কদিন সময়টা ভাল যাচ্ছে না । এমনিতেই করোনাকালে সর্বাঙ্গীন ভাবে বেশ খারাপই চলছে সময়। কিন্তু ব্যাক্তিগত খারাপ ভাল বলেও একখান্ ব্যাপার আছেই । দিন কতক আগে ডিমের পাকোড়া করতে গিয়ে , যেই না সিদ্ধ ডিমের গায়ে কোটিং দিয়ে তেলে ছেড়েছি ... বলা নেই, কওয়া নেই বেশ মিনিট পাঁচেক পর দুম ফটাস্ !!! একবার নয় বারংবার , রান্না ঘরময় যুদ্ধ কালীন তৎপরতায় মিশাইল মানে ডিম কড়াইতে ছাড়ছি , পরেই নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি !!! কিন্তু প্রথম অতর্কিত আক্রমণে বাঁ হাতে খান ছয়েক আর ডান হাতে একখান ফোসকা বাগিয়েছি , যার মধ্যে দু তিন খান আবার টিপের পাতার ১০/১২ সাইজের । অন্যান্য গুলোও ৩/৪/৫ এর মধ্যেই আছে । এক ফোঁটা বাড়িয়ে বা চোখের আন্দাজে বলছি না ... একদম মেপে দেখে নিয়েছি । দুই খান তো ফুলে ছোট্ট বেলুনের মতো হলো ... কর্তা মশাই মেয়ের সাথে যুক্তি করে সিরিঞ্জ এনে তা থেকে জল বের করে দিলেন ... কখন জানো ? এক ছাত্রকে তখন তার সমস্যার সমাধান বাতলে দিচ্ছিলাম দূরাভাষে। তবে একদম সত্যিই মোটেও লাগেনি কো । এখন দাওয়াই এর প্রলেপ লেপন চলছে , কখনও আমি , কখনও কন্যা ।তার বাবাও প্রথমে দিয়ে ছিলেন একদিন । কিন্তুক.... ওই সিরিঞ্জ যে কিছুই নয় , কাল বুঝলাম হাঁড়ে হাঁড়ে । কেন না কাল কিছু স্টুডেন্ট এর মোবাইল নম্বর জোগাড় করতে কলেজ চত্বরে হানা দিয়েছিলাম। কারণ চেক্ লিস্টিতে তাদের নাম থাকলেও, তারা বেপাত্তা , এদিকে পরীক্ষা আসন্ন। আমরাও বিপন্ন...। কাজের নিষ্পত্তি হলো না , দীপঙ্কর দা আর আমি মিলে অনেক ফাইল ঘাটাঘাটি করেও নিট ফল শূন্য। ফিরতি পথে শূনশান একতলায় অবতীর্ণ হয়ে দরজার সামনে এক বাঘের মাসির দেখা পেলাম, তিনি তখন ঘুমন্ত। বাইরের দরজা আমার থেকে দূরে আর সেটা বন্ধ, পিছনের দরজার দিকে যেতে যেতে বললাম ম্যাও কে ... তোরা এখন কলেজে ? এদিকে আমরা , ছাত্রছাত্রী সবাই ঘরে বন্দী !! সেই শুনেই ঘুমন্ত ম্যাও জাগন্ত হয়ে বললেন ... ম্যাও। বেশ impressed হয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে ছবি তুলতেই সে আবার বলল... ম্যাও। আমি অবাক হয়ে বললুম ... " তোকে কি আর দেবো , আমার কাছে কোন কিছু খাবার তো নেই। " বলতেই সে এগিয়ে আসতে লাগল , ভাবলাম কি হলো ?? বলতে বলতেই পায়ের কাছে হাজির , ওদের তো পায়ে মাথা ঘসার স্বভাব, আমার জানা , পা সরাই ও নি , ও বাবা পুরো আউট অফ সিলেবাস অ্যাটাক !!!! চীৎকার করতেই ছেড়ে দিল , কিন্তু ভাল মতই যে জাপটে দাঁত আর হাতের কাজ করেছে , বুঝলাম আরো একটা কাজ মিটিয়ে বাড়ি এসে ।
বাড়িতে বলতেই ...আচরণ দেখে মনে হল ... এ ও কি কামড়ে দেবে ?? জলের নিচে আধা ঘন্টা পা মেলে বসার নির্দেশ দিয়ে সে ঘরে দোর দিল , ফোনে দেখা দেখি করছিল কি কি দাওয়াই দেওয়া যায় , তার লিস্ট।
ঘরে ফেরার পর চরণ কমল ( কলম নয় কো ) এর ছবি পাঠালো জুনিয়র দুই কলিগকে । লজ্জিত হলেও বিপদ বড়ই বালাই। কন্যা একবার জিজ্ঞেস করেছিল তার বাবাকে , মাকে কেন কামড়ালো , এর উত্তর উচ্চগ্রামে ঘরে আঁছড়ে পড়ল...বিড়ালকে আর তোমার মাকে জিজ্ঞেস করো 🤫🙄
সে বেচারি বেড়ালকে কোথায় পাবে , আমার কাছেই প্রশ্ন নিয়ে এল ... চা করছিলাম, যদি খেয়ে একটু রাগ কমে । কিন্তু এখনও গুম । কাকে কাকে ফোনে বলতে শুনলাম... জানো শিল্পী কি করেছে ???
আচ্ছা তোমরাই বলো করল তো বেড়াল , আমি কি করলুম ??
ওর ও কলেজে মানুষ না দেখে দেখে ওমন মেজাজ হয়েছে । এই করোনা কাউকে রেহাই দেয়নি দেখছি !! আর কলেজে আছিস বলেছি বটে , ক্লাস নেবো তো বলিনি রে বাবা !! পড়তে কারো ভাল লাগে না দেখা যাচ্ছে ।
দুই দেওর বিধান দিলো ছবিছাবা দেখে প্রথমে দুই দাগ ওষুধ দানের , কিছু পরে আবার ফোন করে আরো এক দাগের যোগ হল । কন্যাকে রিমির জিম্মায় রেখে রওনা দিলাম.... ওরে বাবা তিনের নামে যে কত ধরণের ইনজেকশন নিলাম বলার নয় । আসলে টিটেনাস আর অ্যান্টিরেবিশ তো জানতামই, এবার জ্ঞান বাড়ল ... কামড়াকামড়িও ডিগ্রি ধারি !!!! আমার পায়ে যেহেতু দাঁতের দাগ ও কিছু কিছু আঁচড় স্পষ্ট, কাজেই ও 3rd grade এর সাব্যস্ত হলো EEDF এর এমারজেন্সিতে । এ ক্ষেত্রে হস্ত যুগলে আরো দুই বার ছুঁচ ফুটিয়ে মার্কিং করে স্ক্রিন টেস্টিং এর মতন সাদৃশ্য যুক্ত শব্দের প্রয়োগ হল , ব্যাথাও অল্প লাগল । বুঝলে তো ? Skin testing হল ।চারবার হয়ে গেল , সিস্টার দিদিকে বললাম আরো কটা দেবেন ?? এক গাল হেসে তিনি বললেন, সবে তো শুরু করলাম । বাপ রে !! এ বলে কি ?? ডিগ্রি বেশি হলে আরেক ধরণের ইনজেকশন এর অর্ধেক কোমরে আর বাকি অর্ধেক ক্ষতর আশেপাশে দিতে হয় ... এ তথ্যও জানলাম। সেই মতন এই সব ইনজেকশন শুয়ে গ্রহন করতে হলো । একবার সিস্টার দিদি বললেন যে সবটা ক্ষত নাকি কভার হবে না !! বলে কি ?? ওখানকার ডক্টর দিদি বললেন, দাঁতের দাগই কভার করো ,হাল্কা আঁচড় কভার না করলেও হবে , অন্য আঁচড় তো খানিক কভার করেছ !! উপুড় হয়ে শুয়ে ভাবলাম. .. উনি সিস্টার নাকি রিপোর্টার!!!
কর্তা মশাই কে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম. .. এই ছুঁচের প্রভাব কি চিরকালীন, মানে আজীবন??? ভয়ানক চোখ পাকিয়ে উত্তর দিলেন .... " এক কালীন , জীবনে যতবার, এ ততবার " 🙄😢😭
No comments:
Post a Comment