধোলো ? সুধি জন বলছে যদি বা সিঁধোলো সব আনন্দানুষ্ঠান শেষ হওয়া ওবধি সে কেন গোল বাধালো না ?? 🤔🤔 না ভাই আমি এসব কথায় কানই দিচ্ছি না , কারণ উপায় নেই...এক কান আপাতত তালাবন্ধ। এক কান দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি কোন রকমে .... বন্ধ কানের ওপার থেকে ঝড়ের বাউল বাতাস নাকি সাগরের আয় আয় ডাক ভেসে আসছে ঠিক মতন ঠাওর করা যাচ্ছে না .... কারণ ও কানের সাথি হয়েছে কনকনানি 😭

ব্যাপারটা বেশ জমজমাট না হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার রেওয়াজ নেই বাপু !! 

আর এই সুযোগে বাবা আর মেয়ে কান ধরে যা সুখ পেলো ,সখি  কি আর বলিবো আমি ?🙄

অন্তরা চৌধুরীর কন্ঠে সেই বিখ্যাত গানে একানড়ের কানোয়ারী দোকানের কথা শুনেছিলাম...এখন তার গুরুত্ব বুঝছি হাড়ে হাড়ে , নাকি কানে কানে ? সেদিন কর্তা মশাই এর বন্ধুর কাছে গিয়ে কানপুরের সম্বন্ধে কিছু ধারনা হলো । বন্ধুর এমন মোক্ষম সুযোগের অভিনন্দন বন্ধুকে জানিয়ে , তিনি সুযোগ মতো কান ধরে পরীক্ষা করলেন ... তবে কিনা পরের বৌ কিনা ( মনে কোন ক্ষোভ নেই  তো !!!)তাই যারপরনাই যত্ন করে দেখলেন । অষ্টমীর দিন আর একজন কান টেনে ধরে উঁকি মেরে , টুকি করে বড়োই যাতনা দিয়েছিলেন বটে !!! কি বৈপরিত্য 🤫

এখন কটকট , টনটন ব্যাকরণের শেখা সব শব্দের ব্যবহারিক জ্ঞান হচ্ছে । জোরালো জ্ঞান , রাত জেগে জ্ঞান বেশ খোলতাই হয়েছে 😐 কানের যত্ন এমন করে নিয়েছি কখনো ?? ড্রপ ,  ওষুধ  বাপ্ রে !! শেক !!! শখ করে কানে দুল ঝোলানো এক কথা আর এসব তো খুব চাপের ব্যাপার। বাড়ির দুজন এখনো সুযোগ মতন কানের মর্ম বুঝে যত্ন নিচ্ছে...ভালোও লাগছে ... না কটকটে ব্যাপারটা বদখত্ ... ওটা ভাল লাগছে না । কানের দাম এতোদিনে বোঝাই  হয়ে বুঝলাম  !!

ডানকান ২

 #ডানকানপর্ব

উফ্ এক পর্ব মিটলো ... কান নিয়ে কি কাণ্ডটাই না ঘটলো !!!! পুরো out of syllabus !!!  মনকষ্টে বাঁধনহীন কাঁদনে আমার নামডাক আছে ... রুদালী টাইপের অশ্রুমতী নই । বিশুদ্ধ কান্নার জলে অনেক ছবি আঁকা চলছে সে..........ই কবে থেকে !!! কিন্তু শারীরিক যাতনায় যারপরনাই কাহিল হয়ে ,নাকের জলে চোখের জলে হলাম হাতে গুণে গেঁথে বার তিনেক। প্রথম অধ্যায়ে গ্যাস্ট্রিকের যাতনা । পরের অধ্যায় পুপে দেবীর আগমন জনিত সিজারিয়ান যাতনা ... সে তো আবার কাউকে জানাবার উপায় ছিল না !!! কেন কেন ? মিউ মিউ করে এক দুবার বলতেই অভিজ্ঞ মাতৃকূল ( সিস্টার , আয়া দিদি , পরিচিত পরিজন ) তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুলে , মাতৃত্বের সহ্য ক্ষমতার মাত্রা কতোটা হওয়া উচিত তার ব্যাখ্যানে আকুল ... আর আমি কাচুমাচু মুখে ভেবে ব্যাকুল ... এ ব্যাথা  বলা তো খুবই অন্যায় হয়েছে !!! একমাত্র কর্তা মশাই এর কলিগ দিদি , শান্তশ্রী দি ( আমার স্টীচ করেছিল)আমার কষ্টের কান্না দেখে তার নিদান দানে যত্নবান হয়েছিল । 

আর এবারের যাতনা কর্ণ পর্বের । বাপ্ রে বাপ .... ডান-কান এর ব্যাথায় কদিন শয়ন , খাওন সবই কান্না জুড়েছিল....আজ ওটি তে চিৎপাত হয়ে কানের উৎপাত নিরাময় হলো। নিরাময়ের অস্ত্রশস্ত্র দেখে একটু ঘাবড়ে গেলেও,  তখন মন বলছে ... কদিন যা চলছে , তার সমাপন খুব জরুরি। তবে যন্ত্র যেমনই হোক , যাতনা ছাড়াই যাতনার মুক্তি ঘটল অবশেষে । 

সব মিলিয়ে সপ্তাহ দুয়েক পর এক কানের তালা খুললো ... কান ফিরে পেয়ে আনন্দ পেলাম .... কানে কানে বলি আজ মন ভরে আহার নিদ্রায় মন দেবো...কদিন "আমি নেই আমাতে" হয়ে ছিলুম কিনা !!! ফিরেছি আজ ... এখন .... যদি কানে কানে কিছু বলে বঁধুয়া, সবই শুনে শুনে যেতে হবে.... শুনতে চললাম , তবে আসি আজ ।।

Online ধামাকা ১

 Online ধামাকা না হাঙ্গামা ?


Online কেনাকাটার যাতনা কিছু না কিছু থাকলেও,  বিষয়টা মোটের ওপর আমার খুব একটা খারাপ লাগে না ... কিন্তুক , বিগত সপ্তাহ খানেক এই যাতনায় যারপরনাই অতিষ্ঠ হলাম ... তোমাদের জানানোর গুরু দায়িত্ব তো আমার স্বেচ্ছাকৃতই ... । তো , শুরু থেকেই শুরু করি ... এই মুখ পুস্তিকার দরবারে নানা রকমের মনোলোভন সামগ্রী বিজ্ঞাপিত হয় । সে রকমের এক অপরিচিত সাইটের সামগ্রীর আকর্ষণ কাটাতে ব্যার্থ হয়ে , দুবার সাফল্যের সাথে জামার কাপড় আর বিছানার চাদর পেলাম আদরের সাথে । আদর এই জন্যই বলছি , এরা প্রতি কেনাকাটার সাথে ছোট্ট একটা উপহার আর হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়ে থাকেন ... যেটা প্রথম বারের সামগ্রী আসার পর, জানলাম।  আসল থেকে সুদ যে মিষ্টি তা তো আমরা জানিই 😃। আর চিঠি আমার ভীষণ পছন্দসই মাধ্যম,  যা এখন  প্রায় লুপ্ত 😔 । 

 সামনেই পূজো , সেই উপলক্ষ্যে দুই দিদির জন্য কুর্তির কাপড়ের অর্ডার দিলাম ওখানেই।  ভুল হল এই ... যে , এবারে সাহসী পদক্ষেপে অনলাইন পেমেন্ট করে দিলাম । আগের দুবার সে পথে হাঁটাহাঁটি করিনি । দুদিনের মাথায় দুখান অর্ডারের দুইখান পৃথক মেইল পেলাম...তাতে ওই অর্ডার সামগ্রী কবে পেতে পারি তার বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ।  মনটা বেশ খুশি খুশি হলো , খুশিকে সাদরে গ্রহণ করার মুহুর্তে ঠিকানা দেখে আক্কেল পুরো গুড়ুম !!! একটা সঠিক ঠিকানা হলেও,  অপরটির ঠিকানা ... গোকূল ধাম , ব্যাঙ্গালোর 🙄   .... এ কি কথা !!! আমি এ জীবনে এখনও ওবধি ওদিক মাড়াইনি , যতই এদিক ওদিক ঘুরি না কেন ??? 

অতএব পুনরায় মেইল , কাস্টমার কেয়ারে কেয়ারফুল হয়ে কথা চালাচালির পর ওনারা আবার ঠিকমত ঠিকানার মেইল ( কুরিয়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো )এর ড্রাফট আমাকে মেইল করলেন । মেইল করতে করতে আর দেখতে দেখতে ফেল করে যাওয়ার জোগাড় হলেও,  শেষমেষ খানিক নিশ্চিন্ত হলাম । কিন্তু .... পরন্তু .... picture আভি বাকি হ্যায় !!!! 

তাহলে ??? এসবের একদিনের মাথায় কুরিয়ার সার্ভিসের এস এম এস এসে আপাদমস্তক নাড়িয়ে দিল , parcel reached at Yashvantpur , will shortly delivered 🤔🙄🤨 

" ওমা !! সেকি কথা গো ? যশবন্তপুর তো সেই কর্ণাটকেই !!!! " 

  আবার কাস্টমার কেয়ারে ফোনাফুনির পর , খানিক ঠাণ্ডা হলাম ... চিন্তিত হতে মানা করলেন , সহানুভূতিশীল ম্যাডাম পালক্ । কিন্তু সন্ধ্যার মধ্যেই এস এম এস ও মেইল মারফত জানলাম parcel delivered 🙄

 কয় কি ?? কৈ পারসেল ?? কখন ?? ... কি গেরো রে ভাই ... আবার মেইল করে ফেললাম। এত মেইল কখনো করেছি বলে মনে পড়ে না , শুনি অন্যদের করতে ... বিপদ-আপদ বড়ই বালাই । এ সার সত্য আবার বুঝলাম। ফোন পাওয়ার উপায় নাই , তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে সময় রাতের দিকে , ও তরফের অফিস বন্ধ । অনেক খোঁজাখুঁজির পর একখান্ নম্বর পাওয়া গেল ম্যাসেজ করার মতন । লেগে পড়লাম হিন্দী , ইংরেজী যা হাতে গোনা ভাষা জানা , তা apply করে । সত্ত্বর উত্তর এল ...we will  contact you tomorrow।  

এবার জানাতে হবে .... কাকে ?? কাকে আবার  ?? যাকে সবই সময় সুযোগ মতন বলি , পছন্দের বিষয় সাথে সাথে আর না-পসন্দ বিষয় সময় মতন,  সুযোগ  বুঝে ... । বললাম .... কি কাণ্ড!! অবাক কাণ্ড!! একটুও বকুনি দিল না 🤔 হল টা কি ?? আমি তো হারে রে রে রে .... শুনে নিয়ে ....  ছেড়ে দে রে দে রে বলব বলে প্রস্তুতি নিয়েই ফোন করেছিলাম। ফোন কেন ?? নয় কেন ? সেদিন তো ২৪ঘন্টা অন কল ডিউটি .... । যাক ... উত্তর এল ... " মেইল করেছ , এবার দেখা যাক অপেক্ষা করে ... " ।

পরেরদিন মনকে বুঝিয়ে ঠাণ্ডা করলাম,  যা গেছে তা যাক 🎶🎶। একবার টেনিদা সীরিজের এক গল্পে প্যালারাম বলেছিল যে , পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর কিছু না পারলে প্রথমে হাত পা ঠাণ্ডা , তারপর কান ভোঁ ভোঁ ... তারপর ঘাম বেরিয়ে নিশ্চিত পারবে না জেনে কবি বা আর্টিস্ট হয়ে খাতায় কবিতা বা ছবি আঁকা খুব স্বাভাবিক ঘটনা ... আমার যেন ওমন ধারাই হল .... কি বা হবে , সবই মায়া । আমার ডিপার্টমেন্টের হেড দিদি যদি ব্যাগ থেকে ৪০,০০০/- পকেটমারী হওয়ার পর খানিক  ধাতস্ত হয়ে বলতে পারেন , যে নিয়েছে , তার বোধহয় খুব টাকার দরকার ছিল !!! তো আমি একই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে সামান্য কটি টাকার দুঃখে ব্যাকুল হয়ে পড়ব ?? যেখানে গত বছরও বিখ্যাত বিদেশী জঙ্গলের নামধারী সাইটের অর্ডারে একবার টাকা খোয়া গেছে সামান্য । তবে ভুল হলেও আমি বিশ্বাস করতে ভালবাসি .... পরে ওখান থেকে আরো জিনিস কিনলেও আর কিছু ভুল হয়নি । 

যখন সব আশা ছেড়ে দিলাম ... পরেরদিন দুপুরে ফোন পেলাম ওদের কাস্টমার কেয়ারের পালক্ ম্যাডামের তরফ থেকে ... " শুচিস্মিতা জী সে বাত্ কর সকতি হুঁ ? " 

হাজার বার কর সাকতি হো ... বিলকুল কর সাকতি হো ...  আমি তো দুখান ভাষা মিলিয়ে জুলিয়ে সন্ধি করে বাত করব বলেই ব্যাইঠি হুঁ ।।। 

                      (   পরের বার শেষ করি , কেমন ???  )

ম্যাও কথা

 কদিন সময়টা ভাল যাচ্ছে না । এমনিতেই করোনাকালে সর্বাঙ্গীন ভাবে বেশ খারাপই চলছে সময়। কিন্তু ব্যাক্তিগত খারাপ ভাল বলেও একখান্ ব্যাপার আছেই । দিন কতক আগে ডিমের পাকোড়া করতে গিয়ে , যেই না সিদ্ধ ডিমের গায়ে কোটিং দিয়ে তেলে ছেড়েছি ... বলা নেই,  কওয়া নেই বেশ মিনিট পাঁচেক পর দুম ফটাস্ !!! একবার নয় বারংবার , রান্না ঘরময় যুদ্ধ কালীন তৎপরতায় মিশাইল মানে ডিম কড়াইতে ছাড়ছি , পরেই নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি !!! কিন্তু প্রথম অতর্কিত আক্রমণে বাঁ হাতে খান ছয়েক আর ডান হাতে একখান ফোসকা বাগিয়েছি , যার মধ্যে দু তিন খান আবার  টিপের পাতার ১০/১২ সাইজের । অন্যান্য গুলোও ৩/৪/৫ এর মধ্যেই আছে । এক ফোঁটা  বাড়িয়ে বা চোখের আন্দাজে বলছি না ... একদম মেপে দেখে নিয়েছি । দুই খান তো ফুলে ছোট্ট বেলুনের মতো হলো ... কর্তা মশাই মেয়ের সাথে যুক্তি করে সিরিঞ্জ এনে তা থেকে জল বের করে দিলেন ... কখন জানো ? এক ছাত্রকে তখন তার সমস্যার সমাধান বাতলে দিচ্ছিলাম দূরাভাষে।  তবে একদম সত্যিই মোটেও লাগেনি কো । এখন দাওয়াই এর প্রলেপ লেপন চলছে , কখনও আমি , কখনও কন্যা ।তার বাবাও প্রথমে দিয়ে ছিলেন একদিন । কিন্তুক.... ওই সিরিঞ্জ যে কিছুই নয় , কাল বুঝলাম হাঁড়ে হাঁড়ে । কেন না কাল কিছু স্টুডেন্ট এর মোবাইল নম্বর জোগাড় করতে কলেজ চত্বরে হানা দিয়েছিলাম। কারণ চেক্ লিস্টিতে তাদের নাম থাকলেও,  তারা বেপাত্তা , এদিকে পরীক্ষা আসন্ন।  আমরাও বিপন্ন...। কাজের নিষ্পত্তি হলো না , দীপঙ্কর দা আর আমি মিলে অনেক ফাইল ঘাটাঘাটি করেও নিট ফল শূন্য। ফিরতি পথে শূনশান একতলায় অবতীর্ণ হয়ে দরজার সামনে এক বাঘের মাসির দেখা পেলাম,  তিনি তখন ঘুমন্ত। বাইরের দরজা আমার থেকে দূরে আর সেটা বন্ধ,  পিছনের দরজার দিকে যেতে যেতে বললাম ম্যাও কে ... তোরা এখন কলেজে ? এদিকে আমরা , ছাত্রছাত্রী সবাই ঘরে বন্দী !! সেই শুনেই ঘুমন্ত ম্যাও জাগন্ত হয়ে বললেন ... ম্যাও।  বেশ impressed হয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে ছবি তুলতেই সে আবার বলল... ম্যাও।  আমি অবাক হয়ে বললুম ... " তোকে কি আর দেবো , আমার কাছে কোন কিছু খাবার তো নেই। " বলতেই সে এগিয়ে আসতে লাগল , ভাবলাম কি হলো ?? বলতে বলতেই পায়ের কাছে হাজির , ওদের তো পায়ে মাথা ঘসার স্বভাব, আমার জানা , পা সরাই ও নি , ও বাবা পুরো আউট অফ সিলেবাস অ্যাটাক !!!! চীৎকার করতেই ছেড়ে দিল , কিন্তু ভাল মতই যে জাপটে দাঁত আর হাতের কাজ করেছে , বুঝলাম আরো একটা কাজ মিটিয়ে বাড়ি এসে । 

বাড়িতে বলতেই ...আচরণ দেখে মনে হল ... এ ও কি কামড়ে দেবে ?? জলের নিচে  আধা ঘন্টা পা মেলে বসার নির্দেশ দিয়ে সে ঘরে দোর দিল , ফোনে দেখা দেখি করছিল কি কি দাওয়াই দেওয়া যায় , তার লিস্ট।

ঘরে ফেরার পর চরণ কমল ( কলম নয় কো ) এর ছবি পাঠালো জুনিয়র দুই কলিগকে । লজ্জিত হলেও বিপদ বড়ই বালাই।  কন্যা একবার জিজ্ঞেস করেছিল তার বাবাকে , মাকে কেন কামড়ালো , এর উত্তর উচ্চগ্রামে ঘরে আঁছড়ে পড়ল...বিড়ালকে আর তোমার মাকে জিজ্ঞেস করো 🤫🙄

সে বেচারি বেড়ালকে কোথায় পাবে , আমার কাছেই প্রশ্ন নিয়ে এল ... চা করছিলাম,  যদি খেয়ে একটু রাগ কমে । কিন্তু এখনও গুম । কাকে কাকে ফোনে বলতে শুনলাম... জানো শিল্পী কি করেছে ??? 

আচ্ছা তোমরাই বলো করল তো বেড়াল , আমি কি করলুম ?? 

ওর ও কলেজে মানুষ না দেখে দেখে ওমন মেজাজ হয়েছে । এই করোনা কাউকে রেহাই দেয়নি দেখছি !! আর কলেজে আছিস বলেছি বটে , ক্লাস নেবো তো বলিনি রে বাবা !! পড়তে কারো ভাল লাগে না দেখা যাচ্ছে ।

দুই দেওর বিধান দিলো ছবিছাবা দেখে প্রথমে  দুই দাগ ওষুধ দানের , কিছু পরে আবার ফোন করে আরো এক দাগের যোগ হল । কন্যাকে রিমির জিম্মায় রেখে রওনা দিলাম.... ওরে বাবা তিনের নামে যে কত ধরণের ইনজেকশন নিলাম বলার নয় । আসলে টিটেনাস আর অ্যান্টিরেবিশ তো জানতামই,  এবার জ্ঞান বাড়ল ... কামড়াকামড়িও ডিগ্রি ধারি  !!!! আমার পায়ে যেহেতু দাঁতের দাগ ও কিছু কিছু আঁচড় স্পষ্ট,  কাজেই ও 3rd grade এর সাব্যস্ত হলো EEDF এর এমারজেন্সিতে । এ ক্ষেত্রে হস্ত যুগলে আরো দুই বার ছুঁচ ফুটিয়ে মার্কিং করে স্ক্রিন টেস্টিং এর মতন সাদৃশ্য যুক্ত শব্দের প্রয়োগ হল , ব্যাথাও অল্প লাগল । বুঝলে তো ? Skin testing হল ।চারবার হয়ে গেল , সিস্টার দিদিকে বললাম আরো কটা দেবেন ?? এক গাল হেসে তিনি বললেন,  সবে তো শুরু করলাম । বাপ রে !! এ বলে কি ?? ডিগ্রি বেশি হলে আরেক ধরণের ইনজেকশন এর অর্ধেক কোমরে আর বাকি অর্ধেক ক্ষতর আশেপাশে দিতে হয় ... এ তথ্যও জানলাম। সেই মতন এই সব ইনজেকশন শুয়ে গ্রহন করতে হলো । একবার সিস্টার দিদি বললেন যে সবটা ক্ষত নাকি কভার হবে না !! বলে কি ?? ওখানকার ডক্টর দিদি বললেন,  দাঁতের দাগই কভার করো ,হাল্কা আঁচড় কভার না করলেও হবে , অন্য আঁচড় তো খানিক কভার করেছ !! উপুড় হয়ে শুয়ে ভাবলাম. .. উনি সিস্টার নাকি রিপোর্টার!!! 

কর্তা মশাই কে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম. .. এই ছুঁচের প্রভাব কি চিরকালীন,  মানে আজীবন??? ভয়ানক চোখ পাকিয়ে উত্তর দিলেন .... " এক কালীন ,  জীবনে যতবার, এ ততবার " 🙄😢😭