Wednesday, 13 December 2023

পদসেবা ২

 মা বলতেন , "তুই কেন এতো আতুসী ? অল্পে কাতর ???"

 মায়ের কাছে সব সন্তান ই বোধহয় ওমন । আগের মতন , কখনও বা তার থেকেও বেশি যাতনা তে অবাক হয়ে দেখি ... মায়ের মতন আমিও পারি তাহলে কিছুটা ... এ ভাবেই হয়তো মা-বাবা রয়ে যান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। 

পুপে হওয়ার তখন হাতে গোনা কয়দিন বাকি  ...  বন্ধ দরজার ফাঁদে এক সাথে চাপা খেয়ে মায়ের এক হাতের তিন আঙুল ভাঙল একসাথে ... দরজাতে হাওয়া-ঠেস ছিল না ... দমকা বাতাসেই এই বিপত্তি। মুখে একটাও শব্দ না করে মা কি করে ওই যাতনা সয়েছিলেন আজও অজানা । 

আপাতত একখান বিপদে আমি ঘর বন্দী ও প্রায় প্রায় খাট বন্দী ... লকডাউনের বন্দী দশাতে ভাল লাগা না থাকলেও , এবারের মতন মন খারাপের দিস্তা হাতে আসেনি , কারণ তখন ছিল ঘরের কাজের পাশাপাশি আমার পছন্দের কাজের ঢালাও সুযোগ ... ছবি তোলা যার মধ্যে অন্যতম ছিল। তখন ছাদে পেয়েছিলাম অনন্ত আকাশের হাতছানি। 

এবারের বিপদে সে হাতছানি নেহাতই ফানি ... একদিন পায়ের পরীক্ষার জন্য সিঁড়ি বেছে ছিলাম ... দেখলাম বিষয়টি খুব সুখকর নয় । একটু ভীতিকর।  তবে যথাসময়ে এই ভয় টা না কাটাতে পারলে ভয়ানক ভয়ের কারণ হতে পারে ... অভিজ্ঞতায় দেখেছি তেমন । আরো কদিন পরে কাটানোর ইচ্ছে । শুভাকাঙ্খী অনেকেই বিশ্রামের পক্ষ নিয়েছেন । আমিও বুঝেছি আমার বিপদটা ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ।  

আমার বান্ধবী শুক্লা অনেক বছর আগে একবার বলেছিল ... এমনিতে ছুটি আর বিপদে পড়ে নেওয়া ছুটির তুলনা টানবি না ... ওমন ছুটি ভাল না কখনও। সত্যিই তাই এই ছুটির থেকে বেড়িয়ে পরে ছুটতে চাই ... আশা রাখি এতদিনের পদসেবা র ফল মিলবে । সবাই মিলে পদসেবা ... just ভাবা যায় ???

No comments:

Post a Comment