আজ ছিল কন্যার তৃতীয়তম পরীক্ষার দিন । আতঙ্ক পরীক্ষার থুড়ি অঙ্ক পরীক্ষার দিন। সবার কথা বাপু জানি নে , আমার কাছে যেমন এ পরীক্ষা বিপদজনক ছিল ... history repeats itself না কি জানি একখান কথা আছে না ? কন্যার অভিধানেও অঙ্কের আসন আতঙ্কিত শিরোনাম নিয়ে জ্বলজ্বল করছে ।
পরশু পরীক্ষার পর থেকে কাল বেলা দশ ঘটিকা অবধি অঙ্কের নাম মুখে আনিনি । বিজ্ঞানে যাতে অজ্ঞান না হয়ে সজ্ঞানে পরীক্ষা দিতে পারে আমার পুঁটি ... সে ব্যবস্থাপণায় মেতে ছিলাম। পিতা জি এখন নিয়মিত পড়ুয়া আমি জোগাড়ের ভূমিকায় । সে খাবার বা জলখাবার ই হোক কি পড়ার ডিটেলস ক্লাস নোটসই হোক !!!
গতকাল সকাল থেকেই পুপের পেট গুলু গুলু। আতঙ্ক পরীক্ষার আগে আমারও ওমন হোতো । জানা সিলেভাস ... একদিকে ওষুধ আরেক দিকে অঙ্ক - বিজ্ঞানের মারকাটারি পরীক্ষা জুটির ঝুটি ধরে নিজের মধ্যে বাবা-মায়ের পড়া ভর্তি করার প্রবণতা।
মেয়ের মেজাজ সপ্তম স্বর্গে সেদিন। রাতে খাওয়ার পর ঘরের বাতাবরণ হাল্কা করতে নব্বই দশকের গান চালানো হল ... " যারা তসবীর সে তু নিকলকে সামনে আ মেরে মেহবুবা " ... মেহবুবা মহিমা বেরবে বেরবে করছে ... হেনকালে ... কন্যার দেখা মিলল ... ঘরের খাট জুড়ে বিজ্ঞানের ডায়াগ্রাম অঙ্কনের অভ্যাস খাতা থেকে চোখ ঘুরছে মেহবুবার সন্ধানকারী মেহবুবের দিকে ... ভাল কথা ... তবে আলুথালু বাঁধন ছাড়া চুলের মধ্যে থেকে ছোট্ট মুখখান বেরিয়ে আছে ... চুলের জন্য আর পড়ার চাপে মুখখান আরো ছোট লাগছে .. বললাম তার বাবাকে ... " ওই দেখো আব্দুল কালাম চশমা ছাড়া আঁকছে আর গান শুনছে। " বাপ রে !!! কি ভয়ানক রেগে গেল রে বাবা !!! মেহবুবার ছবির বাইরে আসার অপেক্ষা করা গেল না । সব ঝটপট বন্ধ করে সরে পড়লাম।
সন্ধ্যার সময় মেয়েকে দেখে মায়া হচ্ছিল ... বিছানায় চিতপটাং ... ছেড়ে দে বাবা ( বাবা পড়চ্ছিল কিনা !!!) কেঁদে বাঁচি... অবস্থান কন্যার। আর বাবার ভাবখান ... ছাড়িলে না ছাড়ে , কি করিব তারে (বাবা)? কিন্তুক পরের সময়ের মেজাজে মায়া আর মায়া বাড়ায়নি। ভারি মাথা গরম করে দিয়েছিল ।
অবশেষে দিন হল অবসান।
ভোরে উঠে জোরে জোরে ডেকে আবার খানিক ঝালাই হলো। একসময় দেখা গেল পালাই পালাই ভাব ... কার ? আবার কার ? উপাসনার।
শিবরাম চক্কোতির একখান গল্পে পড়েছিলাম...রোগ হওয়ার আগেই সারাও !!! ঘরে তার প্রয়োগ হতে চলেছিল আজ ... সাবধানী বাবা , কন্যার পেট ব্যথা শুরুর আগে সাবধানতা অবলম্বন করে ওষুধ প্রায় খাইয়েই ফেলেছিল ... আঁটক করলাম .... ব্যাথার ওষুধ আগাম খাওয়ার দলে আমি নেই। সে মতন ওষুধ আর বাদবাকি সবসহ কন্যাকে স্কুলে জমা করে কর্তা গিন্নি বেরুলাম নানা রকম কাজে কর্মে ।
সকাল থেকে কন্যার চিন্তার খানিক অবসান দেখেছি অন্য কারণে ... এক ঘরে সীট পড়া এক ফাইভের দাদার সম্বোধন নিয়ে সোনামণি প্যাঁচাল পাড়ছিল !!! তাকে দাদা বলেছে ... " এই হাঁদা সর না ? "
শুনে যারপরনাই রাগাণ্বিত আমার হাঁদুসোনা। সেই একই রকম হাস্যমুখর বাবা-মা !!! তবে বাবা একখান দেওয়ার মতন বুদ্ধির অবতারণা করে দিল ... তাই তো উপাসনা এত্তো ভালবাসে বাবাকে !!!
" পরীক্ষার শেষ দিন ওই দাদাকে গিয়ে বলিস ... পরীক্ষা কেমন দিলে ভোঁদা দা ? "
আজকের পরীক্ষাও তার আপন ছন্দে শেষ হল ।
আপাতত হাঁদা-ভোঁদা দের পরীক্ষা শেষের দিকে নজর তাক করে আপামর পিতা -মাতা । আসছে সে আসছে .... সেদিন "A" sec এর দেবত্তম এর বাবা সন্দীপের সাথে দেখা মেয়েকে আনতে গিয়ে ... বললে ... " জানেন ? ছেলে বলেছে পরীক্ষার শেষদিন stress buster party হবে না বাবা ? " এমন block buster প্রস্তাব পেয়ে সন্দীপ বাকরহিত আর আমিও ট্যারা ( almost ন্যাড়া তো পরীক্ষার চিন্তা আর বয়সের ভারে হয়েই গেছি !!! 🤫 ) হয়ে তার অপেক্ষায় আছি ভাই !!!
#exam3
No comments:
Post a Comment