Sunday, 26 April 2026

ভাঙনের পথে

 

আমার অন্যতম প্রিয় লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য। তাঁর লেখা একটি উপন্যাস নাকি গল্প হল " ভাঙনকাল " । গল্প টা বোধহয় পড়া হয়নি তবে নানারকম ভাঙনে আমি বিগত কিছুদিন যারপরনাই বিরক্ত .... তিতিবিরক্ত !!!!
বিগত বছরের শেষতম মাসের প্রথম দিনে পা ভেঙে কুপোকাত হলাম । literally পায়ের ওপর পা তুলে দিন যাপন করার পর কলেজে যোগ দিলাম। আমি বুঝেছিলাম পায়ের ছোট আঙুল ভেঙেছে অর্থাৎ  ছোটখাট ব্যাপার , ভয় ধরল , যখন কর্তামশাই এর জুনিয়র অর্থোপেডিক চিকিৎসক বললেন .... " বিশ্রাম না নিলে বিপদে পড়বেন বৌদি " ... জয়েনিং এর চিঠির বয়ান আর হাড়ের ডাক্তারের লেখাজোখা চোখে দেখে আমার এক সহকর্মী বললে ... তোমার কিন্তুক মেটাটারসল বোন ভেঙেছে 😳। মেটাফিজিক্স টা কিছু জানি যেহেতু আমি দর্শনের ছাত্রী। কিন্তুক  তা বলে "মেটা" যুক্ত মেটাটরসলবোন জানতে বয়ৈ গেছে !! সব মেটা র ডেটা কি জানা সম্ভব  ??? জানলাম খানিক বাধ্য হয়ে .... সেখান নাকি ছোট্ট আঙ্গুল ভাঙার মতন ছোটখাট ঘটনা নয় 🤔।
আমি  চিকিৎসক ঘরণী হতে পারি , চিকিৎসক তো নই , বোন যেমন ই হোক সে তো বোন ই (bone ) ভাই নয়কো !!!! অতো কি বুঝি ???
যাক সে সব খানিক হামলে পরে সামলেছি কি না সামলেছি কাশতে কাশতে কাশিবাসি হলাম ... বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে এখন ভাঙন ধরেছে গলায় । খোলতাই গলায় কথা কইছি। গলার ভাঙন চলতে চলতে দন্তশূলও ভাঙনের দিকে turn নিচ্ছে কিনা বোঝার চেষ্টা করছি .... বছর খান নেহাতই গোলোযোগের মধ্যেই শুরু করলাম .... গোলোযোগের বিয়োগ করে ফেলতে হবে ....
তুমি কোন ভাঙনের পথে এলে 🎵🎵🎵🎵

Saturday, 25 April 2026

দন্তশূল একটি আপদ বিশেষ

 

" দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম ...." এই সব প্রবচন শুনতে শুনতে জীবনের পথ কে না চলেছে ? কিন্তু সব প্রবচন মরমে পশে তখন‌ ই যখন যাতনা অঙ্গ জুড়ে হাজিরা দেয়। মা বলতেন , তোর কবে আক্কেল হবে ? হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি এসে সব আক্কেল প্রকাশিত হল। প্রথম দেখা দিয়েছিল নতুন সম্পর্কে আবদ্ধ হ‌ওয়া র বছর চারেক কি পাঁচেক পরে। কন্যার আগমন তখন‌ ও ঢের দূরে।
বিয়ের পর কার না আক্কেল হয়েছে ? ওই বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠান আক্কেল দানকারী হিসেবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত। আমার‌ ও হল। Maxillofacial surgeon যখন আক্কেল মুক্ত করলেন , চাপ তেমন বোধ করি নি। শিশু মঙ্গলের আউটডোরে দন্ত বিশারদ চিকিৎসকের সামনে চক্ষু মুদে হাঁ করলাম ‌...  মুখখানা শুধু অবশ হল , আক্কেল গেল । বাকি আক্কেল তখন গুপ্ত স্থানে আসীন। আমিও সখার হাত ধরে আইসক্রিম খেয়ে ও সাথে বার আইসক্রিম নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম। No চাপ at all !!!
বছর গড়িয়ে চললো , আবার নানান দাঁতে দন্তশূল । চিকিৎসা চলা কালীন বছর ৩/৪ আগে আক্কেল গুড়ুম। আক্কেল যে একের অধিক তাই তো ছাই জানতাম না। নিশ্চিন্ত ছিলাম যে সে তো তুলে ফেলে দিয়েছি !!! পর পর ধাক্কা। জানলাম হাতে থুড়ি মুখে আরও তিন উঁকি দিয়েছে। কি সব্বোনাস !!! একে রামে রক্ষে নেই তায় তার তিন দোসর 🥹 ।
একখানা র অবস্থান এমন তাকে মাড়ি কেটে বের করতে হতে পারে , জানিয়ে আপাত সমস্যা মুক্তি র আনন্দ দান করলেন দন্ত বিশারদ। এমন আনন্দ বিগত বছর গুলিতে পেয়ে পেয়ে শেষমেষ গত কয়েক মাস মুখ জুড়ে নিরানন্দ। আমার Dentist পাঠালেন আরেক‌ maxillofacial surgeon এর দরবারে। তিনি একাধারে তিন এর উৎপাটনের বার্তা দিলেন। কি কান্ড? ছিল এক , দিনের সাথে সাথে একখান করে বেড়ে এ কি হতে চলেছে। এমনি হতে থাকলে তো সপ্তাহান্তে সব ফর্সা হয়ে যাবে। ভরসা পুরো শেষ প্রান্তে !!! চিকিৎসক যতোই সুদর্শন হোন না কেন, তার আশাজনক বাক্যে আমার আশংকা কম হ‌ওয়ার বদলে বেড়েই চলতে শুরু করল । তেনাকে , আমার কর্তা মশাইকে বলতে শুনলাম  ... " বুঝলে দাদা , এক সীটিং এ বৌদির কথা সব গোলমেলে দাঁত তুলে ফেলাই ভালো। কি বলো ? "
বিশেষজ্ঞ বোঝাই হয়ে বোঝালেন যে আক্কেল বেআক্কেলের মতন চাপ দিয়ে ৭ নম্বর দন্তকে দুরমুশ করে দিয়েছে আর উপরে আরেক আক্কেল মাথা চাড়া দিয়ে কাকে দুরমুশ করবে তার হিসাব কষছে। কাজেই আমি যদি থাকি রাজি ; উঁকি মারা আক্কেলকে ও উৎপাটন করা হবে এক সাথে। রাজি হলাম !!!
সেই মতন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অজ্ঞান হতে প্রস্তুত হলাম। ঘরের ডাক্তারের তো হাল বেহাল। যদিও সে ওমন ভাব গুপ্ত রাখে। 
অজ্ঞান হ‌ওয়ার আগে চ্যানেল করে ড্রিপ দেওয়া দস্তুর। ওজনের বহরে চর্বি ভেদ করতে সিস্টার দিদি আকুল আর খোঁচা খুঁচির রক্তপাত দেখে আমাদের ঘরের ডাক্তার ব্যাকুল।
অজ্ঞান হয়ে থাকার জন্য নাকি top-up dose দেওয়া হয় , তা দেওয়া হয় কখনো নাকে টিউব পরিয়ে , কখনো মুখে টিউব ঢুকিয়ে। আক্কেল রা যেহেতু মুখে অত‌এব নাকে টিউব পরানোর চেষ্টা করা হল ; কিন্তু  .... তা ব্যর্থ হয় ; তখন অপারেশন থিয়েটারে সবার আক্কেল গুড়ুম।বাইরে থেকে সোজা হলেও ভিতরে যে ব্যাঁকা হতেই পারে , ফের প্রমাণিত। ফলে রক্তারক্তি কারবারে ডাক্তার বাবু নাকি অজ্ঞান হব হব ভাবছিলেন। কিন্তু .... ওই যে মনের ভাবকে সুপ্ত রাখার জেদ !!! হেনকালে অ্যানাসথেসিয়া দানকারী চিকিৎসকের তৎপরতায় টিউবের স্থানান্তরে রক্তপাত বন্ধ হয় আর এদিকের লোকাল গার্জেন নিজের মধ্যে ফেরত আসেন। ৩ খান দাঁত কৌটো বন্দী হয় সময় মতো। অপারেশনের পর জ্ঞান প্রাপ্ত হলাম মুখে তুলো গোঁজা ব্যান্ডেজ বাঁধা হয়ে । আমার আক্কেল তুলে কে যেন তখন এক বেয়াক্কেলে প্রশ্ন করল ‌.... "কেমন লাগছে ? " জ্ঞান টা তখন‌ও জায়গা মতন সেট হয়নি কো । তাই ঠিক ঠাওর করতে পারিনি । এমন প্রশ্নকারী কে ছিলেন !!!
আরো নিয়মের পালা মিটিয়ে ঘরে ফিরে এখন খুব সাবধানী জীবনে সাবধানে ঘুরছি।
ঘরে ফিরিয়েই তিনি স্বমহিমায় কাজের কাজি হয়ে কাজের মাঝে ঢুকে পড়েছেন। আমিও ঢুকব ঢুকব করছি।
এমনিতেই ওজনদার; তাই দুঃখের বিষয় গালের ফোলা ধরা মুশকিল বড়ো। ফোকলা হয়ে শিগগিরই ফিরছি জীবন পথের পথিক হয়ে । একখানা আক্কেল হাতে রয়েছে। বাকি দের তুলে ফের বেআক্কেলে !!!

PTM

 

PTM শব্দের সাথে পরিচয় আমাদের সকলের । তবে পরিচয়ের মাধ্যম যথারীতি আমার কন্যা রত্ন । কারণ আমাদের সময়ে নির্ভেজাল বাংলা মাধ্যম স্কুলে ওসব ছিল না , অন্য মাধ্যম,  অন্য বোর্ডের গল্প গাঁথা আমার জানা নেই । হয়তো তাদের ছিল , হয়তো ছিল না ... বলতে পারব না ।
তবে হ্যাঁ guardian call নামক একখান ব্যপার ছিল , তবে সে কচ্চিত কদাচিত খুব গর্হিত কিছু অপরাধে কোটিকে গুটিকের হোতো । সে ব্যাপারেও এত চুপচাপ ফুলে ছাপ টাইপ লুকোচুরি থাকত , সকলে জানতেও পারতাম না ।
কিছু বছর আগে থেকে বাজার গরম করে PTM এর অবতারণ হল আমার জীবনে । দু রকমের PTM হয় , আমার আসন পাকাপোক্ত। ভয়ে ভয়ে যাই , কোনবার কর্তা মশাই সাথে , কোনবার একা । তবে যুগলেই যেতে চাই ... কারণ কথা থুড়ি বকুনির ভার একা বওয়া বেশ চাপের !!!
অভিযোগ শুনে আসি ... common item ... অমনোযোগী , ভয়ানক কথা বলে , তার ফাঁক গলে পড়ার বিষয় ফুরুৎ হয়ে যাচ্ছে 🤔
Play school এ PTM এর পাট ছিল না , ভাগ্যিস !!! কিন্তু তাতে কি ? একদিন শুনলাম ( যিনি ওকে স্কুলে নিয়ে যেতেন , তার কাছে ) ... " বৌদি , আপনাকে ওদের আন্টি যেতে বলেছেন "। গেলাম ... নির্ভয়েই গেলাম,  ছোট্ট স্কুল,  আন্টিরা খুবই আন্তরিক । মিলি আন্টি বেরিয়ে এসে যা শোনালেন চক্ষুচড়কগাছ 🙄
আপনার মেয়ে একে ওকে কামড়ে দিচ্ছে 😶। অভিনব অভিযোগ হজম করতে খানিক সময় গেল  .... আমি কুকুর বেড়াল ভালবাসি , তা নিয়ে বিস্তর ঠাট্টা তামাশা হয়ে থাকে , তেনারা কামড়া কামড়িও করে থাকেন ( আমি যদিও একবার ই কামড় খেয়েছি , তাও কুখ্যাত এক পাগল বেড়ালের , সে গল্প তোমরা অনেকেই জানো , এখানেই লিপিবদ্ধ করেছিলাম ) তা বলে আমার গেঁড়িও কামড়ে দেবে ??
এ হলো গে শুরুয়াত .... বড় স্কুলে ভর্তির পর প্রতি বছরই একই রকম শুনি , ওই থোড় , বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোর । তবে মধ্যে মধ্যে মশলাদার চটপটা কিছু থাকেই ... nursery ii , class teacher আতঙ্কিত মুখে একদিন বললেন ... আপনার মেয়ে 1লিখতে পারছে না , ভাবুন !!! সত্যিই ভাবনার কথা । 1 না লিখে অন্য গুলো লিখে ফেললে মুশকিল...একমেবদ্বিতীয়ং এক যদি না পারে লিখতে" 1" এর মান সম্মান থাকে ? বাড়ি এসে কাচুমাচু মুখে নিবেদন করলাম কমল মিত্র ( কিছু ক্ষেত্রে) সম পিতাজির কাছে .... উত্তর এল তুরন্ত ... " 1  কে না শিখেছে , দেখাও দেখি , ও শিখবে , অন্য গুলো আগে শিখে এগিয়েই আছে , ওটা একটু পিছিয়ে শিখে নেবে ।" ভেবে দেখলাম আমি স্কুলের ড্রিল বা যোগ ব্যায়ামে আণ্ডা গোল ছিলাম , একবার ফেলও করেছিলাম ... গার্জেন কলও হয়েছিল । ক্লাসটীচার মধুমিতাদি বলেছিলেন ... শেষে পিটিতে ডিগবাজি খেলি 🤭 ... তো সেই ব্যায়ামে ফরওয়ার্ড রোল আর ব্যাকওয়ার্ডরোলের মধ্যে দ্বিতীয়টি আগে শিখেছিলাম এবং সেটা পারতামও । প্রথমটা পারতাম না ... তো পুপেরও তাই এমন ধারা হয়তো । তবে পরে সে 1ও শিখল ... সময় নিয়ে , আমি কিন্তুক ফরওয়ার্ড রোল পারলামই না কোনদিন । একবার nursery ii এর আন্টি বললেন ... " আপনার মেয়েকে কম কথা বলা বাচ্চাদের পাশে বসালেও কিছু হচ্ছে না । উল্টে তারাও বকম বকম শুরু করে আমাদের আরো মুশকিলে ফেলে দিচ্ছে " 🙄
একবার শুনলাম মেয়ে নাকি স্কুলে আন্টির পাশে আসীন হচ্ছে । আসলে ওদের স্কুলে নাকি আন্টির পাশের চেয়ারে খুব দুষ্টু বাচ্চাদের বসানো হয় । আমার কন্যার কথামালাই তার টি আর পি ... খুব কথা বলার দরুণ ওই চেয়ারে বসার সুযোগ ঘটেছিল তার । সেটা যে একটা ছোট্ট  , মিষ্টি punishment তা সে বোঝেনি । আন্টির পাশে বসার সম্মানে তার পা মাটিতে পড়ছিল না ... হু হু সবার কি ওমন naughty chair এ বসার সুযোগ ঘটেছে ?? বাড়ি ফিরে সারা পাড়ার লোক প্রায় জড়ো করে সে তার সেই সম্মানীয় আসনের কথা জানিয়েছিল !!!
এভাবেই একে একে ওরা এগিয়ে চলেছে , গতকাল ছিল এবারের PTM ... বুঝলাম মেয়ে আমার বড় হচ্ছে , সেই সব মজার মজার দুষ্টুমী কমছে । অবাক হয়ে শুনলাম,  ওনারা বলছেন ... ও ক্লাসে মন দেয় । তবে আরো অভ্যাস জরুরি । ভয়ানক কথারা স্কুলের ক্লাস চলাকালীন মনের ভিতরেই গজ গজ করে তবে , যারা বাড়িতে আমাদের কাছে , বন্ধুদের কাছে ( সময় বুঝে ) আঁছড়ে পড়ে । কথামালার পাহাড় তো !!!
তবে একটা বিষয় বলতে হবেই  , প্রতিবছর( এ বছর আপাতত রেহাই)প্রথমে ক্লাস টীচারের যে অভিযোগ গুলো মিসাইলের মতন ধেয়ে আসে , বছর শেষে সে গুলো আসে ঠিকই,  তবে ধেয়ে না ... শ্লথ গতি বেয়ে । আর আমাদের উপাসনা তখন আন্টিকে ম্যানেজ করে আন্টির good book এ । নম্বরের হেরফের হওয়ার কথাও নয় , হয়ও না , কিন্তু আন্টিদের থেকে ভালবাসা আদায় তখন হয়ে গেছে । এমন ভালবাসা যেন ঝুলিতে ভরতেই থাকে । বাকিটা যেমন করছে , তার থেকে আরো একটু যাতে এগিয়ে যায় , তার চেষ্টার হাল তো ধরে আছি , থাকবও ।

টিকটিকির টিকি

 

ছোট্ট বেলার ছড়া বড় বেলায় এসে যখন মরমে পশে , তখন সে একখান ঘটনার ঘনঘটা বলাই যায় । আমার প্রিয় কবি সেই আবোলতাবোল খ্যাত সুকুমার রায় মহাশয় । ওই আবোলতাবোল যে মজ্জাগত হয়ে গেছে তা বেশ বুঝেছি। কারণ ঘটনাবহুল জীবনে নানা ভাবে দেখি ওই ছড়া গুলোর ছড়াছড়ি।  কানের যাতনা র সময় মনে পড়েছিল কান করে কটকট, ফোঁড়া করে টনটন .... ইত্যাদি প্রভৃতি।

এবারের ঘটনার নিবেদন :

ঘরে বোঝাই নানান পোকা মাকড়। নতুন কিছু নয় ... নতুন হল আমাদের ধৈর্য সহ্য আর সব ঝেটিয়ে দূর করার প্রবণতার কমতি । সাথে অবশ্যই আমাদের ছুটন্ত মোড দায়ী কিছুটা ।
এত বছর পোকা নিধন যজ্ঞ চলত তার গতিতে ম্যানুয়াল মোডে ... ক্ষতি নাই । কিছু বছর পেস্ট কনট্রোল দ্বারা সব কন্ট্রোল হচ্ছে দিব্বি। বাসন কোষণ  স্থানান্তরিত হতো শুরুতে । সব শেষ হলে জামা ছাড়া সবেতেই গন্ধ থাকত, তারপর গন্ধ তো নয় মন্দ হোতো । গন্ধ gone হোতো আপন নিয়মে। গন্ধের ছটফটানি চটপট থেমেও যেতো ।ইদানিং ব্যবস্থাপণা আরো আধুনিক।  তাই আগের মতন সব বাসন সরাতে হয় না .... সুবিধাই সুবিধা।
এ বছরের লিস্টিতে ঘর থেকে দূর করার জন্য স্হান পেল টিকটিকি মশাই। আমাদের অলক্ষ্যে কখনও বা লক্ষ্যে ঘরের মেঝেতে ছুটন্ত মোডে দেখতে পাই। ছাদ আর দেওয়াল ছেড়ে ভিন্ন রাজ্যে ভিড়তেই আমার পরিবারের সিনিয়র আর জুনিয়র রেগে কাই ... আমি হেলদোলহীন...ও ঘুরছে ঘুরুক ভেবে আমি শান্ত ছিলাম চুপচাপ। এরা দেখতে পেয়ে হৈচৈ করে একশা ... টিকটিকি যাতে ঘরে টিকতে না পারে তার পাকাপোক্ত ব্যবস্থাপণায় এবার আমাদের সবার ঘরে টেকা দায় হয়েছে 🙄
যে গন্ধ ঘরে যুক্ত করা হয়েছে তাতে তেনারা( টিকটিকি) এখনও ঘরেই টিকে আছেন বটে , তবে সে গন্ধে আমরা পাগল হলাম অন্য ভাবে । টিকটিকির পেছনে লাগা ঠিক নয় । এই কারণেই টিকটিকি কারোর পিছে লাগলে তার জেবন (জীবন) মিছে হয়ে যায় । গোয়েন্দাদের কেন টিকটিকি বলে নিজ্যস বুঝতে পারছি।
সে গন্ধ ঘরে নাই বটে তবে সর্বত্র একখান তিতকুটে স্বাদ নিয়ে ঘুরছি ... রাধন বাড়নেও প্রভাব আছে ফলে কালকে কষিয়ে রাঁধা মাটন এর খ্যাটন জমে নাই ... ভোগে গেছে .... ব্যায় বহুল মাটনের শোকে আমরা পাথর হয়ে গেছি ... কর্তামশাই কে বলেছি....খবরদার টিকটিকির পিছে লাগতে যাবে না 😬😬😬😬😬

(পেস্টকন্ট্রোলকারী নিদান দিয়েছেন ... সে মতন আমরা পথ  চলছি ... পূজো দেবো শিগগির।  কাকে ???? বলতে হবে ??? )
বিঃদ্র : টিকটিকায়ঃ নমঃ 🦎🦎

হাড় মুড়মুড়ি

 

বয়স বাড়ার নানা রকমের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ আছে । তার মধ্যে শারীরিক কিছুর ব্যাপার এবার শীতে হাড়ে হাড়ে টের পেলাম...এখনো পাচ্ছি । নানাবিধ ব্যাথায় যারপরনাই কেলান্ত হয়ে পড়েছি বটে । সে.....ই পূজোর পর পর কানের কনকনানি পর্ব শেষ হতে না হতেই ঠাণ্ডা কাল  সাথে নিয়ে এলো হাড়ে হাড়ে ব্যথার আলিঙ্গন। কি আপদ !! কি বিপদ !! বেতো রুগীর মতন সর্বাঙ্গে ব্যাথা ...  মনে পড়ল ঠাকুমার ঝুলির সেই সব রাজকন্যেদের কথা , দুষ্টু রাণীদের কথা , যাদের কিনা হাড় মুড়মুড়ি ব্যারাম ছিল । তবে সেখানে তা সারাই করতে প্রাণপাত করত রাজকুমার অথবা স্বয়ং রাজা মশাই । এখন সে রামও নেই,  সে রাজ্যও নেই । ইনি একদমই প্রবচনের রাম,নিদেন পক্ষে রামায়ন খ্যাত  শ্রী রাম চন্দ্র,  কিন্তু কদাপি রাজনৈতিক নয়কো🤫।
তো যা বলছিলাম,  মনের ব্যথা, মাথার ব্যথা, পেটের ব্যথার ও কানের ব্যথার পর নতুন সংযোজন হাড়ের ব্যথা । মাথার ব্যথার এক ধরনের কারণে সেই ছোটকালে চশমা ধারণ করতে হয়েছিল । আরো অনেক কারণ সমুদ্রে সে তার অংশের কাজ করে চলেছে , সেই  থেকে । আমার কর্তার মতে মাথা থেকে ব্যথার গতি যখন নিম্নগামী তখন তা শিগগিরই দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে ...নামতে নামতে । এ সব কথায় বড়ই ব্যথা পাই মনে .... ।
শুরুর দিকে মাথার ব্যথার কার্যকারণ পরম্পরা শোনার পর আমার কর্তা মশাই,  হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিজের অপারগতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন,  বলেছেন এতো রকম বেরকম কারণের দামী মাথা ব্যথার উপশম করার ক্ষমতা তার কেন ? কারও নেই কো 😟 !!!
চোখের জ্যোতিও স্বাভাবিক নিয়ম মেনে কিঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত,  তাই নাকের ওপরে চশমা না আঁটলেই অক্ষর কেন পিপিলিকার সাথে তুলনীয় .... একদম পোস্কার বুঝতে পারি ইদানিং।
কিন্তু এবার পুরো হাতে হ্যারিকেন কেস, করতেই হবে ফেস।
সামনেই জন্মদিনের হাতছানি , এরই মধ্যে বেশ ওজনদার আর বিখ্যাত মানুষ জনের হাড়ের ব্যমো হাতে এসেছে উপহার স্বরূপ। any guess ?? পারলে না তো ?? টেনিস এলবো ... আহা কি জম্পেস একখান্ নাম বলো দেখি !!! কর্তা মশাই আন্দাজ করছিলেন , তাও জুনিয়র বন্ধুর কাছে দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে কেমন যেন চিন্তিত হলেন , বলতে নেই,  দেখে মনের ও হাতের দুই ব্যথাই কেমন যেন কম কম লাগল সেই মাহেন্দ্রক্ষণে !!!
বিখ্যাত খেলোয়াড়দের এমন হয় বল( ball) পেটাপেটি করে , অনেক কসরত করে অর্জিত , আমার কেন হলো ক্যায়া মালুম ?? ফোন টেপাটেপি করে ??? অতএব  ফোনে মন দানকারী মহিলা মহল(?) সাবধান!! সাবধান!! সাবধান!!
দুষ্টু লোকের ধারনা অনুযায়ী ওই কাজটি খুব মন দিয়ে করে থাকি আর বাকি কাজের জন্য তিনি স্বয়ং আছেন with আম গায়ের লোক ( আম আদমি 🤫রাজনৈতিক নয়কো🙏) ।
হাতের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আরো এক অঙ্গ  সঙ্গ দিয়েছে , কিন্তু তার কথা পরে একদিন বলব । হাতের একখান গয়নাও শিগগির হাতে আসবে , তাতেই নাকি ফল পাবো হাতে নাতে .... দেখা যাক.... দিল্লী আভি দূর হ্যায় ।।

ম্যাওবাদী

 

কদিন মনটা ভার , ভার । এক তো পাড়াতুত বান্ধবীর বাসা বদল , অন্যদিকে মাওবাদী ম্যাও আক্রমণে যত না কাতর হয়েছি , ম্যাও বিরোধীদের ম্যাও এর গুষ্টি উদ্ধারে মন ভারাক্রান্ত হয়েছে বেশি।
আমার ম্যাও প্রীতি ঐতিহাসিকও বটে , আবার খানদানিও বটে। ঘেউ প্রীতি পরে জেগেছে , আগে ভয় ছিল । যখন কসবাতে এলাম,  এখানকার তিন সারমেয় , ভয় কাটালো কিছুটা , তারপর এলো পোষ্য শুভ্র,  পাড়াতুত কাকুর হাত ধরে , বলা ভাল কোলে চড়ে । আর পাখি না পুষলেও ওদের সাথে বিস্তর গালগল্প মা যেমন করতেন , আমিও করি আর দেখাদেখি পুপে দেবীও দল ভারি করেছেন । শুধু অঙ্ক নয় , এসবেও তিনি আমার ধারা ধরে ফেলেছেন বটে !! 😇। আর আমার কাঠবিড়ালি কুট্টুসের কথা তো অনেকেই জানো ।
তো কথা হল , ম্যাও রা যে সবাই আতঙ্কবাদী , তা মোটেও নয় , এত বছর ওদের চিনি , ম্যাও বিরোধী দল খুব কড়া ভাষায় ম্যাও নিন্দা করছে , আমিও উত্তর দিতে অপারগ ছিলাম , কিন্তু আমি এর মধ্যেই দুদিন কলেজে গিয়ে  ভাল করে ছানবিন করে যা জানলাম,  তাতে নিশ্চিন্ত হলাম...ওই ম্যাও আতঙ্কবাদীই বটে । আরো জনা দুই তিনেক ওর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে , আমারই মতন 💉💉💉💉💉 💉খেয়েছে । আমার ওর সাথে আরো 💉 একটা বেশি , কারণ দুতরফেই ভালবাসা একটু বেশি কিনা ???
আমার পোষা এক ম্যাও কে কোলে নিতে থাবা বাগিয়ে থাপ্পড় দিয়েছিল,  একবার  , কি সাহস !! আঁচড় এর অভিজ্ঞতাও আছে , কিন্তু এই অভিজ্ঞতা একদম ফেরেস (fresh)। অনেকেই  আতঙ্কিত , এই আতঙ্কবাদীর হাত ও দাঁতের কাজের ছবি দেখে !!!
তবে আমার শেষ পোষ্য ম্যাও কুটুর লেজ বেখেয়ালে পাড়িয়ে দিলেও কখনও কিচ্ছুটি করেনি , পাড়াতুত সারমেয় লালির পায়ের ওপর আমার ওজনদার কর্তা মশাই একবার বেখেয়ালে উঠে যারপর নাই লজ্জিত ও দুঃখিত হয়েছিলেন,  সে ও কিচ্ছুটি করেনি , কয়নি ... দুষ্টুলোক যদিও মশকরা করে ভেবেছে , যে শিল্পীর বর বলে ছাড়ান দিয়েছে।
তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে ঘেউ দরদী যারা আছেন , তারা ঘেউ দংশনের কথা বেশ দরদ দিয়ে ঘেউ এর পক্ষপাতদুষ্ট হয়েই জানাচ্ছে , কিন্তু কথা হল পশুদের মনের ভাব কিছুটা , বুঝলেও,  সবটা বোঝা মুশকিল,  মানুষের মনের ভাব , ভাষা বোঝার আশা অনেকদিন ই জলাঞ্জলি দিয়েছি , চেষ্টাই সার !!!!
আমি আবার ঘেই , মিউ সবার প্রেমে কাবু ... কাজেই একজনকে দিয়ে সবার বিচার করি কেমনে তোমরাই বলো ???

***** তবে কথা হল গিয়ে আমার এক সহকর্মী বোন , আতঙ্কবাদী ম্যাও কে সেদিন তার দাদুটাইপ বিশালাকার ছাতা দেখিয়ে ভয় দেখানোর বৃথা চেষ্টার পর , হেলদোলহীন আতঙ্কবাদী যখন হেলে দুলে টয়লেটে ঢুকেছে ... দরজা এঁটে ল্যাচ লাগিয়ে কিছুটা হলেও শাস্তি দান করে আনন্দ পেয়েছে । ও এমনিতেই ম্যাও বিরোধী ও ঘেউদরদী ।

টীকাকরণ

 

টীকা " শব্দটা নতুন কিছুই নয় , কিন্তু হঠাৎই নতুন get-up এ আমাদের দরবারে হাজির।  নেবো কি নেবো না ... এই দ্বিধায় ধরাধামের জনতা বেশ ভাবিত । আসলে টীকা বলতেই ছোট্ট কালের কথা মনে পড়ে কি পড়ে না ... এমনটা বোধ হয়। তখন টীকা নিয়ে টিক টিক করার ব্যাপারটাই missing ছিল।  তখন আর কে ছোট্ট  সত্তার মতামত নিয়ে , তাকে  মানুষ বলে গণ্য করেছে !!! ধর তক্তা , মার পেরেক স্টাইলে কোলে কোলে টীকাকরণ কেন্দ্র বা শিশু বিশেষজ্ঞের দরবারে নিয়ে গিয়েই খেল খতম ।  কি নিষ্ঠুর !!! এরপরও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে ... চকোলেট,  লজেন্স নামক টোপ দিয়ে .... । অনেক আপত্তি জানিয়েও লাভের লাভ কিছুই হয়নি !!! কোনও বাঁধা দানই ধোপে টেকেনি ।
   কিন্তু পরিবর্তনের হাত ধরে এখন নানা বয়সে , নানা রকম টীকার প্রচলন হয়েছে নিজেকে আরো খানিক টিকিয়ে রাখতে ... আর এখন আমরা বেজায় বড় হয়েছি , তাই মতামতের মূল্য আর কেউ না দিক , নিজে তো দিতেই পারি !!!
    বাজারে এলো স্লীভহোল জামা , এর ডিজাইন দেখে আমার মনে হয়েছিল এ ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য একদম perfect । স্লীভহোল নামটা আমার দেওয়া , ওনিয়ে ভাবার কিছু নেই কো !!! আর তার পর সারা জগত জুড়ে কি হৈ চৈ , কি ভয়ানক পরিস্থিতি !! ভ্যাকসিনও হাজির , দুরকম ।
   কিন্তু নিলেই যে কেল্লা ফতে ... ওমন ভাবার কারণ কোথায় ?? ভালো preparation er পরও পরীক্ষা ভাল হয় না , ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফলাফল গুবলেটের নজির প্রচুর ... তাতে কি পড়াশোনার পাট উঠে গেছে জগত থেকে ? এও তাই ... জীবনে কোন কিছুই নিশ্চিত নয় যেখানে , সেখানে সামান্য টীকা যে এবারের বিপদের থেকে পুরোটাই রেহাই দেবে এমন ভাবাটা বাড়াবাড়ি নয় কি ???
এই কারণ জন্য অনেকেই ভাব সাগর সাঁতরে চলেছে তো চলেছেই ... যাবো কি যবো না , ভেবে ভেবে হায় রে ....
   আরো একটা কারণ আছে বটে 🤣🤫
ভাবো , ভাবো ... এই তো একদম ঠিক লাইনে ভেবেছো । ৪৫ বছরের age group টা খুলে দিয়েই কাল হয়েছে , ওটা যদি ৩০+ হতো দলে দলে মহিলা মহল হাজির হোতো ... কিন্তু  বয়সের ওই সংখ্যাতেই আটকে আছে অনেকে । চুপিচুপি বলি আমি আর আমার এক বান্ধবী প্রথম দফার টীকাতে টিক মেরে এসেছি ... টীকা দিতে গেলাম .... অনেক খোঁজাখুঁজির পর টীকা করণ  উপযুক্ত ( কিছুটা😒)পোষাক পাওয়া গেল । কেন্দ্রে গিয়ে দুকান জুড়িয়ে গেল বটে !!! মুখোশধারী মেডিক্যাল / প্যারা মেডিক্যাল অফিসার যখন বললেন ... " আপনাদের ৪৫ হয়েছে তো ??"
মুখে বিগলিত হাসি যদিও মাস্ক বন্দী , মনে মনে বললাম... কটা টীকা দেবেন , দিন কোনো আপত্তিই নেই , ভয় নেই,  যখন দেবেন , যেভাবে দেবেন ... সবেই রাজি ,আমি আজি ।"
বিশেষজ্ঞ(?) বলছে প্রথম ডোজ নিয়ে বিপদ আছে , ৬/৮ সপ্তাহের পরের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ৪৮ দিন পর তা কার্যকরী কিন্তু তাতেও বিপদ আছেই 🙄🤔 ।সোনার কেল্লার মন্দার বোসের মতন বলতে ইচ্ছে করছে .... লে হালুয়া !!! নাকি লে ভ্যাকসিন 😶
বাড়ি ফিরে whatsapp group এ বন্ধুদের এই ঐতিহাসিক টীকাদান জানাতেই ঝড় বয়ে গেল ... কয়েকজন বলেই ফেলল আমরা এখনও ছোট বটে !! তবে আমি কি কেলাসে ঠিক মতন উত্তীর্ণ হইনি ??? আতঙ্কিত হতে হতেই এক বান্ধবী হাল ধরল, আমিও হালে পানি পেয়ে নিশ্চিন্ত হলাম বটে ... বান্ধবীর এক কথা বয়স তো একটা সংখ্যা মোটে !!! এ নিয়ে কচকচি ?? মনটাকে সবুজ রাখ না বাপু ... এই না বলে আমার বন্ধুনী তার খানকতক সবুজ ও অবুঝ ছবি group এর আঙিনায় সাঁটিয়ে দিল ...
অতএব বন্ধুগণ ভাব সাগর পেরিয়ে তীরে উঠে পড়ো .... দলে দলে যোগ দিয়েই ফেলো !!!

Wednesday, 22 April 2026

গরম গরম খবর

 

প্রখর তপন তাপের ... কি গরম আর কি গরম হাঁসফাঁস উক্তি র সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে ভোট পূজোর পারদ চড়ছে। দুয়ে মিলে.... আগুন 🔥🔥 জ্বলে পুড়ে যাক .... সেই বসন্ত বিলাপ খ্যাত মান্না দে র গান খান মনের কানে👂🏼 ভেসে এলো । সেখানে ছিল ভরপুর হাস্যরস। কিন্তু এখানে .... হাসির বদলে ঘর্মাক্ত রস বলা যেতেই পারে। এই তো , মাস কতক আগে যারা গত শীতের দাপটে নাকি পাগল পারা হয়ে পড়েছিল, তারাও গরমের দাপটে হাত পা সেঁকতে গিয়ে ছ্যাঁকা খেয়ে ভয়ানক বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। গরম যে তাদের এমনতরো দাগা দেবে , তার তারা মোটেও ভাবেনি কো । আমার এক সহকর্মী কাম বান্ধবী ( শীতাতঙ্কে আক্রান্ত) বলেছিল .... গরমে দারুণ লাগে স্নান করতে। এটা আমার মনের মতন একখান কথা বটে। তবে এখন স্নানের বদলে জলে সারা দিন ডুবন্ত হয়ে থাকতে মন প্রাণ চাইছে । অনেক টা জলহস্তী র মতন feel good factor হবে। হাসবে না কিন্তু... কথার একটু এদিক ওদিকে বর্ণনা পুরো ঘেঁটে ঘন্ট হয়ে যায়। নারীর চলনকে কবি বলেছেন গজেন্দ্র গমন , কেমন !!!! এদিকে কোনো মহিলা কে হাতি বললে , তেড়ে আসতেই পারে ‌‌.... আমি নেহাৎ তেড়ে আসতে অক্ষম। দৌড়োদৌড়ি, খেলাধুলা ( sports ) তে গোবর গণেশ গোড়া থেকেই। তো কথা হচ্ছে , হস্তি,জল হস্তি যে ভাবে ই বর্ণনা দিয়ে থাকো স্থূলকায়া কে,বয়েই গেছে !!!  আপাতত গরমে জলহস্তী র ন্যায় আরামে থাকার উপায় খুঁজে চলেছি । গরমে হাল্কা, সহজ পাচ্য খাবার খাওয়া উচিত বটে , তবে উচিত অনুযায়ী চলা টা বড় কষ্টকর। তবে এই দারুণ অগ্নিবাণে নানান রকম শরবত খাওয়া যেতেই পারে ... মা করতেন , আমি ও মায়ের ধারায় ব‌ইতে থাকি কোন কোন  পছন্দের মিল যেখানে .... আম পোড়া সরবত, পাকা আমের রস আর দুধের মিলিত সরবত নাকি ম্যাঙ্গো মিল্ক সেক , তরমুজের রস ইত্যাদি প্রভৃতি। পাতি লেবুর অনবদ্য শরবত খেয়েছিলাম আমার আতঙ্ক থুড়ি অঙ্ক মাস্টার মশাই অরবিন্দ স্যারের বাড়িতে, পুপে কে নিয়ে দেখা করতে গিয়ে। আহা ‌!!!! গরমের দুপুরে প্রাণ মন জুড়িয়ে গিয়েছিল। বৌদি র মতন করে বোধহয় ওই শরবত বানিয়ে উঠতে পারিনি। আর দ‌ই এর ঘোল। গরমের এই শরবত, আইসক্রিম অবশ্যই USP ।
সারা দিনের শেষে গরমের দিনে মনে হয় সব কর্ম ক্ষমতা বুঝি ঘাম ঝরিয়ে ফুরিয়ে গেছে .... আবার তা ফেরত আসে জল ভরে (খেয়ে) ও নিজেকে জলের তলায় ধরে রেখে (স্নান ) । বিজ্ঞাপন ও ছায়াছবির মতন ওমন নৃত্য গীত মুখর না হলেও গুণ গুণ বাথরুম সঙ্গীত চলতেই পারে। তবে ওই সব বিজ্ঞাপনের খতরনাক প্রভাবে ছোট্ট কালে কলঘরে পুপে নৃত্য শিল্পী নাকি বার কতক আছাড় খেয়েছে চুপচাপ ফুলে ছাপ স্টাইলে। বোঝো !!! এখন শুনছি। জানি খুব জোরালো কিছু হয়নি, ভাগ্যিস !!! নাহলে চুপচাপ ফুলে ছাপের জারিজুরি খাটতো না।
গরমের হাল্কা খাবার দাবারের সাথে আরেকখান ভালো বিষয়ের খোঁজ দিতে ই পারি , যাকে অনেকেই ঘুমিয়ে থেকে জানতি পারো না .... ভোরের দিকের একখান নরম নরম আলোয় মাখা স্নিগ্ধ গ্রীষ্মের রূপ। একদম নবজাতকের গন্ধে ভরা, যে সময় চোখে ঘুমের কাজল আরো চেপে বসে আর আধো ঘুম জাগরণে একবার ঘড়ি তে আলতো নজর বুলিয়ে পাশ বদল করে আমরা তোমরা আবার পাশবালিশ টাকে চেপে আরেকটু ঘুমিয়ে নিতে যাই ( আমার জন্য  ওই উপায়  শুধুমাত্র শনি রবি তে বরাদ্দ) .....

আমার একান্ত অপছন্দের তালিকা ভুক্ত গরমের দিনের খান কতক ভালোত্ব সকাল সকাল খুঁজে দেখলাম ... কে যেন একদা আমাকে বলেছিল, সব কিছু র মধ্যে ই ভালো খারাপ মিলিয়ে জুলিয়ে থাকে ... একদম খাঁটি কথা । 

আজকের নবজাতকের গন্ধ মাখা ভোর , তার খোলশ ছেড়ে দৃপ্ত ভঙ্গিতে প্রকাশিত হচ্ছে, আমাদের সকলকে ঝালাপালা রাগিনী গাইয়ে নিতে । আমরাও আমাদের মতন করে তার মোকাবেলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আবার পরে কথা হবে , কেমন ???
@শুচিস্মিতাভদ্র

Saturday, 18 April 2026

আতঙ্ক পরীক্ষা

 আজ ছিল কন্যার তৃতীয়তম পরীক্ষার দিন । আতঙ্ক পরীক্ষার থুড়ি অঙ্ক পরীক্ষার দিন। সবার কথা বাপু জানি নে , আমার কাছে যেমন এ পরীক্ষা বিপদজনক ছিল ... history repeats itself না কি জানি একখান কথা আছে না ? কন্যার অভিধানেও অঙ্কের আসন আতঙ্কিত  শিরোনাম নিয়ে জ্বলজ্বল করছে । 

পরশু পরীক্ষার পর থেকে কাল বেলা দশ ঘটিকা অবধি অঙ্কের নাম মুখে আনিনি । বিজ্ঞানে যাতে অজ্ঞান না হয়ে সজ্ঞানে পরীক্ষা দিতে পারে আমার পুঁটি ... সে ব্যবস্থাপণায় মেতে ছিলাম।  পিতা জি এখন নিয়মিত পড়ুয়া আমি জোগাড়ের ভূমিকায় । সে খাবার বা জলখাবার ই হোক কি পড়ার ডিটেলস ক্লাস নোটসই হোক !!! 

গতকাল সকাল থেকেই পুপের পেট গুলু  গুলু। আতঙ্ক পরীক্ষার আগে আমারও ওমন হোতো । জানা সিলেভাস ... একদিকে ওষুধ আরেক দিকে অঙ্ক - বিজ্ঞানের মারকাটারি পরীক্ষা জুটির ঝুটি ধরে নিজের মধ্যে বাবা-মায়ের পড়া ভর্তি করার প্রবণতা।  

মেয়ের মেজাজ সপ্তম স্বর্গে সেদিন। রাতে খাওয়ার পর ঘরের বাতাবরণ হাল্কা করতে নব্বই দশকের গান চালানো হল ... " যারা তসবীর সে তু নিকলকে সামনে আ মেরে মেহবুবা " ... মেহবুবা মহিমা বেরবে বেরবে করছে ... হেনকালে ... কন্যার দেখা মিলল ... ঘরের খাট জুড়ে বিজ্ঞানের ডায়াগ্রাম অঙ্কনের অভ্যাস খাতা থেকে চোখ ঘুরছে মেহবুবার সন্ধানকারী মেহবুবের দিকে ... ভাল কথা ... তবে আলুথালু বাঁধন ছাড়া চুলের মধ্যে থেকে ছোট্ট মুখখান বেরিয়ে আছে ... চুলের জন্য আর পড়ার চাপে মুখখান আরো ছোট লাগছে .. বললাম তার বাবাকে ... " ওই দেখো  আব্দুল কালাম চশমা ছাড়া আঁকছে আর গান শুনছে। "  বাপ রে !!! কি ভয়ানক রেগে গেল রে বাবা !!! মেহবুবার ছবির বাইরে আসার  অপেক্ষা করা গেল না । সব ঝটপট বন্ধ করে সরে পড়লাম।

সন্ধ্যার সময় মেয়েকে দেখে মায়া হচ্ছিল ... বিছানায় চিতপটাং ... ছেড়ে দে বাবা ( বাবা পড়চ্ছিল কিনা !!!) কেঁদে বাঁচি... অবস্থান কন্যার।  আর বাবার ভাবখান ... ছাড়িলে না ছাড়ে , কি করিব তারে (বাবা)?  কিন্তুক পরের সময়ের মেজাজে মায়া আর মায়া  বাড়ায়নি। ভারি মাথা গরম করে দিয়েছিল ।

অবশেষে দিন হল অবসান। 

ভোরে উঠে জোরে জোরে ডেকে আবার খানিক ঝালাই হলো। একসময় দেখা গেল পালাই পালাই ভাব ... কার ? আবার কার ? উপাসনার। 

শিবরাম চক্কোতির একখান গল্পে পড়েছিলাম...রোগ হওয়ার আগেই সারাও  !!! ঘরে তার প্রয়োগ হতে চলেছিল আজ ... সাবধানী বাবা , কন্যার পেট ব্যথা শুরুর আগে সাবধানতা অবলম্বন করে ওষুধ প্রায় খাইয়েই ফেলেছিল ... আঁটক করলাম .... ব্যাথার ওষুধ আগাম খাওয়ার দলে আমি নেই।  সে মতন ওষুধ আর বাদবাকি সবসহ কন্যাকে স্কুলে জমা করে কর্তা গিন্নি বেরুলাম নানা রকম কাজে কর্মে । 

  সকাল থেকে কন্যার চিন্তার খানিক অবসান দেখেছি অন্য কারণে ... এক ঘরে সীট পড়া এক ফাইভের দাদার সম্বোধন নিয়ে সোনামণি প্যাঁচাল পাড়ছিল !!! তাকে দাদা বলেছে ... " এই হাঁদা সর না ? " 

শুনে যারপরনাই রাগাণ্বিত আমার হাঁদুসোনা। সেই একই রকম হাস্যমুখর বাবা-মা !!! তবে বাবা একখান দেওয়ার মতন বুদ্ধির অবতারণা করে দিল ... তাই তো উপাসনা এত্তো ভালবাসে বাবাকে !!! 

" পরীক্ষার শেষ দিন ওই দাদাকে গিয়ে বলিস ... পরীক্ষা কেমন দিলে ভোঁদা দা ? " 

আজকের পরীক্ষাও তার আপন ছন্দে শেষ হল ।

আপাতত হাঁদা-ভোঁদা দের পরীক্ষা শেষের দিকে নজর তাক করে আপামর পিতা -মাতা । আসছে সে আসছে .... সেদিন "A" sec এর দেবত্তম এর বাবা সন্দীপের সাথে দেখা মেয়েকে আনতে গিয়ে ... বললে ... " জানেন ? ছেলে বলেছে পরীক্ষার শেষদিন stress buster party হবে না বাবা ? " এমন block buster প্রস্তাব পেয়ে সন্দীপ বাকরহিত আর আমিও ট্যারা ( almost ন্যাড়া তো পরীক্ষার চিন্তা আর বয়সের ভারে হয়েই গেছি !!! 🤫 )  হয়ে তার অপেক্ষায় আছি ভাই !!! 

#exam3

পরীক্ষা মূলক

 পরীক্ষা নামক এক এক মাস ব্যাপী ব্যাপারে আমরা আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছি। আমি চেপে ধরতে পারি কম , তাতেও আমার মেয়ে তেঁতে থাকে । ভয় পেতে ওকে বয়ৈ গেছে। সকলকে ভয় পেতে পেতে ওকেও ভয় পাবো !!! তাই আবার হয় ?? ওই খান দুয়েক জায়গায় আমি রাগ রাগিনী দেখিয়ে থাকি, তাতে যদিও যাদের দেখাই তারা ফুৎকারে উড়িয়ে দেয় !!! তবে ইদানিং বয়সের হাত ধরে , তেনারা ও ফোঁসফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্বগতোক্তি করেন ... " আমি ওমন ???এই চিনলে " । কিন্তু সে সব খান কতক সময় পরেই দেখি জানালা গলে ফুড়ুৎ। আর যে কারণে মনোমালিন্য তা পুনর্মুষিক ভবঃ। 

বাংলা পরীক্ষার গদ্য পদ্য ব্যাকরণের ঠেলা দিয়ে আর ঠেলা খেয়ে , কিছু আগেও শুনলাম চরিত্রে র গুষ্টির ষষ্ঠি পূজো । এরপর আর ভালো লাগে বলো !!!! তার মধ্যে নাটক , যাত্রা, সিনেমা সব রকম চলছে ঘরে .... এই শুনি পেট গুড়গুড়, পরে মিছরির জল খেতে খেতে দিলেন তিনি হ্যাঁচ্চো !!! নাও ... এবার যাবে কনে ( কোন দিকে )? এর মাঝে আছে বন্ধু দের সাথে আলাপ আলোচনার ধূম। যেখানে ভুলেও কেউ পড়ার বিষয়টি খুঁজতে যেও না , নেহি মিলেগি। ওকে নাকি বলে refreshment 🙄

এত দীর্ঘ দিনের পরীক্ষার তাল লয় ধরে রাখা মুশকিল। চুপিসারে বলি আমার পেঁচি তো এই সবের মধ্যেই খান কতক চ্যাপ্টার পেঁচিয়ে ধরল , তারপর টিপে টুপে মাথায় ভরেছি ( তাই আমার ধারণা) ‌... আমরা দুই কর্তা গিন্নি যখন যেমন পারছি ভরছি  নতুন নতুন ( সব নয় মোটেও, তবে কিছু)। সলিডিফাই হয় নাই। যদি বেরিয়ে না পরে থাকে উগরে দেবে আশা রাখি। 

আমার কন্যা অসাধারণ রকম সাধারণ, তাই সে না পড়ে ঝুড়ি বোঝাই নম্বর সংগ্রহ করতে পারে না ... 😅😂 

তবে যা যা পারে ওর মতন করে , তা‌ হয়তো অনেকেই পারে না। ছোট থেকেই চেয়েছিলাম মানুষ করে গড়ে দিও প্রভু .... কিছু কিছু তার ঝলক দেখতে পাচ্ছি। আরও দেখতে পাই যেনো তোমরা আশীর্বাদ কোরো।

নারী দিবস

 

আগামী কাল নারী দিবস, কিন্তু আমাদের মায়েদের, পরীক্ষা দিবসের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে যাবতীয় বিশেষ বিশেষ দিন। তবে নারী দিবস পালন আর সত্যিই নারী কে সম্মান জানিয়ে মাথায় করে রাখা যে এক নয়, তা আর  নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। চিত্রাঙ্গদা যে সম মর্যাদা র কথা বলেছিলেন , তার প্রয়োগ কতটা কার্যকর সেটা বলা মুশকিল ....
প্রায় প্রায় এক মাস হতে চলল ... পরীক্ষা পরীক্ষা আর পরীক্ষা। এই দীর্ঘ সময়ের তাল লয় ধরে রাখা খুবই কষ্টকর।
প্রতি পরীক্ষার পরে প্রতিবারই শুনি ... ভালো হয়েছে।‌এখন ভাল পরীক্ষা দেওয়া পুপের হাতে , নম্বর দেওয়া .... হাতে । সব‌ ই মায়া।
এখন বাকি আর একখান । কিন্তু ..... সে হল গে আতঙ্ক থুড়ি অঙ্ক পরীক্ষা। অঙ্কে আমি ভয়ে ভয়ে পরীক্ষা দিতে দিতে মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছিলাম। এদিকে হাত ধুতে এখনও কিছু বছর বাকি। ততদিনে নিজেকে শ্রীমদ্ভাগবত গীতা র শ্রীকৃষ্ণের কথা মতন স্থিতপ্রজ্ঞ হয়ে যেতে হবেই হবে। কিন্তু যখন সমস্ত অঙ্ক ঠিক করে , দায়িত্ব নিয়ে শেষটায় সে নিজেই ঘেঁটে ফেলে , তখন স্থির থাকতে গেলে শরীরের নানান প্যারামিটার অস্থির হয়ে যায়। তবুও আমি খানিক খানিক থম মেরে থাকি।
জনা কতক শুভাকাঙ্ক্ষী কয়েছে ... " হঠাৎ দেখবে মিরাকল!!! ঝপাঝপ , টপাটপ অঙ্ক করে ফেলছে পুপে। আসলে ভালবাসছে না !!! " রামো!!!! আরে থামো !!! অঙ্ক কে ভালবাসা !!!! ভালবাসার লোকজন কি কম পড়িয়াছে ???? আপাতত no miracle ।পুপের পাপা মেয়েকে শেখাতে গিয়ে আবার জড়িয়ে পড়েছে ওই ভালবাসা তে 🙄 বলে কিনা অঙ্ক করতে কি যে ভালো লাগছে !!! পুপে তার দুঃখিত মুখে আরো দুঃখ ফুটিয়ে বলেছে .... " বাবা গিয়ে পরীক্ষা টা দিলে কত ভালো হতো, বলো দেখি !!!!" সত্যিই বটে ... 
রোজকার দোকান, বাজারে অঙ্ক লাগেই , তার জন্য ওমন ভয়ানক ভয়ানক অঙ্ক শেখার কি মানে ? আজ‌ও বুঝলাম না !!! আর ওই যে বাঁদর বাঁশে ওঠা নামা করল .... সেই অঙ্ক কষতে গিয়ে নিজেকে একখান গাধা ই মনে হয়েছিল। আর ট্রেন আর প্ল্যাটফর্ম এর মাপামাপি র বদলে ট্রেনে‌ চেপে ঘুরতে নিয়ে গেলে কত বাস্তব বাদী শিক্ষা হোতো বলো দেখি !!! শিক্ষা মূলক ভ্রমণ তো শুনেই থাকি ....
আমার পুপের স্কুলতুতো বান্ধবীগণ  ( পুপের বন্ধুদের মা )নানান রকম অঙ্ক মালা পাঠিয়ে পড়িয়ে ভালবাসা উজাড় করে দিয়েছে তাদের আদরের উপাসনার জন্য। বাকি টা কপালের নাম গোপালের ওপরে ... দিয়ে। আমি আপাতত cool .....

পরীক্ষা অন্তে ইচ্ছেপূরণ

 দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষা অবশেষে শেষ। এখন হঠাৎ করেই ফাঁকা বেশ খানিকটা সময় .... যার মাঝের সময়টা জুড়ে কি করি কি করি ভাব !!! অনেক অনেক কিছু করার ভাবনা যা নাকি পড়ার ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে ভরাট হচ্ছিল সময় , তারা সব জড়াজড়ি করে ভয়ানক জট পাকিয়ে গেছে 😝 জট ছাড়াতে হবে। 

এতদিন পড়ার মাঝে পড়ে থাকার অভ্যাস পুপের একদম নেই কো। তাই তার করুণ মুখ চোখের দিকে তাকিয়ে মন নরম হতে না হতেই, তার মেজাজে র আঁচে আমার মন মেজাজে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছিল। দেবাশ্রিতা , পুপের বন্ধুর মাতা শ্রী বললে হক কথা ... দীর্ঘ পরীক্ষার ফলাফলে মাতা-কন্যার সম্পর্ক তলানিতে। এ ঘর ঘর কি কাহানি। আমার কন্যা সিলেবাস সমুদ্রে খাবি খেতে খেতে মাথার খান কতক স্ক্রু হারিয়ে ফেলে এই গরমে গরম গরম জামা মায় ব্লাঙ্কেট গায়ে ঘুমাচ্ছিল। তলিয়ে ভাবলে বোঝা যাবে বটে ... পড়ালেখার সাগর সদৃশ সিলেবাস চাক্ষুষ করে মানসিক কাঁপুনি ধরে গিয়েছিলো নির্ঘাত । শরীর তা বুঝতে নারাজ, অত‌এব ব্ল্যাঙ্কেট ফুঁড়ে হাজির একখান ফোঁড়া 🙄। এরপর অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হলো। Self created উৎপাত বলেছিলাম বলে পোতিবাদী( প্রতিবাদী)হয়ে শুরু তে ওষুধ খাবেন না কয়েছিল.... কিন্তু এক ধমকে , চমকে দিয়েছি !!! এক শুক্রবার খানিক যুদ্ধ করে সেই ব্ল্যাঙ্কেটখান নুকিয়ে ফেলেছি। 

দিন কতক আগে কন্যা আমার, সেলোটেপ দিয়ে গালে তুলে আটকে কেমন দেখায় দেখছিল , ভাব দেখাচ্ছিল ভয়ানক কিছু গালে ঘটিতং ... কিন্তু আমার গাল থুড়ি মুখের অভিব্যক্তি দেখে তৎক্ষণাৎ সেলোটেপ বিসর্জন দিয়ে বলেছে ... " চন্দ্রিমা আন্টি হলে কত চিন্তা করত , আর তুমি  !!!!! বিশ্বাস ই করলে না । " 

ফোঁড়া হল এবং গালের নিচে থুতনি আলো করে থুড়ি আলু করে হল ... ফোঁড়া নামক ইচ্ছেপূরণ হলো।

এবার পরীক্ষা অন্তে কি কি ইচ্ছে পূরণ করা যায় দেখা যাক ....