Thursday, 14 December 2023

দন্তরুচীকৌমুদি

 আমার বাড়ির নাম শিল্পী হলেও,  গাল ভরা ভালো নাম শুচিস্মিতা । যা আমার মামীমা দিয়েছিলেন। মাধ্যমিকের বাংলা ব্যাকরণের এক কথায় প্রকাশে জেনেছিলাম,  শুচিস্মিতা  নামের অর্থ .. যে নারীর হাসি পবিত্র। আত্মীয় বন্ধুদের মধ্যে কেউ একজন আমাকে পবিত্র হাসি বলেই সম্বোধন করতেন । তিনি যে কিনি , তা মনে পড়ছে না একেবারেই 🤔 তো কথা হচ্ছিল নাম নিয়ে । তবে এ হল গিয়ে আসল বিষয়ের  গৌড়চন্দ্রিকা । হাসি পবিত্র কিনা তা জনতা বলবে , তবে আমি হাসি কান্না সবেতেই সিদ্ধহস্ত ও অশ্রুমতিও বলা যায় । আমার অতিরিক্ত হাসিতেও অনেকে গালে হাত দিয়ে বলে .... তুই হাসছিস না কাঁদছিস ? চোখে জল কেন ? এমনটা যাদবপুরে হিরন্ময় স্যারের ক্লাসে হামেসাই হোতো , আপনভোলা স্যার পড়ানোর সময় নিজের অজান্তেই অনেক মজার কাণ্ড করতেন , সবাই হেসে খুন হতাম । 

তবে দন্ত বিকশিত করে মোটেই হাসতাম না । কিন্তু তাও যে কেন দাঁতের ঠাণ্ডা লাগল কে জানে ?? কনকন , শির শির সব রকমের অভিজ্ঞতার পাঠ নিচ্ছিলাম বিগত বছর খানেক ধরে । বলতে নেই এবারের দন্তশূল বামপন্থী । আগের ব্যাথা বেদনা গুলো দক্ষিণ পন্থী ছিল । বোধ করি ব্যালেন্স হয় এ ভাবেই। আর আমার কর্তা মশাই তো আমার যে কোন সমস্যার সমাধানে তখনই আগুয়ান হন , যখন সেটা বেশ গভীরে যায় । পারিবারিক সবার ক্ষেত্র  এক নয় । নানান জনের জন্য নানান বিধান । যেমন কন্যার কিছু হলেই হামলে পরে সামলে দেন , গভীরে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। 🤫😷অনুপমের গানের কথা অনুযায়ী আমার দন্তশূল যখন প্রায় দন্ত মূল ধরে টান দিল গভীরে যাও বলে ঠিক তখন কর্তা মশাইও নিয়ে গেলেন যথাস্থানে ...  চিকিৎসক সরেজমিনে দেখে বিকশিত দন্তের এক্সরে করে নিদান সাব্যস্ত করলেন হয় RCT নয় উৎপাটন।

আমি তো কি করব , কি না করব তা না বুঝে আপদ বিদায় করবো বলে উৎপাটনেই মনস্থির করলাম,  কিন্তু পরে অনেকের সাথে কথা বলে বুঝলাম এখন দন্ত উৎপাটন না করাই শ্রেয় । এখনি ফোকলা হবার কিছু ঘটে নাই ... বুঝলাম।  আরও বুঝলাম , ছোট্ট কালের দুষ্টু মিষ্টি ফোকলার সাথে কোন দিক থেকেই ইহার মিলমিশ নেই বটে ।

অতএব শুরু হল যাতায়াত বিশিষ্ট RCT । একলা চলো রে বলে এক সোমবার কপাল ঠুকে বেরিয়ে পড়লাম,  পুপেকে ভয়ানক চিন্তার মাঝে রেখে । পৌঁছে প্রথমেই যেটা করলাম...চোখ বুঝে হাঁ করে স্থির হলাম বসার বিশেষ চেয়ারে । একটু আধটু অস্বস্তিকর অনুভূতি ছাড়া সমস্যা বিশেষ হল না । সব বুঝিয়ে দিলেন চিকিৎসক। এ সব ক্ষেত্রে আমি বেশ বাধ্য,  কাজেই সেই মত চললাম,  চিকিৎসককে হালচাল জানলাম।  যথা সময়ে সপ্তাহের শেষে পরের ডাকের বার্তা এল ফোনে । এর মধ্যেই চিকিৎসকের সাথে মুঠোফোনে কথা চালাচালি হচ্ছিলই। 

এবার যাওয়ার সময় কন্যার চিন্তা দেখলাম কমতির দিকে । তবে এ দিন যাওয়ার আগে চুপি চুপি বাবার কান বাঁচিয়ে জিজ্ঞেস করেই ফেলল ... " মা , ডক্টর কি ছেলে না মেয়ে ?" 🤔🤫

বলে কি ?? মনে পড়ে গেল বছর চারেক আগের পিকনিকের কথা । পুপের বন্ধুর ভাই তার মাকে বলেছিল.... মা , তুমি বাবাকে ছেড়ে কেন অন্য আঙ্কেলের সাথে গল্প করছ ?" পিকনিকেও ছোটগুলোর কড়া নজরদারি থাকে বাবা মা , কার সাথে গল্প করল , কার পাশে বসল ... সব কিছু নিয়ে । সত্যিই,  আমরা ভাবি ওরা খেলছে । আসলে খেলতে খেলতে নজরদারি চালু .... সাবধান !! সাবধান !! সাবধান !! দু তরফই🤣

যাক গে মেয়ে ও বাবা দুজনেই চাপ মুক্ত । চিকিৎসক মহিলা কিনা !!!  গতকাল ছিল আপাতত অন্তিম পর্ব । এখন মুখের ভিতরে এক ভিন্ন অনুভুতি নিয়ে ঘুরছি ফিরছি । hopefully আস্তে ধীরে ভিন্ন,  অভিন্ন হৃদয় হবে । আশা নিয়েই চলছি ... বাকিটা দেখা যাকের ভরসায় 🦷🦷🦷🦷🦷🦷🦷😬😬😬😬😬

#picturecollected

No comments:

Post a Comment