আমরা বড়ই অদ্ভুত জীব । গরমে বৃষ্টি চাই , বৃষ্টিতে রোদ চাই , রোদে শীত চাই , শীতে আবার বসন্ত চাই 😃😄🙃 চাই এর লিস্টি টা অনন্ত । দর্শনে আমরা অভাব নামক বৈশেষিক সম্মত এক পদার্থ সম্পর্কে পড়েছি । অভাবের শ্রেনীবিভাগে এক রকম অভাবের কথা পড়েছিলাম .... যার আদি আছে অন্ত নেই । ঠিক যেন আমাদের চাহিদা যার আদি থাকলেও অন্ত নেই।
কাল রাত থেকেই গুরুদেবের একখান গান মনে মনে গুণ গুণ করাই যেতো ... নানান কারণে তা হয়ে ওঠেনি , সে ভিন্ন গল্প!!! গান খান হল .... আজি বরিষণ মুখরিত শ্রাবণ রাতি .... whatsapp এর আঙিনায় রাতেই চিন্তা ব্যাকুল আকুল মাতৃকূল ... কাল স্কুলে যাবে কেমনে ?? আমি আপাতত cool এ সবে । সোজা হিসেব ... বেশি হলে যাবে না , কম হলে যাবে । জল সাঁতরে গিয়ে আমার জন বিদ্যা বোঝাই না করে খান কতক ডাকসাইটে ভাইরাস বোঝাই হয়ে ফিরবে , তা ডিস্ট্রিবিউট করবে ... রক্ষা করো মা !!!
তবে সকালে দেখলাম আবহাওয়ার গতিক খুব খারাপ নয় ... সে আজ আমার মতের উল্টো দিকে হাঁটার উল্লাসে আগে ভাগে ই উঠে প্রস্তুত। 😁
আজ ভোরে অল্প অল্প বৃষ্টির মধ্যেই ঘুম ভাঙার পর যখন আমাদের আবাসনের নিচে জল জমেছে দেখলাম ... মনটা নেচে উঠল । শীত আমার প্রিয় বন্ধু হলেও , বর্ষার সাথেও আমার ভাললাগা জড়িয়ে , যা জেনেছিলাম আমার এক দেওরের বর্ষা ব্যাখ্যার আলোকে । সে বলেছিল ... জল কাদা , জল জমার দায় কি বৌদি বর্ষার ??? সে দায় তো আমাদের । ঠিক কথা !!!
বর্ষার মতন রোমান্টিক আবহাওয়া আর কি আছে ??? আমার সহকর্মী এক দাদাও বলেছিলেন ... রবীন্দ্রনাথ সব চেয়ে বেশি গান লিখেছেন বর্ষা নিয়ে , কেন জানিস ? বর্ষা ওনার প্রিয় ঋতু ছিল । আর বর্ষার শান্তিনিকেতন অন্য রূপে রূপসী। একবার ওমন ঘনঘোর বর্ষা মাথায় করে শান্তি নিকেতনের সোনাঝুরি গাছের জঙ্গল আর কোপাই ( আমাদের ছোট নদী কিনা কে জানে ?)দেখে দাদার ( ভাসুর ঠাকুর ) ঠিক করে দেওয়া এক হলিডে হোমে ফিরে এসেছিলাম।
আমাদের কলেজের আরেক দাদা একবার বলেছিলেন ... বর্ষার সময় যদি পাহাড়ে বেড়াতে যান , এত সবুজ সতেজ প্রকৃতি দেখবেন , ধুলো মালিন্য ধুয়ে মুছে বর্ষা প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে এই সময় ।
বর্ষার সময় সাধারণত পাহাড়ে যাওয়ার চল নেই । তবে যদি নীরব বিশ্রাম কাম্য হয় , যাওয়া যেতেই পারে । বাইরে বৃষ্টি , পাহাড়ি আশ্রয়ে ধুমায়িত চা , গল্পের বই/ গান এর জুড়ি মেলা ভার । দলে গেলেও মজা । তবে যদি সমমনস্ক দল হয় তারও আড্ডার মজা পৃথক ।
আজ সকালে যখন মেয়েকে নিয়ে স্কুলের পথে তখন মন জুড়ে ছোটবেলার rainy day এর নস্টালজিয়া । ওই দিনে জল ভেঙে ছপ ছপ করে স্কুলে পৌঁছনোর পর যখন ছুটির ঘন্টা বাজত , তখন আবার জল পেরিয়ে বাড়ি ফিরতে খুব মজা লাগত। আরো ছোটকালে যখন স্কুল বাসে যেতাম ... জল কেটে সাদা ফেনার মাঝে বাসের দুলকি চালের গতি আলাদা আনন্দে মন খুশি করে দিত । নিজে যখন পাবলিক বাসে যাওয়ার সুযোগ ঘটল ... স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে এক কদম এগিয়ে গেলাম ... তখন মজা লাগলেও ওমন জমা জলের ময়লা নিয়ে মন খানিক বিকল হলেও ... একটু পরেই সে আপদের চিন্তা ... জলে সকলে একসাথে পা মেলানোর আনন্দে ভুস করে ওই জলের তলায় ডুব দিত । তখন অল্প অল্প করে নানা রকম আলো বাতাস টের পাচ্ছি সকলেই ... যাকে কবির ভাষায় বলা যায় অকারণ পুলক । আমাদের অবশ্যি তখন অকারণ পুলক মনে হোতো না ... ন্যায্য রকম কারণ পুলকে কল কল করতে করতে আর জল ছপাছপ করে জুতো মোজা ভিজিয়ে ঘরে ফিরে পুলকিত মনকে আবার চাবি বন্ধ করে ফেলতাম ....
No comments:
Post a Comment