ছোটবেলার ছোট্ট ছোট্ট ঘটনার ঘনঘটা হঠাৎই একদিন হয়ে যায় আগেকার মজার ঘটনা । আমার পুপেও তার ব্যতিক্রম নয় । তার নানা রকম কাজ কথার ফিরিস্তি নিয়ে মাঝে মাঝেই আমি হাজির হই তোমাদের কাছে । এখন নাকি সে শান্ত হয়েছে .... স্কুলের ম্যাম গণ বলেন। তবে এটা ঠিক ঘরের বক্তিয়ার এখন বাইরে বক্তৃতা দেয় না ... বড় হচ্ছে বুঝতে পারি ।
তবে মতামতের ঠ্যালায় আগেকার মতন এখনও অন্ধকার তো কখনও সর্ষেক্ষেত দেখি ... এই আর কি 😃
সেদিন পুরাতন ছবি দেখতে গিয়ে একটা ছবি পেলাম ... সাথে স্মৃতির ঝাঁপ গেল খুলে । মা তখন ছিলেন । আমরা দুই পরিবার দার্জিলিঙ গিয়েছিলাম, বেশ কিছু বাঁধার পাহাড় কাটিয়ে । অসুস্থতা , ছুটির সমস্যা ইত্যাদি ছিল অন্তরায়। তখন বেশ গরম । গরমে কটা দিন ওখানে ছিলাম আরামেই। তবে কাঞ্চন দা মেঘের চাদর মুড়ি দিয়ে , আমাদের দেখা দেন নাই । সে সব যাই হোক ফেরার পথে এক চা বাগানে একটা গোটা দিন ও রাত কাটিয়ে কলকাতা ফেরার কথা ।
পুপে সম্বন্ধে ঘুরতে গিয়ে যথারীতি জিনিয়া আর পার্থ দার মত খানিক হলেও বদলেছিল সেবার 😊।
পুপে দেবী সবার সামনে ভোলাভালা মুখ নিয়ে থাকলেও আসলে যে দুষ্টুমি তে ভরা আর পাকা কথার ঝুড়ি তা আস্তে ধীরে এক সাথে ঘুরতে গিয়ে খাপ খুলে বেরিয়ে পড়েছে তখন । জিনিয়া বলেই ফেলল একদিন ... " তোকে খানিক চিনতে পারলাম এবার " । জিনিয়া কাকিমার সাথে তো তার তখন থেকেই ভারি ভাব ... ছোটকালে এক দুবার আমার বকুনি খেয়ে জিনিয়ার বাড়ি চলে যাবে চলে চটি পায়ে গলিয়েছিল 🤣 এখন তো আবার কাকিমা হলো আর্মি কাকিমা🙄 BTS (Musical band )এর ফ্যান। গলাগলি ভাব । আর্মি কাকিমার সাথে ফোনাফুনির সময় আবার অন্য ঘরে যেতে হয় ।
সেবার ফেরার দিনের একদিন আগে স্টেশনে গিয়ে আগাম ট্রেনে উঠে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছিলাম, সে গল্প আগেই লিখেছিলাম, তো কথা হল ট্রেনের টিকিট পেতে সেবার কালঘাম ছুটেছিল। আর কোনোমতেই রাতের ট্রেন আর এ সি এর টিকিট পাওয়া যায়নি। এদিকে ফিরতে হবেই সবাই কে ... কাজের হাতছানিতে বেড়ানোর তরতাজা ভাব তখন হালে পানি পাচ্ছে না ... পরেরদিন যথা সময়ে নির্ধারিত ট্রেনে উঠলাম সকলে সকাল সকাল। বেলা ১০টা থেকে তাপের মাপ বেড়ে বেড়ে এক সময় সকলেই পাগলপারা। জানালা বন্ধ করলে গরমে সেদ্ধ আর খুললেই বেগুন পোড়া এফেক্ট। সকলেই মধ্যে মধ্যে সাথের রুমাল জলে ভিজিয়ে মুখ মুছছি আর ছোট্ট এক রত্তি পুপে কিছুক্ষণ ছাড়া ছাড়া বলেই চলেছে ... মা গনম লাগছে !!! আহা রে !!! খুব কষ্ট পেয়েছিল সেবার। জামা খুলে গা মুছিয়েও বেচারি শান্তি পাচ্ছিল না ... তার গণম লাগছিল ভারি । মধ্যে ৩টের সময় মালদহ তে স্টেশন থেকে এক ভয়ানক পাতলা ( ওমন দেখি নি )রুটি তরকারি আনা হল পেট শান্ত করতে ... পার্থ দার মতে এমন রুটি হাত রুটি হতেই পারে না । নির্ঘাত জেরক্স রুটি...একখান কষ্ট করে বানিয়ে বাকি গুলো পাতি জেরক্স করা 😊 যাই হোক খিদে পেলে সব ই চলে । আমরাও চালিয়ে নিয়েছিলাম । সাথে পুপে কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর বলেই চলেছিল ... মা , গণম লাগছে 😔 বাবা গণম লাগছে 😔 !!!! সেই যে গণম লাগল ... তার থেকেই কিনা কে জানে মেজাজ খান permanent গণম হয়ে গেল !!!!! বাপ রে ... তোমরাও সাবধানে বেড়াতে যেও ....
No comments:
Post a Comment