Online ধামাকা না হাঙ্গামা ?
Online কেনাকাটার যাতনা কিছু না কিছু থাকলেও, বিষয়টা মোটের ওপর আমার খুব একটা খারাপ লাগে না ... কিন্তুক , বিগত সপ্তাহ খানেক এই যাতনায় যারপরনাই অতিষ্ঠ হলাম ... তোমাদের জানানোর গুরু দায়িত্ব তো আমার স্বেচ্ছাকৃতই ... । তো , শুরু থেকেই শুরু করি ... এই মুখ পুস্তিকার দরবারে নানা রকমের মনোলোভন সামগ্রী বিজ্ঞাপিত হয় । সে রকমের এক অপরিচিত সাইটের সামগ্রীর আকর্ষণ কাটাতে ব্যার্থ হয়ে , দুবার সাফল্যের সাথে জামার কাপড় আর বিছানার চাদর পেলাম আদরের সাথে । আদর এই জন্যই বলছি , এরা প্রতি কেনাকাটার সাথে ছোট্ট একটা উপহার আর হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়ে থাকেন ... যেটা প্রথম বারের সামগ্রী আসার পর, জানলাম। আসল থেকে সুদ যে মিষ্টি তা তো আমরা জানিই 😃। আর চিঠি আমার ভীষণ পছন্দসই মাধ্যম, যা এখন প্রায় লুপ্ত 😔 ।
সামনেই পূজো , সেই উপলক্ষ্যে দুই দিদির জন্য কুর্তির কাপড়ের অর্ডার দিলাম ওখানেই। ভুল হল এই ... যে , এবারে সাহসী পদক্ষেপে অনলাইন পেমেন্ট করে দিলাম । আগের দুবার সে পথে হাঁটাহাঁটি করিনি । দুদিনের মাথায় দুখান অর্ডারের দুইখান পৃথক মেইল পেলাম...তাতে ওই অর্ডার সামগ্রী কবে পেতে পারি তার বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ। মনটা বেশ খুশি খুশি হলো , খুশিকে সাদরে গ্রহণ করার মুহুর্তে ঠিকানা দেখে আক্কেল পুরো গুড়ুম !!! একটা সঠিক ঠিকানা হলেও, অপরটির ঠিকানা ... গোকূল ধাম , ব্যাঙ্গালোর 🙄 .... এ কি কথা !!! আমি এ জীবনে এখনও ওবধি ওদিক মাড়াইনি , যতই এদিক ওদিক ঘুরি না কেন ???
অতএব পুনরায় মেইল , কাস্টমার কেয়ারে কেয়ারফুল হয়ে কথা চালাচালির পর ওনারা আবার ঠিকমত ঠিকানার মেইল ( কুরিয়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো )এর ড্রাফট আমাকে মেইল করলেন । মেইল করতে করতে আর দেখতে দেখতে ফেল করে যাওয়ার জোগাড় হলেও, শেষমেষ খানিক নিশ্চিন্ত হলাম । কিন্তু .... পরন্তু .... picture আভি বাকি হ্যায় !!!!
তাহলে ??? এসবের একদিনের মাথায় কুরিয়ার সার্ভিসের এস এম এস এসে আপাদমস্তক নাড়িয়ে দিল , parcel reached at Yashvantpur , will shortly delivered 🤔🙄🤨
" ওমা !! সেকি কথা গো ? যশবন্তপুর তো সেই কর্ণাটকেই !!!! "
আবার কাস্টমার কেয়ারে ফোনাফুনির পর , খানিক ঠাণ্ডা হলাম ... চিন্তিত হতে মানা করলেন , সহানুভূতিশীল ম্যাডাম পালক্ । কিন্তু সন্ধ্যার মধ্যেই এস এম এস ও মেইল মারফত জানলাম parcel delivered 🙄
কয় কি ?? কৈ পারসেল ?? কখন ?? ... কি গেরো রে ভাই ... আবার মেইল করে ফেললাম। এত মেইল কখনো করেছি বলে মনে পড়ে না , শুনি অন্যদের করতে ... বিপদ-আপদ বড়ই বালাই । এ সার সত্য আবার বুঝলাম। ফোন পাওয়ার উপায় নাই , তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে সময় রাতের দিকে , ও তরফের অফিস বন্ধ । অনেক খোঁজাখুঁজির পর একখান্ নম্বর পাওয়া গেল ম্যাসেজ করার মতন । লেগে পড়লাম হিন্দী , ইংরেজী যা হাতে গোনা ভাষা জানা , তা apply করে । সত্ত্বর উত্তর এল ...we will contact you tomorrow।
এবার জানাতে হবে .... কাকে ?? কাকে আবার ?? যাকে সবই সময় সুযোগ মতন বলি , পছন্দের বিষয় সাথে সাথে আর না-পসন্দ বিষয় সময় মতন, সুযোগ বুঝে ... । বললাম .... কি কাণ্ড!! অবাক কাণ্ড!! একটুও বকুনি দিল না 🤔 হল টা কি ?? আমি তো হারে রে রে রে .... শুনে নিয়ে .... ছেড়ে দে রে দে রে বলব বলে প্রস্তুতি নিয়েই ফোন করেছিলাম। ফোন কেন ?? নয় কেন ? সেদিন তো ২৪ঘন্টা অন কল ডিউটি .... । যাক ... উত্তর এল ... " মেইল করেছ , এবার দেখা যাক অপেক্ষা করে ... " ।
পরেরদিন মনকে বুঝিয়ে ঠাণ্ডা করলাম, যা গেছে তা যাক 🎶🎶। একবার টেনিদা সীরিজের এক গল্পে প্যালারাম বলেছিল যে , পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর কিছু না পারলে প্রথমে হাত পা ঠাণ্ডা , তারপর কান ভোঁ ভোঁ ... তারপর ঘাম বেরিয়ে নিশ্চিত পারবে না জেনে কবি বা আর্টিস্ট হয়ে খাতায় কবিতা বা ছবি আঁকা খুব স্বাভাবিক ঘটনা ... আমার যেন ওমন ধারাই হল .... কি বা হবে , সবই মায়া । আমার ডিপার্টমেন্টের হেড দিদি যদি ব্যাগ থেকে ৪০,০০০/- পকেটমারী হওয়ার পর খানিক ধাতস্ত হয়ে বলতে পারেন , যে নিয়েছে , তার বোধহয় খুব টাকার দরকার ছিল !!! তো আমি একই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে সামান্য কটি টাকার দুঃখে ব্যাকুল হয়ে পড়ব ?? যেখানে গত বছরও বিখ্যাত বিদেশী জঙ্গলের নামধারী সাইটের অর্ডারে একবার টাকা খোয়া গেছে সামান্য । তবে ভুল হলেও আমি বিশ্বাস করতে ভালবাসি .... পরে ওখান থেকে আরো জিনিস কিনলেও আর কিছু ভুল হয়নি ।
যখন সব আশা ছেড়ে দিলাম ... পরেরদিন দুপুরে ফোন পেলাম ওদের কাস্টমার কেয়ারের পালক্ ম্যাডামের তরফ থেকে ... " শুচিস্মিতা জী সে বাত্ কর সকতি হুঁ ? "
হাজার বার কর সাকতি হো ... বিলকুল কর সাকতি হো ... আমি তো দুখান ভাষা মিলিয়ে জুলিয়ে সন্ধি করে বাত করব বলেই ব্যাইঠি হুঁ ।।।
( পরের বার শেষ করি , কেমন ??? )
No comments:
Post a Comment