"চড়াই চড়াই চড়াই টি "
ফুরুৎ ফুরুৎ ওড়ে
কড়াকাঠের ভিতর থেকে
বেরয় সে কোন ভোরে ? "
**********
" চড়াই পাখি দারোগা
ডিম পেড়েছে বারোটা
একটা ডিম নষ্ট
চড়াই পাখির কষ্ট "
**********
এ সব ছড়ার ছড়ানো সম্ভার থেকেই সেই কোন কালে চড়াই এর সাথে আলাপ। তারপর চড়াই নিয়ে লেখা মজার মজার গল্পের সাথে সাথে , আসে পাশে , বাড়ির আনাচে কানাচে চড়াই দম্পতির পাতা সংসার দেখতে দেখতে ওরা চিরদিন ই খুব আপনারজন হয়ে গেছে । আমাদের কুদঘাটের বাড়িতে ঘরে ডুকে , আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের সাথে তুমুল ঝগড়া করতে দেখেছি । মা খুব মজা পেতেন , সেই ঝগড়া দেখতে । মা চিনিয়েছিলেন , ওদের দেবাদেবীকে ( কে নারী ? কে পুরুষ? ) । কুদঘাটের বাড়ির মতনই প্রথম থেকেই এখানেও এদের অবাধ বিচরণ। মাঝখানের কটা বছর আমার পোষ্য শুভ্র র ( কুকুর 🐶) জন্য ওরা এ পথ মাড়াতো না । কিন্তু এখন সে সব আপদ-বিপদ নেই। মায়ের মতন আমিও নিজের খেয়ালে ওদের সাথে কথা বলি । ওরা না বুঝুক , আমার বেশ মজা লাগে।
তবে ওরাও এখন বেশ যুগোপযুগি হয়েছে । একখান বাসায় পোষাচ্ছে না । বিষয়ী হয়েছে দেখা যাচ্ছে । সারা বছর আমাদের আবাসনের বিভিন্ন অংশে , বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ওদের তৈরী বাসায় থাকে । আমাদের বারান্দার বাসায় ডিম পেড়ে , তা দিয়ে , ছানা ভুমিষ্ঠ করে , তাকে পরিণত পাখি ( মানুষ করে ) করে .... তারপর সবাই মিলে বাসা বদল করে । ফুরুৎ করে উড়ে ... আমি বলি এটা মেটার্নিটি আর শিশু বিভাগ। আমার কর্তা বলে এটা নাকি ওদের নিরাপদ আশ্রয় বা বলা ভাল বাপের বাড়ি । তা হতে পারে , ওদিকে মধুমিতা বৌদির বাড়িও কোন চড়াই মায়ের বাপের বাড়ি ।
এখন ওদের দাপটে বারান্দায় যাওয়ার উপায় নেই প্রায়। কি ঝগড়া করতে পারে , মাগো !!!!
ছানা হয়েছে ... তাদের খাবার খাওয়ার বহর অনেকটা আমাদের মতই 🤣🤣🤣🤣। কদিন বাদেই উড়লো বলে !!! এর মধ্যেই ওড়ার ট্রেনিং চালু হয়ে গেছে । আবার ফাঁকা বাসা আগলে , সামলে রাখতে হবে ... পরের বারের জন্য !!! বাপের বাড়ি কি মুখের কথা !!!!
No comments:
Post a Comment