Wednesday, 20 December 2023

একাকী

 মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। এমনটা ছোট থেকেই জানি। মানি ও। আমরা একাকী থাকার কথা ভাবতেই পারি না। কেউ কেউ by choice একাকিত্ব পছন্দ করে। সে কথা সম্পূর্ণ আলাদা। আমার ছোটবেলার জগতে শুধু ই মা আর আমার আনাগোনা ছিল। বাইরের জগতের প্রবেশ হোতো অল্পস্বল্প, তাই একটু অন্তর্মুখী ছিলাম। তবে তার জন্য একাকী থাকার বিলাসিতা আমার মধ্যে কখনো আধিপত্য বিস্তার করে নি। মানুষ জনের সান্নিধ্য আমার দারুন লাগে। সবার সাথে হয়তো মনের তরঙ্গ মেলেনা। তো কি ? কবি গুরু তো বলেছেন ই ...." তোমার মাপে হ‌য়নি সবাই, তুমিও হ‌ওনি সবার মাপে , তুমি মরো কারো ঠেলায় , কেউ বা মরে তোমার চাপে ..... "

যাক্ গে , কথা হচ্ছিল, একাকী থাকা , না থাকা নিয়ে..... । আমার Facebook বন্ধু রা সকলেই জানো আমার ম্যাও ( বিড়াল ) সাইনীর কথা। তাকে ছেড়ে এলাম । 

যদিও তার সাথে দিনে দুবার দেখা হয়।আমি দুবেলা তাকে খেতে দিতে যাই আমাদের সেই বহু স্মৃতি ছড়ানো বাসা বাড়িতে। সে আমাদের অপেক্ষায় বসে থাকে , ও বাড়ির পাঁচিলে। কখনো আমি , কখনো আমার কর্তা .... আমরা পালা করে যাই। যেদিন কোন কারণে একটু দেরি হয় .... বেশ অভিযোগ ও জানায়। সব থেকে মজার ব্যাপার , এক হুলো বিড়াল এখন তার ভারী বন্ধু হয়েছে। ভাগযোগ করে ই খাবার টা খায়। 

ওর মা যতদিন ছিল, তখন মা মেয়ের ভাব ও বেশ জম্পেশ ই ছিল। 

এখানে আনার চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। ও বাড়ি ও ছাড়বে ই না। তাই একাকিত্ব কাটানোর জন্য বন্ধু ও জোগাড় করে ফেলেছে।

Tuesday, 19 December 2023

হারিয়ে খুঁজি

 দীঘা.... প্রথমবার বসতে শেখার মূহুর্ত ক্যামেরা বন্দি করেছিল ছোটদি .... তখন তো যে কোনো মূল্যবান সময় কে মনের ক্যানভাসে রাখার ই রেওয়াজ... কিন্তু বেড়াতে যাওয়ার কারণ জন্য ক্যামেরা ছিল মজুত আর তাই এখন সেই নেই আমিকে দেখছি .... আর তা দেখে নিজে মুগ্ধ না হয়ে কেউ পারে কি ?? এক আধজন থাকলেও , আমি তাদের দলে নেই নেই।

৯ মাস বয়সে অন্নপ্রাশনের পরের দিন ... উঠল বাই, দীঘা যাই.... সবাই মিলে দল বেঁধে.... গল্প টা শোনা মায়ের কাছে ই । 

পরবর্তী কালে জ্ঞানত দীঘা গিয়ে ( মাধ্যমিক পরীক্ষার পর ) মায়ের জোরাজুরি তে একরাশ বিরক্তি নিয়ে সেই গেস্ট হাউস খুঁজতে গিয়েছিলাম... পেয়ে ও ছিলাম খোঁজ...দেখা। যেটা তখন বুঝতে পারিনি, আজ জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে বুঝতে পারি... মা সেদিন কি খুঁজতে গিয়েছিলেন। ফিরে দেখতে গিয়েছিলেন সবার সাথে, বিশেষ করে বাবার সাথে কাটানো সেই দিনগুলো কে .... যেখানে অতীত কথা বলে ।

আমরা অনেক সময় , অবুঝ হয়ে আঘাত করি নিজের জনকে। সেদিন আমার বিরক্তি হয়তো মাকে আঘাত করেছিল অথবা ওই টুকু প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায় সে বিরক্তি ধর্তব্যের মধ্যে আনেনি।

মা চলে যাওয়ার পর , দীঘা গিয়ে একদিন সকাল সকাল খুঁজতে বেরলাম সেই গেস্ট হাউস। সেবার ওল্ড দীঘা য় ছিলাম। কন্যা র‌ইল তার বাবার কাছে হোটেলে। সেবারের স্মৃতি সাথ দিল ... একে তাকে জিজ্ঞেস করে পেয়েও গেলাম।এখন আর গেস্ট হাউস নয়। হোটেল হয়েছে। সাহস করে ঢুকে পড়লাম। আলাপ জমালাম ম্যানেজার এর সাথে। সেবার ফিরতি পথে তিনজন আবার গেলাম ... ছবি ও তুললাম.... । অনেক ভালো লাগা নিয়ে ফিরলাম। মাকে বলা হলো না ... এই আফসোস। 

একবার ওখানে থাকার ইচ্ছা র‌ইল। দেখা যাক... সে সুযোগ মেলে কিনা !!!!

Monday, 18 December 2023

চড়াই কাহন

 "চড়াই চড়াই চড়াই টি     " 

ফুরুৎ ফুরুৎ ওড়ে

কড়াকাঠের ভিতর থেকে 

বেরয় সে কোন ভোরে ? "

**********

" চড়াই পাখি দারোগা

ডিম পেড়েছে বারোটা

একটা ডিম নষ্ট 

চড়াই পাখির কষ্ট " 

**********


এ সব ছড়ার ছড়ানো সম্ভার থেকেই সেই কোন কালে চড়াই এর সাথে আলাপ।  তারপর চড়াই নিয়ে লেখা মজার মজার গল্পের সাথে সাথে , আসে পাশে , বাড়ির আনাচে কানাচে চড়াই দম্পতির পাতা সংসার দেখতে দেখতে ওরা চিরদিন ই খুব আপনারজন হয়ে গেছে । আমাদের কুদঘাটের বাড়িতে ঘরে ডুকে , আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের সাথে তুমুল  ঝগড়া করতে দেখেছি । মা খুব মজা পেতেন , সেই ঝগড়া দেখতে । মা চিনিয়েছিলেন , ওদের দেবাদেবীকে ( কে নারী ? কে পুরুষ? ) । কুদঘাটের বাড়ির মতনই প্রথম থেকেই এখানেও এদের অবাধ বিচরণ। মাঝখানের কটা বছর আমার পোষ্য শুভ্র র ( কুকুর 🐶) জন্য ওরা এ পথ মাড়াতো না । কিন্তু এখন সে সব আপদ-বিপদ নেই।  মায়ের মতন আমিও নিজের খেয়ালে ওদের সাথে কথা বলি । ওরা না বুঝুক , আমার বেশ মজা লাগে। 

তবে ওরাও এখন বেশ যুগোপযুগি হয়েছে । একখান বাসায় পোষাচ্ছে না । বিষয়ী হয়েছে দেখা যাচ্ছে । সারা বছর আমাদের আবাসনের বিভিন্ন অংশে , বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ওদের তৈরী বাসায় থাকে । আমাদের বারান্দার বাসায় ডিম পেড়ে , তা দিয়ে , ছানা ভুমিষ্ঠ করে , তাকে পরিণত পাখি ( মানুষ করে ) করে .... তারপর সবাই মিলে বাসা বদল করে । ফুরুৎ করে উড়ে ... আমি বলি এটা মেটার্নিটি আর শিশু বিভাগ। আমার কর্তা বলে এটা নাকি ওদের নিরাপদ আশ্রয় বা বলা ভাল বাপের বাড়ি । তা হতে পারে , ওদিকে মধুমিতা বৌদির বাড়িও কোন চড়াই মায়ের বাপের বাড়ি । 

এখন ওদের দাপটে বারান্দায় যাওয়ার উপায় নেই প্রায়।  কি ঝগড়া করতে পারে , মাগো !!!! 

ছানা হয়েছে ... তাদের খাবার খাওয়ার বহর অনেকটা আমাদের মতই 🤣🤣🤣🤣। কদিন বাদেই উড়লো বলে !!! এর মধ্যেই ওড়ার ট্রেনিং চালু হয়ে গেছে । আবার ফাঁকা বাসা আগলে , সামলে রাখতে হবে ... পরের বারের জন্য !!! বাপের বাড়ি কি মুখের কথা !!!!

Thursday, 14 December 2023

দন্তরুচীকৌমুদি

 আমার বাড়ির নাম শিল্পী হলেও,  গাল ভরা ভালো নাম শুচিস্মিতা । যা আমার মামীমা দিয়েছিলেন। মাধ্যমিকের বাংলা ব্যাকরণের এক কথায় প্রকাশে জেনেছিলাম,  শুচিস্মিতা  নামের অর্থ .. যে নারীর হাসি পবিত্র। আত্মীয় বন্ধুদের মধ্যে কেউ একজন আমাকে পবিত্র হাসি বলেই সম্বোধন করতেন । তিনি যে কিনি , তা মনে পড়ছে না একেবারেই 🤔 তো কথা হচ্ছিল নাম নিয়ে । তবে এ হল গিয়ে আসল বিষয়ের  গৌড়চন্দ্রিকা । হাসি পবিত্র কিনা তা জনতা বলবে , তবে আমি হাসি কান্না সবেতেই সিদ্ধহস্ত ও অশ্রুমতিও বলা যায় । আমার অতিরিক্ত হাসিতেও অনেকে গালে হাত দিয়ে বলে .... তুই হাসছিস না কাঁদছিস ? চোখে জল কেন ? এমনটা যাদবপুরে হিরন্ময় স্যারের ক্লাসে হামেসাই হোতো , আপনভোলা স্যার পড়ানোর সময় নিজের অজান্তেই অনেক মজার কাণ্ড করতেন , সবাই হেসে খুন হতাম । 

তবে দন্ত বিকশিত করে মোটেই হাসতাম না । কিন্তু তাও যে কেন দাঁতের ঠাণ্ডা লাগল কে জানে ?? কনকন , শির শির সব রকমের অভিজ্ঞতার পাঠ নিচ্ছিলাম বিগত বছর খানেক ধরে । বলতে নেই এবারের দন্তশূল বামপন্থী । আগের ব্যাথা বেদনা গুলো দক্ষিণ পন্থী ছিল । বোধ করি ব্যালেন্স হয় এ ভাবেই। আর আমার কর্তা মশাই তো আমার যে কোন সমস্যার সমাধানে তখনই আগুয়ান হন , যখন সেটা বেশ গভীরে যায় । পারিবারিক সবার ক্ষেত্র  এক নয় । নানান জনের জন্য নানান বিধান । যেমন কন্যার কিছু হলেই হামলে পরে সামলে দেন , গভীরে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। 🤫😷অনুপমের গানের কথা অনুযায়ী আমার দন্তশূল যখন প্রায় দন্ত মূল ধরে টান দিল গভীরে যাও বলে ঠিক তখন কর্তা মশাইও নিয়ে গেলেন যথাস্থানে ...  চিকিৎসক সরেজমিনে দেখে বিকশিত দন্তের এক্সরে করে নিদান সাব্যস্ত করলেন হয় RCT নয় উৎপাটন।

আমি তো কি করব , কি না করব তা না বুঝে আপদ বিদায় করবো বলে উৎপাটনেই মনস্থির করলাম,  কিন্তু পরে অনেকের সাথে কথা বলে বুঝলাম এখন দন্ত উৎপাটন না করাই শ্রেয় । এখনি ফোকলা হবার কিছু ঘটে নাই ... বুঝলাম।  আরও বুঝলাম , ছোট্ট কালের দুষ্টু মিষ্টি ফোকলার সাথে কোন দিক থেকেই ইহার মিলমিশ নেই বটে ।

অতএব শুরু হল যাতায়াত বিশিষ্ট RCT । একলা চলো রে বলে এক সোমবার কপাল ঠুকে বেরিয়ে পড়লাম,  পুপেকে ভয়ানক চিন্তার মাঝে রেখে । পৌঁছে প্রথমেই যেটা করলাম...চোখ বুঝে হাঁ করে স্থির হলাম বসার বিশেষ চেয়ারে । একটু আধটু অস্বস্তিকর অনুভূতি ছাড়া সমস্যা বিশেষ হল না । সব বুঝিয়ে দিলেন চিকিৎসক। এ সব ক্ষেত্রে আমি বেশ বাধ্য,  কাজেই সেই মত চললাম,  চিকিৎসককে হালচাল জানলাম।  যথা সময়ে সপ্তাহের শেষে পরের ডাকের বার্তা এল ফোনে । এর মধ্যেই চিকিৎসকের সাথে মুঠোফোনে কথা চালাচালি হচ্ছিলই। 

এবার যাওয়ার সময় কন্যার চিন্তা দেখলাম কমতির দিকে । তবে এ দিন যাওয়ার আগে চুপি চুপি বাবার কান বাঁচিয়ে জিজ্ঞেস করেই ফেলল ... " মা , ডক্টর কি ছেলে না মেয়ে ?" 🤔🤫

বলে কি ?? মনে পড়ে গেল বছর চারেক আগের পিকনিকের কথা । পুপের বন্ধুর ভাই তার মাকে বলেছিল.... মা , তুমি বাবাকে ছেড়ে কেন অন্য আঙ্কেলের সাথে গল্প করছ ?" পিকনিকেও ছোটগুলোর কড়া নজরদারি থাকে বাবা মা , কার সাথে গল্প করল , কার পাশে বসল ... সব কিছু নিয়ে । সত্যিই,  আমরা ভাবি ওরা খেলছে । আসলে খেলতে খেলতে নজরদারি চালু .... সাবধান !! সাবধান !! সাবধান !! দু তরফই🤣

যাক গে মেয়ে ও বাবা দুজনেই চাপ মুক্ত । চিকিৎসক মহিলা কিনা !!!  গতকাল ছিল আপাতত অন্তিম পর্ব । এখন মুখের ভিতরে এক ভিন্ন অনুভুতি নিয়ে ঘুরছি ফিরছি । hopefully আস্তে ধীরে ভিন্ন,  অভিন্ন হৃদয় হবে । আশা নিয়েই চলছি ... বাকিটা দেখা যাকের ভরসায় 🦷🦷🦷🦷🦷🦷🦷😬😬😬😬😬

#picturecollected

Wednesday, 13 December 2023

পদসেবা ২

 মা বলতেন , "তুই কেন এতো আতুসী ? অল্পে কাতর ???"

 মায়ের কাছে সব সন্তান ই বোধহয় ওমন । আগের মতন , কখনও বা তার থেকেও বেশি যাতনা তে অবাক হয়ে দেখি ... মায়ের মতন আমিও পারি তাহলে কিছুটা ... এ ভাবেই হয়তো মা-বাবা রয়ে যান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। 

পুপে হওয়ার তখন হাতে গোনা কয়দিন বাকি  ...  বন্ধ দরজার ফাঁদে এক সাথে চাপা খেয়ে মায়ের এক হাতের তিন আঙুল ভাঙল একসাথে ... দরজাতে হাওয়া-ঠেস ছিল না ... দমকা বাতাসেই এই বিপত্তি। মুখে একটাও শব্দ না করে মা কি করে ওই যাতনা সয়েছিলেন আজও অজানা । 

আপাতত একখান বিপদে আমি ঘর বন্দী ও প্রায় প্রায় খাট বন্দী ... লকডাউনের বন্দী দশাতে ভাল লাগা না থাকলেও , এবারের মতন মন খারাপের দিস্তা হাতে আসেনি , কারণ তখন ছিল ঘরের কাজের পাশাপাশি আমার পছন্দের কাজের ঢালাও সুযোগ ... ছবি তোলা যার মধ্যে অন্যতম ছিল। তখন ছাদে পেয়েছিলাম অনন্ত আকাশের হাতছানি। 

এবারের বিপদে সে হাতছানি নেহাতই ফানি ... একদিন পায়ের পরীক্ষার জন্য সিঁড়ি বেছে ছিলাম ... দেখলাম বিষয়টি খুব সুখকর নয় । একটু ভীতিকর।  তবে যথাসময়ে এই ভয় টা না কাটাতে পারলে ভয়ানক ভয়ের কারণ হতে পারে ... অভিজ্ঞতায় দেখেছি তেমন । আরো কদিন পরে কাটানোর ইচ্ছে । শুভাকাঙ্খী অনেকেই বিশ্রামের পক্ষ নিয়েছেন । আমিও বুঝেছি আমার বিপদটা ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ।  

আমার বান্ধবী শুক্লা অনেক বছর আগে একবার বলেছিল ... এমনিতে ছুটি আর বিপদে পড়ে নেওয়া ছুটির তুলনা টানবি না ... ওমন ছুটি ভাল না কখনও। সত্যিই তাই এই ছুটির থেকে বেড়িয়ে পরে ছুটতে চাই ... আশা রাখি এতদিনের পদসেবা র ফল মিলবে । সবাই মিলে পদসেবা ... just ভাবা যায় ???

Thursday, 7 December 2023

পদসেবা ১

 " শরীরের নাম  মহাশয় ,  যা সওয়াবে তাই সয় " ... কিন্তুক সব কি সওয়ানো সম্ভব?  না বোধহয় । যা সইবে  তাকেই আপন করা দস্তুর।

কথা হলো গিয়ে এখন কি সইতে নারি ?? গত পরশু একখান জবরদস্ত গুঁতো খেয়েছি ... তার যাতনা নিয়েই এই তাত্ত্বিক ভাব মনে জেগেছে। তবে কিনা সইব না বললে আর শুনছে কে ? যাতনা একদম শরীরে ভিতর থেকে জানান দিচ্ছে ... ম্যায় হু না !!! বাংলাতেও বলছে .... আমি আছি 🎼🎼শুধু তোমারই তো আছি। 

জব্বর গুঁতো র উৎস নেহাতই নিরীহ  আমাদের ঘরের খাট । নির্জীব, নিরাপদ ... আমার দিনের শেষের আশ্রয় । তার কোণায় যে এমন আপদ বালাই ছিল কে জানত ?? পায়ের আঙুলে গুঁতো আগেও খেয়েছি .... আর এ খুব কমন সিলেভাস । এই গুঁতো আমার মতন অনেকেই খেয়েছেন .... যারেই কই সেই কয় ... very common ... কিন্তুক আমার ক্ষেত্রে একদম শমন নিয়ে এলো 😔।

মা , আগেকার দিনের মানুষ ছিলেন।  মায়ের সুন্দরের বর্ণনা তে এখনকার কিটো ডায়েটকারী নেহাতই যাচ্ছেতাই রূপে ধরা দিত। মা বলতেন একটুখানি গায়ে পায়ে গত্তি না লাগলে কি ভাল দেখায় ? কি সব খ্যাংরা কাঠি তোদের ভাল লাগে ???? কথা হল আমি নিজে ওমন কাঠি কোনকালেই ছিলাম না। আর এখন তো মায়ের মনের মতন গোলু হয়েছি , তবে আমার পদ যুগল যারপরনাই শ্রীহীন। খাট বাবা জী র হাতযশে ডান পা খান বেশ শ্রীযুক্ত হয়েছে , কারণ গুঁতোর গুণে পায়ের একখান আঙ্গুল (সহ পায়ের পাতা )ফুলে কলাগাছ .... একখান হাড় মটকেছে। ঘাড় নয়কো। তাহলে আর লেখার ক্ষেমতা থাকতো না বটে !!! 🤣ঠাকুমার ঝুলির রাজকন্যা দের হাড় মুড়মুড়ি ব্যরামে সব ক'খান হাড়েই গোলোযোগ চলত ... তা সে রামও নেই , সে রাজ্যও নেই  , সে সহ্য ও নেই !!!! তবে মায়ের বর্ণনা মোতাবেক আহত পা খান বেশ শ্রীযুক্তা হয়েছেন বটে। মন ভরে দেখছি যখন , তখনই আমিও আছি বলে ধ্বনিত হচ্ছে যাতনা ... 

এদিকে সুন্দর পায়ের গল্প বলতে গেলে মেয়ে - বাবা দুজনেই আগুন দৃষ্টি হানছেন !!! কোনো কাণ্ড জ্ঞান নেই গো !!! পায়ের যাতনা , মনের যাতনা ... 🤫

পূজোর সময় থেকেই পা বিরোধিতা করছে , তবে তাদের দোষ দিয়ে লাভ নাইকো ... সারা বছর হাল্কা কাজ করিয়ে পূজোর কদিন ওভারটাইম করালে সে বেচারী যুগল কি করে ??? 

এ দিকের  নতুন গোলমালে হাড়ের ডাক্তার বাবু পায়ের ওপর পা তুলে থাকার নির্দেশ জারি করেছেন ... তাতে এদিকের দুজনার মাথায় হাত 😃 আপাতত বালিশের ওপর পা খান তুলে রেখেছি .... ক'দিন পদসেবা করি কেমন ?? নিজের পদসেবা .... একদম out of syllabus 🤧😔

@শুচিস্মিতা ভদ্র