Saturday, 25 April 2026

টিকটিকির টিকি

 

ছোট্ট বেলার ছড়া বড় বেলায় এসে যখন মরমে পশে , তখন সে একখান ঘটনার ঘনঘটা বলাই যায় । আমার প্রিয় কবি সেই আবোলতাবোল খ্যাত সুকুমার রায় মহাশয় । ওই আবোলতাবোল যে মজ্জাগত হয়ে গেছে তা বেশ বুঝেছি। কারণ ঘটনাবহুল জীবনে নানা ভাবে দেখি ওই ছড়া গুলোর ছড়াছড়ি।  কানের যাতনা র সময় মনে পড়েছিল কান করে কটকট, ফোঁড়া করে টনটন .... ইত্যাদি প্রভৃতি।

এবারের ঘটনার নিবেদন :

ঘরে বোঝাই নানান পোকা মাকড়। নতুন কিছু নয় ... নতুন হল আমাদের ধৈর্য সহ্য আর সব ঝেটিয়ে দূর করার প্রবণতার কমতি । সাথে অবশ্যই আমাদের ছুটন্ত মোড দায়ী কিছুটা ।
এত বছর পোকা নিধন যজ্ঞ চলত তার গতিতে ম্যানুয়াল মোডে ... ক্ষতি নাই । কিছু বছর পেস্ট কনট্রোল দ্বারা সব কন্ট্রোল হচ্ছে দিব্বি। বাসন কোষণ  স্থানান্তরিত হতো শুরুতে । সব শেষ হলে জামা ছাড়া সবেতেই গন্ধ থাকত, তারপর গন্ধ তো নয় মন্দ হোতো । গন্ধ gone হোতো আপন নিয়মে। গন্ধের ছটফটানি চটপট থেমেও যেতো ।ইদানিং ব্যবস্থাপণা আরো আধুনিক।  তাই আগের মতন সব বাসন সরাতে হয় না .... সুবিধাই সুবিধা।
এ বছরের লিস্টিতে ঘর থেকে দূর করার জন্য স্হান পেল টিকটিকি মশাই। আমাদের অলক্ষ্যে কখনও বা লক্ষ্যে ঘরের মেঝেতে ছুটন্ত মোডে দেখতে পাই। ছাদ আর দেওয়াল ছেড়ে ভিন্ন রাজ্যে ভিড়তেই আমার পরিবারের সিনিয়র আর জুনিয়র রেগে কাই ... আমি হেলদোলহীন...ও ঘুরছে ঘুরুক ভেবে আমি শান্ত ছিলাম চুপচাপ। এরা দেখতে পেয়ে হৈচৈ করে একশা ... টিকটিকি যাতে ঘরে টিকতে না পারে তার পাকাপোক্ত ব্যবস্থাপণায় এবার আমাদের সবার ঘরে টেকা দায় হয়েছে 🙄
যে গন্ধ ঘরে যুক্ত করা হয়েছে তাতে তেনারা( টিকটিকি) এখনও ঘরেই টিকে আছেন বটে , তবে সে গন্ধে আমরা পাগল হলাম অন্য ভাবে । টিকটিকির পেছনে লাগা ঠিক নয় । এই কারণেই টিকটিকি কারোর পিছে লাগলে তার জেবন (জীবন) মিছে হয়ে যায় । গোয়েন্দাদের কেন টিকটিকি বলে নিজ্যস বুঝতে পারছি।
সে গন্ধ ঘরে নাই বটে তবে সর্বত্র একখান তিতকুটে স্বাদ নিয়ে ঘুরছি ... রাধন বাড়নেও প্রভাব আছে ফলে কালকে কষিয়ে রাঁধা মাটন এর খ্যাটন জমে নাই ... ভোগে গেছে .... ব্যায় বহুল মাটনের শোকে আমরা পাথর হয়ে গেছি ... কর্তামশাই কে বলেছি....খবরদার টিকটিকির পিছে লাগতে যাবে না 😬😬😬😬😬

(পেস্টকন্ট্রোলকারী নিদান দিয়েছেন ... সে মতন আমরা পথ  চলছি ... পূজো দেবো শিগগির।  কাকে ???? বলতে হবে ??? )
বিঃদ্র : টিকটিকায়ঃ নমঃ 🦎🦎

No comments:

Post a Comment