আগামী কাল নারী দিবস, কিন্তু আমাদের মায়েদের, পরীক্ষা দিবসের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে যাবতীয় বিশেষ বিশেষ দিন। তবে নারী দিবস পালন আর সত্যিই নারী কে সম্মান জানিয়ে মাথায় করে রাখা যে এক নয়, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। চিত্রাঙ্গদা যে সম মর্যাদা র কথা বলেছিলেন , তার প্রয়োগ কতটা কার্যকর সেটা বলা মুশকিল ....
প্রায় প্রায় এক মাস হতে চলল ... পরীক্ষা পরীক্ষা আর পরীক্ষা। এই দীর্ঘ সময়ের তাল লয় ধরে রাখা খুবই কষ্টকর।
প্রতি পরীক্ষার পরে প্রতিবারই শুনি ... ভালো হয়েছে।এখন ভাল পরীক্ষা দেওয়া পুপের হাতে , নম্বর দেওয়া .... হাতে । সব ই মায়া।
এখন বাকি আর একখান । কিন্তু ..... সে হল গে আতঙ্ক থুড়ি অঙ্ক পরীক্ষা। অঙ্কে আমি ভয়ে ভয়ে পরীক্ষা দিতে দিতে মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছিলাম। এদিকে হাত ধুতে এখনও কিছু বছর বাকি। ততদিনে নিজেকে শ্রীমদ্ভাগবত গীতা র শ্রীকৃষ্ণের কথা মতন স্থিতপ্রজ্ঞ হয়ে যেতে হবেই হবে। কিন্তু যখন সমস্ত অঙ্ক ঠিক করে , দায়িত্ব নিয়ে শেষটায় সে নিজেই ঘেঁটে ফেলে , তখন স্থির থাকতে গেলে শরীরের নানান প্যারামিটার অস্থির হয়ে যায়। তবুও আমি খানিক খানিক থম মেরে থাকি।
জনা কতক শুভাকাঙ্ক্ষী কয়েছে ... " হঠাৎ দেখবে মিরাকল!!! ঝপাঝপ , টপাটপ অঙ্ক করে ফেলছে পুপে। আসলে ভালবাসছে না !!! " রামো!!!! আরে থামো !!! অঙ্ক কে ভালবাসা !!!! ভালবাসার লোকজন কি কম পড়িয়াছে ???? আপাতত no miracle ।পুপের পাপা মেয়েকে শেখাতে গিয়ে আবার জড়িয়ে পড়েছে ওই ভালবাসা তে 🙄 বলে কিনা অঙ্ক করতে কি যে ভালো লাগছে !!! পুপে তার দুঃখিত মুখে আরো দুঃখ ফুটিয়ে বলেছে .... " বাবা গিয়ে পরীক্ষা টা দিলে কত ভালো হতো, বলো দেখি !!!!" সত্যিই বটে ...
রোজকার দোকান, বাজারে অঙ্ক লাগেই , তার জন্য ওমন ভয়ানক ভয়ানক অঙ্ক শেখার কি মানে ? আজও বুঝলাম না !!! আর ওই যে বাঁদর বাঁশে ওঠা নামা করল .... সেই অঙ্ক কষতে গিয়ে নিজেকে একখান গাধা ই মনে হয়েছিল। আর ট্রেন আর প্ল্যাটফর্ম এর মাপামাপি র বদলে ট্রেনে চেপে ঘুরতে নিয়ে গেলে কত বাস্তব বাদী শিক্ষা হোতো বলো দেখি !!! শিক্ষা মূলক ভ্রমণ তো শুনেই থাকি ....
আমার পুপের স্কুলতুতো বান্ধবীগণ ( পুপের বন্ধুদের মা )নানান রকম অঙ্ক মালা পাঠিয়ে পড়িয়ে ভালবাসা উজাড় করে দিয়েছে তাদের আদরের উপাসনার জন্য। বাকি টা কপালের নাম গোপালের ওপরে ... দিয়ে। আমি আপাতত cool .....
No comments:
Post a Comment